1. admin@krishisangbad.com : admin :
  2. siddique149096@bsdi-bd.org : md abu bakar siddique rasim : md abu bakar siddique rasim
২০০ ফিড মিল বন্ধ হচ্ছে, হালাল প্রাণিজ পণ্য রপ্তানিতে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার - কৃষি সংবাদ
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:২৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
২০০ ফিড মিল বন্ধ হচ্ছে, হালাল প্রাণিজ পণ্য রপ্তানিতে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার ১২ হাজার কলা ধ্বংস, সাড়ে ৭ লাখ টাকা জরিমানা ৫২৯ কারখানা বন্ধ, কাজে যোগ দেননি প্রায় ১০ লাখ শ্রমিক সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী এক পাঙ্গাস বিক্রি ৯ হাজার ১০০ টাকায় চার হাজার টাকায় বিকাচ্ছে আমের খোসার তৈরি চা প্লাস্টিক বর্জ্যে মিলবে চিড়িয়াখানায় প্রবেশের সুযোগ মধ্যরাত থেকে ৮ মাস জাটকা আহরণে নিষেধাজ্ঞা নভেম্বর থেকে প্যাকেটজাত মসলা ও চা বিক্রি করবে টিসিবি গামা ইরেডিয়েশনের মাধ্যমে দেশের কৃষিপণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে আরো প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে: কৃষিমন্ত্রী

২০০ ফিড মিল বন্ধ হচ্ছে, হালাল প্রাণিজ পণ্য রপ্তানিতে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার

  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬
  • ১২ বার পঠিত

সুমন ইসলাম :

রপ্তানিমুখী বাংলাদেশ গড়ে তোলা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। রপ্তানির মাইলফলক স্পর্শ করতে প্রাণিসম্পদ খাত ধীরে ধীরে একটি শক্তিশালী রপ্তানিমুখী খাতে পরিণত হচ্ছে। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে, প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণ, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দারিদ্র্য বিমোচনে এবং অর্থনীতি চাঙ্গা করতে প্রাণিসম্পদ খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
আভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পাশপাশি দুধ, মাংস ও ডিম উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রাণিজ পণ্যের রপ্তানি বাড়ছে। ২০২৬ সালের মার্চ থেকে আগস্ট- এই ছয় মাসে প্রাণিজ পণ্য রপ্তানি করে আয় হয়েছে ১ কোটি ৪ লাখ ৬৩ হাজার ৭২৭ ডলার। আগের ছয় মাসের তুলনায় এই আয় বেড়েছে ২১৭ দশমিক ২০ শতাংশ। এর মধ্যে শুধু আগস্ট মাসেই রপ্তানি আয় হয়েছে ৪৮ লাখ ৮২ হাজার ৯৫ ডলার, যা আগের ছয় মাসের সম্মিলিত আয়ের চেয়েও বেশি।

প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন ধরনের প্রাণিজ পণ্য; যেমন মাংস ও মাংসজাত পণ্য, বুল স্টিক, দধি, রসমালাই, মিষ্টি (দুগ্ধজাত পণ্য), হাঁসের পালক, জিলেটিন, গরুর লেজের লোম, কবুতর, ওম্যাজাম, মোগলাই পরোটা (ডিমজাত পণ্য), মহিষ/গরুর শিং, টুকরা চামড়া ও ভেটেরিনারি মেডিসিন সাপ্লিমেন্ট পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয়; আমদানিকারক দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে মালদ্বীপ, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর, নাইজেরিয়া, ভিয়েতনাম, চীন, ইন্দোনেশিয়া, ইতালি, মালয়েশিয়া, মিসর, কুয়েত, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, ফ্রান্স, দক্ষিণ কোরিয়া, হংকং এবং নেপালে রপ্তানি করা হচ্ছে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছয় মাসে প্রাণিজ পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছিল ৩২ লাখ ৯৮ হাজার ৬৬২ ডলার। পরবর্তী ছয় মাসে আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৪ লাখ ৬৩ হাজার ৭২৭ ডলারে। অর্থাৎ ছয় মাসের ব্যবধানে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৭১ লাখ ৬৫ হাজার ৬৫ ডলার। মাসভিত্তিক হিসাবেও রপ্তানি আয়ের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। ২০২৬ সালের মার্চে আয় হয়েছিল ৬ লাখ ৭৮ হাজার ১২৯ ডলার। এপ্রিলে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১০ লাখ ৪৮ হাজার ৯০৩ ডলারে। মে মাসে আয় কিছুটা কমে ৭ লাখ ৫০ হাজার ৮০৮ ডলার হলেও জুনে তা বেড়ে হয় ১১ লাখ ৯৮ হাজার ৭৭৮ ডলার। জুলাইয়ে আয় হয় ১৯ লাখ ৫ হাজার ১৪ ডলার। আগস্টে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৮ লাখ ৮২ হাজার ৯৫ ডলারে।

রপ্তানি আয়ের এই প্রবৃদ্ধি পরবর্তী অর্থবছরের প্রথম তিন মাসেও অব্যাহত রয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রাণিজ পণ্য রপ্তানি করে আয় হয়েছে ১ কোটি ৫৪ লাখ ৪৭ হাজার ১৭০ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১৯৩ কোটি ৮ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। এর মধ্যে সেপ্টেম্বরে এক মাসেই আয় হয়েছে ৮৬ লাখ ৫৯ হাজার ৮৬১ ডলার।

সূত্র জানায়, রপ্তানির পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদনেও অগ্রগতি হয়েছে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী এ সময়ে দেশে দুধ উৎপাদিত হয়েছে ১৫৭ দশমিক ৫৩ লাখ টন। আগের অর্থবছরে উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১৫৫ দশমিক ৩৮ লাখ টন। এক বছরে উৎপাদন বেড়েছে ২ দশমিক ১৫ লাখ টন। দুগ্ধ উৎপাদন বাড়াতে গবাদিপশুর জাত উন্নয়ন, উন্নত পশুখাদ্য সরবরাহ, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও খামার ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে প্রায় ৪ হাজার ২৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, বাজারসংযোগ, প্রাণী বীমা ও দুধের ভোক্তা তৈরিতে কাজ করা হয়েছে। স্কুল ফিডিং কার্যক্রমের মাধ্যমেও শিশুদের মধ্যে দুধ পানের অভ্যাস গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও মাংস উৎপাদনেও প্রবৃদ্ধি রয়েছে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে মাংস উৎপাদিত হয়েছিল ৮৯ দশমিক ৫৪ লাখ টন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে হয়েছে ৯০ দশমিক ৭০ লাখ টন। একই সময়ে দেশে গরুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫৩ দশমিক ২৯ লাখ এবং ছাগলের সংখ্যা ২৭৪ দশমিক ৬৫ লাখে। পোল্ট্রি খাতেও উৎপাদন বেড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে ডিম উৎপাদিত হয়েছে ২ হাজার ৫০৯ কোটি ৪১ লাখ। আগের অর্থবছরে উৎপাদন হয়েছিল ২ হাজার ৪৪০ কোটি ৬৫ লাখ। অর্থাৎ এক বছরে ডিম উৎপাদন বেড়েছে ৬৮ কোটি ৭৬ লাখ।

অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী দেশের মোট পরিবারের ৪৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ কোনো না কোনোভাবে প্রাণিসম্পদ ও পোল্ট্রি পালনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এর মধ্যে ১১ দশমিক ১৫ শতাংশ পরিবার শুধু প্রাণিসম্পদ পালন এবং ২৩ দশমিক ৫২ শতাংশ পরিবার শুধু পোল্ট্রি পালনের সঙ্গে যুক্ত। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রাণিসম্পদ খাতের অবদান ১ দশমিক ৮১ শতাংশ। মোট কৃষিজ জিডিপিতে এ খাতের অংশ ১৬ দশমিক ৫৬ শতাংশ। এ সময়ে খাতটির জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৩ দশমিক ৩০ শতাংশ।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গত অর্থবছরে প্রায় ৯৪৩ মিলিয়ন ডলারের হালাল পণ্য রপ্তানি করেছে। অর্থাৎ বর্তমান বিনিময় হার ধরে প্রায় ১১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। বিশ্বে হালাল বাজারের তুলনায় বাংলাদেশের রপ্তানি এখনো ১ বিলিয়ন ডলারের নিচে। সেখানে বাংলাদেশি হালাল রপ্তানি প্রায় ৮৫০ মিলিয়ন ডলার। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, ওমান ও বাহরাইন বড় বাজার। এসব দেশে খাদ্য, মাংস, হিমায়িত খাবার, মসলা, বেকারি পণ্য ও ভোগ্যপণ্যের চাহিদা রয়েছে। দ্বিতীয় বড় সুযোগ মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া।
২০২৪ সালের বৈশ্বিক বাজারে হালাল পণ্যের মধ্যে খাদ্য- ১.৫৩ ট্রিলিয়ন ডলার। বিশ্বের হালাল শিল্প নিয়ে ২০২৫ সালে প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে, হালাল শিল্পের বড় চ্যালেঞ্জ হলো মান নিশ্চিত করা, সনদ দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক মানের মধ্যে সমন্বয় করা। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে একই সমস্যা দেখা যাচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. দীন ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশের উৎপাদকদের অনেক সময় বাজার গবেষণা ও বিপণনের ঘাটতি থাকে। তার মতে, পণ্য থাকলেও কোন বাজারে কী চাহিদা রয়েছে, তা বুঝতে হবে। ব্র্যান্ডিং ও প্যাকেজিং উন্নত করতে হবে। বাণিজ্য ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ও দরকার। এটি হালাল অর্থনীতির ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু হালাল সনদ নিলেই বিদেশে বাজার তৈরি হবে না। পণ্যের মান, প্যাকেজিং, দাম, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং ব্র্যান্ডিং ঠিক করতে হবে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান বলেন, বিশ্বে এখন হালাল অর্থনীতির ধারা চলছে। আমরাও একই ধারা অনুস্বরণের চেষ্টা করছি। এই লক্ষ্যে প্রাণিসম্পদের এন্টিবায়োটিকের ব্যবহার শূণ্যের কোঠায় নামিয়ে আনা, প্রাণীজ খাদ্য পণ্য উৎপাদনের জন্য বিভিন্ন ফিড মিলগুলোতে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত ২০০টি ফিল মিল বন্ধের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেওয়া হয়েছে নোটিশও।

তিনি আরো বলেন, রপ্তানি আয় বাড়াতে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের গুণগত মান, খাদ্য নিরাপত্তা, রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তর্জাতিক স্যানিটারি ও ফাইটোস্যানিটারি মানদণ্ড অনুসরণের কাজ চলমান। পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পরীক্ষাগার, আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা, প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা ও মানসম্মত প্যাকেজিং সুবিধা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান আরো বলেন, দেশের প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি প্রাণিসম্পদ খাতকে টেকসই, আধুনিক ও রপ্তানিমুখী শিল্প হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে অধিদপ্তর। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব ও উদ্যোক্তাদের সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক বাজারে প্রাণিজ পণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর কাজ চলছে।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ কৃষি সংবাদ
Theme Customized By Shakil IT Park