1. admin@krishisangbad.com : admin :
  2. siddique149096@bsdi-bd.org : md abu bakar siddique rasim : md abu bakar siddique rasim
মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নে প্রকল্প উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী - কৃষি সংবাদ
শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১১:২৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
অ্যালুমিনিয়ামের হাঁড়ি-পাতিল থেকে খাবারে মিশতে পারে সিসা: গবেষণা মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল রউফ সরকারের কুলখানি অনুষ্ঠিত মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নে প্রকল্প উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী ২০২৭ সালের সরকারি ছুটি ২৯দিন, প্রজ্ঞাপন জারি গাজীপুর সাফারি পার্কে নীলগাই পরিবারে নতুন অতিথি সারের আমদানি বাড়ানো হবে: কৃষিমন্ত্রী বালতি-ড্রামেই এডিসের বড় উৎস: উচ্চ ঝুঁকিতে ২৯ ওয়ার্ড ইউপি নির্বাচনের তালিকা যাচাইয়ে মাঠপর্যায়ে ইসির নির্দেশ সংবাদ প্রকাশের জেরে গ্রেফতারে আদালতের অনুমতি নিতে হবে, মন্ত্রিসভার কমিটিতে ঐকমত্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে অভিযান, ৮ লাখ ২৮ হাজার টাকা জরিমানা

মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নে প্রকল্প উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬
  • ৮ বার পঠিত

কৃষি সংবাদ প্রতিবেদক:

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও লজিস্টিকস কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্যে “মোংলা বন্দরের সুবিধাদি সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন” বিষয়ক প্রকল্পটির ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ৯ নং জেটিতে আয়োজিত আড়ম্বরপূর্ণ এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উক্ত প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর উদ্ধোধন করা হয়। ভিত্তি প্রস্তর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং রেলপথ মন্ত্রণালয় মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, এমপি; নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় প্রতিমন্ত্রী মো: রাজিব আহসান, এমপি; লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, এমপি প্রতিমন্ত্রী, বন, পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক মন্ত্রণালয়; নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদিন ফারুক, এমপি ও সদস্যবৃন্দ; চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, চেয়ারম্যান ইনভেষ্ট বাংলাদেশ; নৌপরিবহন সচিব মোঃ আতাউর রহমান খান, এনডিসি; প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত চায়না অতিথিবৃন্দ:
Dai Hegen ,Chairman, CRCC(Vice Minister Rank); Song Yang, Economic and Commercial Counselor, Embassy of People’s Republic of China in Bangladesh; Li Chongyang, Chairman, CCECC;

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, আমদানি-রপ্তানি সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবৃন্দ। সভার সভাপতিত্ব করেন মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা।

এর আগে সকাল ১০.০০ টায় প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান। প্রধানমন্ত্রী আসন গ্রহণের পর পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করা হয়। এরপর CCECC কর্তৃক প্রস্তুতকৃত নির্মিতব্য প্রকল্পের বিষয়ে একটি পাওয়ার পয়েন্ট ডকুমেন্টরি প্রদর্শন করা হয়। এরপর প্রধানমন্ত্রী “মোংলা বন্দরের সুবিধাদির সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন (Expansion and Modernization of Mongla Port Facilities)” বিষয়ক প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন। উক্ত প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ১০ ও ১১ নং জেটি নির্মাণ কার্যক্রম সমাপ্ত হবে। প্রকল্পটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৩৫.৭৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং নির্মাণকাল ০৪ (চার) বছর।

প্রকল্পের আওতায় রয়েছে ০২ টি আধুনিক জেটি নির্মাণ, কন্টেইনার লোডিং-আনলোডিং ইয়ার্ড, বিপজ্জনক কার্গো হ্যান্ডলিং ইয়ার্ড, ৪৯টি প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিসহ অন্যান্য কার্যক্রম। উক্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের কন্টেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা যেমন বৃদ্ধি পাবে তেমনি নিরাপদে কন্টেইনার সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত স্থান সংকুলান হবে।

প্রকল্পের প্রধান অঙ্গসমূহ নিম্নরূপঃ
জেটি ৩৬৮ মিঃ * ৪০ মিঃ যেখানে ২* ২০০০০ DWT জাহাজ এক সাথে অথবা ১* ৫০০০০ DWT জাহাজ বার্দিং করা যাবে। প্রকল্পের মোট এরিয়া ২২৭০০০ বর্গমিঃ যার মধ্যে লোডেড কন্টেইনার ইয়ার্ড ৮৭৬০০ বর্গমিঃ, এমটি কন্টেইনার ইয়ার্ড ৩৪১৭০ বর্গমিঃ, ডেঞ্জারাস কন্টেইনার ইয়ার্ড ৪২৬০ বর্গমিঃ, ইন্টারনাল রোড ৫০৪০০ বর্গমিঃ, প্রশাসনিক ভবন- ২৫১৭ বর্গমিঃ, CFS-৩৯০৯ বর্গমিঃ।

প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত প্রধান ইকুইপমেন্টসমূহঃ

নং ইকুইপমেন্টের নাম সংখ্যা নং ইকুইপমেন্টের নাম সংখ্যা
১। Shore to ships Crane ০৪টি ৫। Empty Handler ০২টি
২। RTGS ০৭টি ৬। Reach Stacker ০১টি
৩। Terminal Tractors ১০টি ৭। Container Weigher ০১টি
৪। Terminal Trailers ১০টি ৮। Fixed Container Scanner ০১টি

মোংলা বন্দরের সুবিধাদির সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন (Expansion and Modernization of Mongla Port Facilities) শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বন্দরের কন্টেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা অর্জনের পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রথম স্মার্ট বন্দর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। এতে করে ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী অটোমেটেড সিস্টেম বাস্তবায়নের ফলে বিনিয়োগ সহজীকরণে ভূমিকা রাখবে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা প্রতি ঘন্টায় ৩০ টিতে উন্নীত হবে এবং বার্ষিক ০৪ (চার) লক্ষ টিইইউজ কন্টেইনার হ্যান্ডলিং এর সক্ষমতা অর্জিত হবে। এর ফলে কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের ব্যয় তুলনামূলকভাবে হ্রাস পাবে। ইতোমধ্যে মোংলা বন্দরে বহুমাত্রিক পরিবহন সংযোগ (Multimodal Connectivity) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স এন্ড এক্সপোর্ট আ্যাসোসিয়েশন (BGMEA), বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারর্স এন্ড এক্সপোর্ট আ্যসোসিয়েশন (BKMEA), ফ্রেশ খাদ্যপন্য, আমদানিকারক, বাংলাদেশ জুট মিলস কর্পোরেশন, শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনসহ বন্দরের বিভিন্ন ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানের চাহিদা অনুযায়ী স্বতন্ত্র কন্টেইনার হ্যান্ডলিং সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

গত ১৪ অক্টোবর ২০১৬ তারিখে চীনের মহামান্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক বাংলাদেশ সফরকালে স্বাক্ষরিত সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে মোংলা বন্দরের সুবিধাদির সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন (Expansion and Modernization of Mongla Port Facilities) শীর্ষক প্রকল্পটি অন্তর্ভুক্ত ছিলো।

পরবর্তীতে গত ২৬ আগষ্ট ২০২১ তারিখ CCECC এর সাথে প্রকল্পটি জি-টু-জি পদ্ধতিতে চীনা অর্থায়নে ও কারিগরি সহায়তায় সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির মাধ্যমে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়। প্রকল্পটি গত ০২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ তারিখে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) কর্তৃক অনুমোদিত হয়। গত ২৫/০৩/২০২৫ তারিখে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং চীনা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান CCECC এর মধ্যে প্রকল্পটির বাণিজ্যিক চুক্তি (Commercial Contract) স্বাক্ষরিত হয়।

প্রকল্পটির অর্থায়নের বিষয়ে গত ২৫ জুন, ২০২৬ তারিখে প্রধানমন্ত্রী চীন সফরকালে চায়না ইন্টারন্যশনাল ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন এজেন্সি (CIDCA) এবং বাংলাদেশ সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ERD) এর মধ্যে প্রকল্পটির বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি ফ্রেমওয়ার্ক (Framework Agreement) স্বাক্ষরিত হয়।

এর ধারাবাহিকতায় গত ১০ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রি. তারিখে বাংলাদেশ সরকার ও চীনের এক্সপোর্ট – ইমপোর্ট ব্যাংকের (চায়না এক্সিম ব্যাংক) সঙ্গে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ হাজার ৫৯২ কোটি ৯০ লাখ টাকা, সমপরিমাণ ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জাহাজের সংখ্যা বৃদ্ধিসহ দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলের ব্যবসার প্রসার ঘটবে। একই সাথে এই অঞ্চলের জনগণের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে এবং মোংলা বন্দরে কন্টেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে। ফলে মোংলা বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীগণ যেমন এর সুফল ভোগ করবেন তেমনি দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের জনগণের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ তৈরি হবে। এই প্রকল্পটির মাধ্যমে বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বৃহৎ অবকাঠামো ও শিল্প উন্নয়ন প্রকল্পে পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মোংলা বন্দরের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের সামুদ্রিক বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। একই সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও যোগাযোগ বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা জোরদার এবং জাতীয় অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই উন্নয়নে মোংলা বন্দর আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। প্রস্তাবিত চীনা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং আধুনিক বন্দর অবকাঠামোর সমন্বয়ে মোংলা ভবিষ্যতে সামুদ্রিক বাণিজ্য, শিল্প বিনিয়োগ ও আঞ্চলিক লজিস্টিকস কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠান স্থলের সন্নিকটে একটি বৃক্ষরোপন করেন। বৃক্ষরোপন শেষে উদ্বোধনকৃত প্রকল্পটির বাস্তবায়নসহ দেশ ও জাতির সার্বিক উন্নয়নের জন্য দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয় এবং অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা হয়।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ কৃষি সংবাদ
Theme Customized By Shakil IT Park