1. admin@krishisangbad.com : admin :
  2. siddique149096@bsdi-bd.org : md abu bakar siddique rasim : md abu bakar siddique rasim
বন্যায় ৮৭৮ কোটি টাকার কৃষিজ ক্ষতি: মৎস্যে ৩৬৯ কোটি, ফসল ২৩২ কোটি টাকার - কৃষি সংবাদ
রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৪৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
এক জালেই মিলল ৪৬ মণ ইলিশ হাওরে ইজারা প্রথা তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী চার বছরে ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবার পাবে ফ্যামিলি কার্ড, উদ্বোধন ১৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ২০ আগস্ট বানরের দাপটে দিশেহারা নেপালের কৃষকরা সচিবালয়ের সামনে ১১-দলীয় জোটের অবস্থান, পুলিশি বাধায় ‘ধাক্কাধাক্কি’ নদীদূষণ রোধে কর্মপরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশসহ তিনদেশের পোলট্রি মাংসে মাত্রাতিরিক্ত অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল: গবেষণা আড়িয়ল বিলের পাঁচ দেশি মাছে মাইক্রোপ্লাস্টিক: বাকৃবির গবেষণা জুলাই জাদুঘর কোনো দল বা ব্যক্তির একক রাজনৈতিক ভাষ্য প্রতিষ্ঠার স্থান হবে না: প্রধানমন্ত্রী

বন্যায় ৮৭৮ কোটি টাকার কৃষিজ ক্ষতি: মৎস্যে ৩৬৯ কোটি, ফসল ২৩২ কোটি টাকার

  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬
  • ৪৫ বার পঠিত

সুমন ইসলাম :

টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্টি হওয়া সাম্প্রতিক বন্যায় কৃষি, মৎস্য এবং প্রাণিসম্পদ খাতে প্রায় ৮৭৮ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে মৎস্য ও ফসলের ক্ষতি বেশি হয়েছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের ক্ষতি-সংক্রান্ত চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কৃষিক্ষেত্রে ৪৩টি জেলায় মোট আট লাখ ১৭ হাজার হেক্টর চাষাবাদ করা জমির মধ্যে ২৪ হাজার ১৩৮ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। উৎপাদনের ক্ষতির পরিমাণ এক লাখ ৩৩ হাজার ৯৭২ টন। আর্থিক হিসাবে যা ৪৭৭ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। অপরদিকে দেশের ৬০২টি ইউনিয়নে মৎস্য সম্পদের ক্ষতি ৩৬৯ কোটি টাকা এবং প্রাণিসম্পদে ৩০ কোটি ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

এ বন্যা ও অতিবৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে গ্রীষ্মকালীন সবজির, যা মোট ক্ষতির প্রায় অর্ধেক। তথ্য বলছে, দুই লাখ ১৪ হাজার হেক্টর জমির শাকসবজির মধ্যে আট হাজার ৮৩৬ হেক্টর জমির ৮৭ হাজার ৯৬৭ টন শাকসবজি নষ্ট হয়েছে। আর্থিকভাবে ক্ষতির পরিমাণ ২৩১ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।

এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের তালিকায় রয়েছে আউশ ধান, আমন বীজতলা, আদা, মরিচ, হলুদ, পেঁপে, তরমুজ, চীনাবাদাম, পাট, কলা, আখ, খরমুজ, ভুট্টা ও পান। মোট ক্ষতিগ্রস্ত জমির মধ্যে ১২ হাজার ৭৮৩ হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়েছিল আউশ ধান এবং এক হাজার ৭৪৬ হেক্টরে আমন বীজতলা।

এ দুই ধান মিলে নষ্ট হয়েছে ১৮৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকার আবাদ। সেই সঙ্গে চার কোটি ৭৯ কোটি টাকার মরিচ, ২৩ কোটি টাকার আদা ও সাড়ে ৯ কোটি টাকার হলুদ নষ্ট হয়েছে।

অন্যদিকে ফলের মধ্যে বড় ক্ষতি হয়েছে পেঁপের। এসময় প্রায় দুই কোটি সাত লাখ টাকার পেঁপে ও অন্যান্য সব ফল মিলে ৭৩ কোটি ৯ লাখ টাকার ফল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সাত জেলায় ক্ষতির পরিমাণ বেশি
সারাদেশে এবারের বন্যায় দুই লাখ ৪৩ হাজারেরও বেশি কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাত জেলা। এগুলো হলো- ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হবিগঞ্জ, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি।

কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, সার্বিকভাবে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিতে সরবরাহ ব্যবস্থায় সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা দেশে খাদ্য মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে। বন্যার পরবর্তী সময়ে সবজিসহ কাঁচাবাজারের বেশকিছু পণ্যের দাম বেড়ে গেছে।

সরবরাহ কমে যাওয়ায় কাঁচা মরিচের কেজি এরই মধ্যে ৩০০ টাকা ছাড়িয়েছে। সবজি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকার আশপাশে। বেগুন, শসাসহ বিভিন্ন সবজির দাম বন্যার আগের তুলনায় ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে কেজিতে। এতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্রেতারা।

এ নিয়ে কথা হলে কৃষি অর্থনীতিবিদ জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, দ্রুত সব কৃষককে সহায়তা দেওয়া দরকার। যেন তারা উৎপাদনে নিরুৎসাহিত না হন। কারণ এরই মধ্যে বাজারে অনেক কিছুর দাম বেড়েছে, যেগুলো বন্যার সঙ্গে সম্পৃক্ত। পর্যাপ্ত সহায়তা না পেলে কৃষক চাষাবাদ কমিয়ে দেবে, যার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে সরবরাহ ব্যবস্থায়।

তার মতে, যেহেতু এখনো আমন ধান রোপণের সময় রয়েছে, সেজন্য ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নতুন করে বীজতলা তৈরির জন্য সহায়তা দেওয়া দরকার। না হলে এ ক্ষতি পরবর্তীতে খাদ্য নিরাপত্তায় ঝুঁকি তৈরি করবে। কারণ দেশের খাদ্যের একটি বড় জোগান আসে আমন থেকে।

অধিদপ্তরের সরেজমিন উইংয়ের পরিচালক মো. ওবায়দুর রহমান মণ্ডল বলেন, বীজ ও সার সহায়তার মাধ্যমে বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার কার্যক্রম চলছে। আউশ ধান ও রোপা আমনের বীজতলা করার জন্য বেশি ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর প্রায় ৬৩ হাজার কৃষককে এরই মধ্যে নাবি জাতের (দেরিতে রোপণযোগ্য) আমন বীজ সরবরাহ করা হয়েছে।
তিনি জানান, বাকি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের শীতকালীন ফসল রোপণ মৌসুমের আগেই সহায়তা দেওয়া হবে। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তাৎক্ষণিক সহায়তা নিশ্চিত করা হয়েছে। তুলনামূলক কম ক্ষতিগ্রস্তরাও সহায়তা পাবেন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদে ক্ষতি ৪০০ কোটি

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রতিবেদন দুটি পর্যারোচনা করে দেখাগেছে, এতে মোট ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে ৩৯৯.১২ কোটি টাকার।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের ক্ষতিগ্রস্ত ৫ জেলা (চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি) ১৫৬ টি ইউনিয়নের ১লাখ ৫৭ হাজার ৩শ গরু, ৪ হাজার ১৪৮ টি মহিষ, ১ লাখ ১২ হাজার ৬৫৫ টি ছাগল, ২৪ হাজার ৭৯৫ টি ভেড়া, ১১ লাখ ৯১ হাজার ২০ টি মুরগি এবং ২৪ হাজার ২৮ টি হাঁস বন্যাকবলিত হয়েছে। এর মধ্যে ৫ জেলায় গরু ৪৫ টি, ছাগল ১২৩টি, ভেড়া ৪০ টি, মুরগি ১ লাখ ১১ ৯৮ টি এবং হাঁস ১হাজার ৫২১টি মারাগেছে। ক্ষতিগ্রস্ত খামারের সংখ্যা গবাদিপশুর খামার ৬৫ টি এবং হাস-মুরগির খামার ৬৩টি। এতে ১১৮ মে.টন গো খাদ্য নষ্ট্ হয়েছে। এ নিয়ে গো-খাদ্য, অবকাঠামো, প্রাণিরমৃত্যু নিয়ে মোট ৩০ কোটি ১৫ লাখ ৪৪ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

মৎস্য অধিদপ্তরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- দেশের ৬০২টি ইউনিয়নের ১২ হাজার ৪৩ মে. টন সাদামাছ, ১৪৪৯.৪৯ মে. টন চিংড়ি, ১৮৫৭.৩৯ ল্খা পোনা, এবং রেনু ২৫৯.৩৯ লাখ ভেসে গেছে। সাদা মাছের ক্ষতি হয়েছে ২১৭৮২.৭৬ লাখ টাকা, চিংড়ির ক্ষতি হয়েছে ৩০৯৯.৪৬ লাখ টাকা, পোনার ক্ষতি হয়েছে ৬২৬৬.৯২ লাখ টাকা। পি এল বা রেনুর ক্ষতি হয়েছে ১০৮৯.৫০ লাখ টাকার। নৌ যানের ক্ষতি হয়েছে ১৬৭.৪০ লাখ টাকা, জাল নষ্ট হয়েছে ১২৩.৭০ লাখ টাকার, অকাঠামো ও স্লুইস গেট, পুকুর, ঘের নষ্ট হয়ে ক্ষতি হয়েছে ৪৩৮২.৪৩ লাখ টাকা। এ হিসেবে মৎস্য খাতে মোট ক্ষতি হয়েছে ৩৬৮৯৭.৪৮ লাখ টাকা বা ৩৬৯ কোটি টাকা।

বিস্তারিত বিবরণে দেখা গেছে- চট্টগ্রামের ১৫৩ টি ইউনিয়নে ৩২০টি ঘের এবং ১২ হাজার ২৫১টি পুকুর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এক্ষত্রে সাদামাছ, চিংড়ি এবং চিংড়ির পোনা ও রেনু ক্ষতি হয়েছে যার মূল্য প্রায় ১০৯৪৩.১৯ লাখ টাকা। একই ভাবে খাগড়াছড়িতে ক্ষতি হয়েছে ২২৪.৫৬ লাখ টাকা। রাঙ্গামাটি জেলায় ক্ষতি হয়েছে ৩১৫.৫৯ লাখ টাকা। বান্দরবান জেলায় ক্ষতি হয়েছে ২১৪.৪৫ লাখ টাকা,কক্সবাজারের ৬১ টি উইনিয়নের মৎস্য খাতে ক্ষতি হয়েছে ৪৬২২.৩৬ লাখ টাকা। নোয়াখালীর ২১ টি ইউনিয়নে ১১০৯ লাখ টাকা। নীলফামারিতে ১০.২৪ লাখ টাকা, লালমনির হাটের ৪ ইউনিয়নে ২৮.৭০ লাখ টাকা, রংপুরে ৯৯.৪০ লাখ টাকা, গাইবান্ধার ১৪ টি ইউনিয়নে ১৭৭.২৫ লাখ টাকা, খুলনার ২১৫.১০ লাখ টাকা, সাতক্ষীরায় ৫০.৮০ লাখ টাকা, যশোরের ৪৪টি ইউনিয়নে ৫৫০০.৩৪ লাখ টাকা, নড়াইলের ৩৯টি ইউনিয়নের ৬৮৮৩.১০ লাখ টাকা, চুয়াডাঙ্গায় ৩০.৮০ লাখ টাকা, মৌলভীবাজারের ৪টি ইউনিয়নের ২৫ লাখ টাকা, সুনামগঞ্জের ১৯ টি ইউনিয়নে ১৪.৪২ লাখ টাকা, বরগুনার ২০ টি ইউনিয়নে ক্ষতি হয়েছে ৩৭৫.৪৫ লাখ টাকা, পিরোজপুরের ১৯টি ইউনিয়নে ক্ষতি হয়েছে ৩৮১ লাখ টাকা, ময়মনসিংহের ৪টি ইউনিয়নের ১৩.০১ লাখ টাকা, নেত্রোকোনার ১০টিতে ক্ষতি হয়েছে ৯৮.৬৯ লাখ টাকা, হবিগঞ্জের ১৭ টি ইউনিয়নে ১৪৫৩ টি পুকুর ভেসে গেছে এতে ক্ষতি হয়েছে ৪৮১৩ লাখ টাকা, সিলেটের ৯ টি ইউনিয়নের ২০৩টি পুকুর তলিয়ে যাওয়ায় ক্ষতি হয়েছে ৬১.২৬ লাখ টাকা, ভোলার ৪৭ টি ইউনিয়নের প্রায় ৪ হাজার পুকুর ও ঘের তলিয়ে যাওয়ায় ক্ষতি হয়েছে ৫৮২.৯৪ লাখ টাকা এবং পটুয়াখালীর ৯৭ টি ইউনিয়নের ২৫৮৪ টি পুকুর ও খামার তালিয়ে গেছে এতে ক্ষতি হয়েছে ১৪৪৭.৩০ লাখ টাকা।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ কৃষি সংবাদ
Theme Customized By Shakil IT Park