1. admin@krishisangbad.com : admin :
  2. siddique149096@bsdi-bd.org : md abu bakar siddique rasim : md abu bakar siddique rasim
আড়িয়ল বিলের পাঁচ দেশি মাছে মাইক্রোপ্লাস্টিক: বাকৃবির গবেষণা - কৃষি সংবাদ
রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৪৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
এক জালেই মিলল ৪৬ মণ ইলিশ হাওরে ইজারা প্রথা তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী চার বছরে ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবার পাবে ফ্যামিলি কার্ড, উদ্বোধন ১৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ২০ আগস্ট বানরের দাপটে দিশেহারা নেপালের কৃষকরা সচিবালয়ের সামনে ১১-দলীয় জোটের অবস্থান, পুলিশি বাধায় ‘ধাক্কাধাক্কি’ নদীদূষণ রোধে কর্মপরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশসহ তিনদেশের পোলট্রি মাংসে মাত্রাতিরিক্ত অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল: গবেষণা আড়িয়ল বিলের পাঁচ দেশি মাছে মাইক্রোপ্লাস্টিক: বাকৃবির গবেষণা জুলাই জাদুঘর কোনো দল বা ব্যক্তির একক রাজনৈতিক ভাষ্য প্রতিষ্ঠার স্থান হবে না: প্রধানমন্ত্রী

আড়িয়ল বিলের পাঁচ দেশি মাছে মাইক্রোপ্লাস্টিক: বাকৃবির গবেষণা

  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬
  • ৫০ বার পঠিত

কৃষি সংবাদ ডেস্ক:

আড়িয়ল বিলের পাঁচ ধরনের দেশি মাছে পাওয়া গেছে মাইক্রোপ্লাস্টিক বা প্লাস্টিকের ক্ষুদ্র কণা। মাছগুলো হলো, কই, বাটা, মেনি, গুলশা টেংরা ও পুঁটি। এসব মাছের মাংসপেশি ও অন্ত্রে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত করেছেন গবেষকেরা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে কই মাছে।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। গবেষকেরা বলছেন, কই মাছ সর্বভুক স্বভাবের হওয়ায় তলানি ও প্লাঙ্কটনের সঙ্গে মিশে থাকা প্লাস্টিক কণাও সহজে গ্রহণ করে। ফলে অন্য মাছের তুলনায় এ মাছের শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিক বেশি দেখা গেছে।

আড়িয়ল বিল পদ্মা নদীর মাঝখানে ছিটমহলসম জলাভূমি অঞ্চল। দেশের মধ্যাঞ্চলের সর্ববৃহৎ ও প্রাচীন এই প্লাবনভূমির অবস্থান ঢাকা ও মুন্সিগঞ্জ জেলায়। বিলের দৈর্ঘ্য ২৬ মাইল এবং প্রস্থ ১০ মাইল। অর্থাৎ মোট আয়তন ২৬০ বর্গমাইল বা ১ লাখ ৬৬ হাজার ৬০০ একর। এ বিলের মাছ নিয়মিত ঢাকাসহ আশপাশের বাজারে বিক্রি হয়।

২০২৪ সালের বর্ষায়, ২০২৪-২৫ সালের শীতে এবং ২০২৫ সালের শুষ্ক মৌসুমে বিলের পাঁচটি স্থান থেকে পানি ও তলানির নমুনা সংগ্রহ করা হয়। একই সময়ে ৫ প্রজাতির মোট ১৫০টি মাছ সংগ্রহ করে সেগুলোর অন্ত্র, ফুলকা ও মাংসপেশি আলাদাভাবে পরীক্ষা করে গবেষণার ফলাফল তুলে ধরা হয়েছে। গত জুলাই মাসে আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকী জার্নাল অব হ্যাজার্ডাস ম্যাটেরিয়ালস অ্যাডভান্সেসে গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে।
মাছে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ার ঘটনা অবশ্য বাংলাদেশে নতুন নয়। এর আগে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, পুরাতন ব্রহ্মপুত্র, ঢাকার কয়েকটি হ্রদ, সুন্দরবনের উপকূলীয় এলাকা এবং বঙ্গোপসাগরের মাছ ও চিংড়িতে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একই গবেষক দল এর আগে চলনবিল ও হাওর অঞ্চলের মাছ নিয়েও গবেষণা করেছে। সেখানে তলদেশে থাকা মাছে তুলনামূলক বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে।

গবেষণা দলের প্রধান ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক মো. শাহজাহান বলেন, মাইক্রোপ্লাস্টিক এখন সবখানেই। তবে বিলের মাছের অন্ত্র ও মাংসপেশিতে এটা পাওয়া যাওয়া উদ্বেগজনক। যদিও এসব মাছ খেয়ে সরাসরি ক্ষতির আশঙ্কা কম। তবে দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি থাকতে পারে। তিনি বলেন, শরীরে জমতে থাকা এ ধরনের উপাদান হয়তো ৫-১০ বছরে বোঝা যাবে না। কিন্তু ২৫-৩০ বছর পর, এমনকি পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যেও এর প্রভাব যেতে পারে।

গবেষণায় কই মাছে সবচেয়ে বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। শুধু অন্ত্র বা ফুলকায় নয়, মানুষের খাওয়ার উপযোগী মাংসপেশিতে অন্য মাছের তুলনায় কই মাছে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি বেশি। বর্ষা, শীত ও শুষ্ক-তিন মৌসুমেই প্রতিটি কই মাছের মাংসে গড়ে একটি করে মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। অন্য ৪ প্রজাতির ক্ষেত্রে এ সংখ্যা ছিল গড়ে শূন্য দশমিক ৫০ থেকে শূন্য দশমিক ৯০টির মধ্যে। কই মাছের অন্ত্রে গড়ে ১ দশমিক ৭০ থেকে ১ দশমিক ৯০ এবং ফুলকায় ১ দশমিক ৩০ থেকে ১ দশমিক ৪০টি কণা পাওয়া গেছে। গবেষকেরা বলছেন, মাছের অন্ত্র বা ফুলকায় মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ার ঘটনা আগেও জানা গেছে। তবে মানুষের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত মাংসপেশিতেও মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ার বিষয়টি জনস্বাস্থ্যের দৃষ্টিকোণ থেকে নতুন গুরুত্ব পাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক প্রচলিত সংজ্ঞা অনুযায়ী, ৫ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট প্লাস্টিক কণাকে মাইক্রোপ্লাস্টিক বলা হয়। এসব কণা আরও ক্ষুদ্র হয়ে ১ মাইক্রোমিটারের (এক হাজার ন্যানোমিটার) নিচে নেমে গেলে তাকে ন্যানোপ্লাস্টিক বলা হয়। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই গবেষণায় ন্যানোপ্লাস্টিকের পরিমাপ করা সম্ভব হয়নি। তবে তা থাকার আশঙ্কা গবেষকেরা উড়িয়ে দিচ্ছেন না।

কই মাছের পর মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি বেশি পাওয়া গেছে বাটা মাছে। তৃণভোজী এই মাছের অন্ত্রে বর্ষা মৌসুমে গড়ে সর্বোচ্চ ১ দশমিক ৫০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। আর মাংসপেশিতে তিন ঋতুতেই প্রায় একই মাত্রায় (শূন্য দশমিক ৮০ থেকে শূন্য দশমিক ৯০টি) প্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে।

নান্দিনা বা মেনি মাছের অন্ত্রে শীত ও শুষ্ক মৌসুমে তুলনামূলক বেশি প্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। তবে মাংসপেশিতে এর মাত্রা ছিল শূন্য দশমিক ৬০ থেকে শূন্য দশমিক ৭০টির মধ্যে। একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে গুলশা টেংরাতেও। এ মাছের অন্ত্রে শীত মৌসুমে সর্বোচ্চ ১ দশমিক ৩০টি কণা পাওয়া গেছে আর মাংসপেশিতে পাওয়া গেছে শূন্য দশমিক ৫০ থেকে শূন্য দশমিক ৮০টি প্লাস্টিক কণা।

অন্যদিকে ছোট আকারের সর্বভুক পুঁটি মাছে সবচেয়ে কম মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে। এর মাংসপেশিতে মাত্র শূন্য দশমিক ৫০ থেকে শূন্য দশমিক ৫১টি কণা পাওয়া গেছে।

গবেষণায় আড়িয়ল বিলের প্রতি লিটার পানিতে ১১ থেকে প্রায় ৩২টি এবং প্রতি কেজি তলানিতে ১২ থেকে ১২৭টির বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে।

বর্ষাকালে পানিতে দূষণের মাত্রা সবচেয়ে বেশি ছিল। গবেষকদের মতে, বৃষ্টির পানির সঙ্গে আশপাশের প্লাস্টিকবর্জ্য বিলে এসে পড়ায় এ সময় দূষণ বাড়ে। অন্যদিকে শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় কণাগুলো তলদেশে জমা হয় এবং তলানির দূষণ বেড়ে যায়।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ কৃষি সংবাদ
Theme Customized By Shakil IT Park