পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষের সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ার শেল নিক্ষেপ করছে পুলিশ।
পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষের সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ার শেল নিক্ষেপ করছে পুলিশ।
সাভারের হেমায়েতপুর ও উলাইল এলাকায় তৈরি পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এতে পুলিশ, শ্রমিক ও সাংবাদিকসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল আলমের ব্যবহৃত পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের হেমায়েতপুর ও উলাইল এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে।
আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ওসি সাইফুল আলমসহ সাত পুলিশ সদস্য এবং তিন সাংবাদিক রয়েছেন। আহত সাংবাদিকেরা হলেন ৭১ টেলিভিশনের রায়ইন ও উজ্জ্বল এবং স্টার নিউজের সিরাজি।
ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে বুধবার টানা পঞ্চম দিনের মতো ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেন হেমায়েতপুরের তৈরি পোশাকশ্রমিকেরা। সকালে বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা দলে দলে মহাসড়কে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করলে দুই পাশের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
শ্রমিকদের অন্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে আন্দোলনে অংশ নেওয়া কাউকে কালো তালিকাভুক্ত না করা এবং আগে আটক শ্রমিকদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া। এর আগে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকালে প্রায় দুই ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকেরা। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে তারা অবরোধ তুলে নেন।
বুধবার সংঘাত এড়াতে সকাল থেকেই হেমায়েতপুর ও পদ্মার মোড় এলাকার ১১টি কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। তবে শ্রমিকদের অবরোধের কারণে মহাসড়কের দুই পাশে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে যানজট তৈরি হয়। এতে দুর্ভোগে পড়েন যাত্রী ও পরিবহনচালকেরা।
সকাল ১০টার দিকে হেমায়েতপুরে স্ট্যান্ডার গ্রুপের সামনে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এ সময় কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে পুলিশকে সহায়তা করতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
অন্যদিকে উলাইল এলাকায় আল-মুসলিম গ্রুপের সামনে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়। শ্রমিকেরা মহাসড়ক অবরোধ করে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। জবাবে পুলিশ টিয়ার শেল ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে। এ ঘটনায় প্রায় আড়াই ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে।
সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোশাররফ হোসেন বলেন, ওসি সাইফুল আলমসহ বেশ কয়েকজন শ্রমিকদের ছোড়া ইটের আঘাতে আহত হয়েছেন। পরে ওসিকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
এদিকে পদ্মার মোড়ে ওসি সাইফুল আলমের ব্যবহৃত পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পরিস্থিতি শান্ত হলে মহাসড়কে যান চলাচল আবার শুরু হয়।
আহত সাংবাদিকদের বিষয়ে পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, ঘটনার ভিডিও ধারণের সময় শ্রমিকেরা তাদের ওপর হামলা করেন।
এদিকে আশুলিয়ায় এখন পর্যন্ত কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। সেখানে বিজিবি ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। দু-একটি কারখানার শ্রমিকেরা বের হওয়ার চেষ্টা করলেও পুলিশের তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়।