কৃষি সংবাদ প্রতিবেদক:
বাসাবাড়িতে ব্যবহৃত প্লাস্টিকের বালতি, ড্রাম, মগ ও ফুলের টবেই মিলছে এডিস মশার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ লার্ভা। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) এক জরিপে দেখা গেছে, এসব পাত্র ও স্থানে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার লার্ভার বড় অংশের উপস্থিতি রয়েছে।
নাগরিকরা এসব উৎস সম্পর্কে সচেতন হয়ে নিয়মিত পানি অপসারণ করলে প্রাথমিক পর্যায়েই প্রায় অর্ধেক এডিস মশার বিস্তার রোধ করা সম্ভব বলে জানানো হয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) নগর ভবন অডিটোরিয়ামে ডিএসসিসির ‘বর্ষাকালীন এডিস মশার লার্ভা জরিপ ২০২৬’ এর ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়।
জরিপে দেখা গেছে, প্লাস্টিকের বালতিতে ১৪ দশমিক ২১ শতাংশ, প্লাস্টিকের ড্রামে ১১ দশমিক ২২ শতাংশ, বেজমেন্টে জমে থাকা পানিতে ৯ দশমিক ৯৮ শতাংশ, প্লাস্টিকের মগে ৯ দশমিক ২৩ শতাংশ এবং ফুলের টবে ৫ দশমিক ৯৯ শতাংশ লার্ভা পাওয়া গেছে।
ডিএসসিসির হিসাবে, এসব উৎসের সম্মিলিত অংশ প্রায় ৫০ দশমিক ৯ শতাংশ। ফলে বাসাবাড়ির এসব পাত্রে পানি জমতে না দেওয়া গেলে এডিস মশার প্রজনন উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
ডিএসসিসির জরিপে মোট ২ হাজার ২৫০টি বাড়ি পরিদর্শন করা হয়। এর মধ্যে ৩২২টি বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা ও পিউপা পাওয়া গেছে।
বাড়ির ধরন অনুযায়ী, বহুতল ভবনে ৩১ দশমিক ০৬ শতাংশ, স্বতন্ত্র বাড়িতে ৩১ দশমিক ৩৭ শতাংশ, সেমিপাকা বাড়িতে ১৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ, নির্মাণাধীন বাড়িতে ১৩ দশমিক ০৪ শতাংশ এবং খালি প্লটে ৭ দশমিক ১৪ শতাংশ লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া যায়।
ডিএসসিসির জরিপ অনুযায়ী, অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ২৯টি ওয়ার্ড হলো- ১, ২, ৯, ১১, ১২, ১৩, ১৪, ১৫, ১৬, ১৯, ২০, ২১, ২২, ২৪, ২৫, ২৬, ২৭, ৩১, ৫৩, ৫৪, ৫৫, ৫৬, ৫৮, ৫৯, ৬০, ৬১, ৬২, ৬৫ ও ৭১ নম্বর ওয়ার্ড।
মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ ২৮টি ওয়ার্ড হলো- ৪, ৫, ৬, ৮, ১০, ১৮, ২৩, ২৯, ৩০, ৩২, ৩৩, ৩৫, ৩৬, ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪৩, ৪৬, ৫১, ৫২, ৫৭, ৬৪, ৬৭, ৬৮, ৬৯, ৭৩ ও ৭৫ নম্বর ওয়ার্ড।
অন্যদিকে সাধারণ ঝুঁকিপূর্ণ ১৮টি ওয়ার্ড হলো- ৩, ৭, ১৭, ২৮, ৩৪, ৪১, ৪২, ৪৪, ৪৫, ৪৭, ৪৮, ৪৯, ৫০, ৬৩, ৬৬, ৭০, ৭২ ও ৭৪ নম্বর ওয়ার্ড।
ডিএসসিসি জানিয়েছে, গত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত ১২ দিনব্যাপী এ জরিপ পরিচালনা করা হয়। করপোরেশনের ৭৫টি ওয়ার্ডের প্রতিটি থেকে দৈবচয়নের ভিত্তিতে ৩০টি করে মোট ২ হাজার ২৫০টি বাড়ি নমুনা হিসেবে নির্বাচন করা হয়। জরিপে ডিএসসিসি ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার ৩৬ জন মাঠকর্মী অংশ নেন।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত ১২ দিনব্যাপী এ জরিপ পরিচালনা করা হয়। ডিএসসিসির ৭৫টি ওয়ার্ডের প্রতিটি থেকে দৈবচয়নের ভিত্তিতে ৩০টি করে বাড়ি নমুনা হিসেবে নির্বাচন করা হয়। জরিপে ডিএসসিসি ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার ৩৬ জন মাঠকর্মী অংশ নেন।
জরিপের ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। বাসাবাড়ি ও কর্মস্থলের আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং সপ্তাহে অন্তত একদিন জমে থাকা পানি অপসারণের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
প্রশাসক আরও জানান, জরিপে পাওয়া ফলাফলের ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ মশক নিধন অভিযান ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এ ছাড়া প্রতি শনিবার ডিএসসিসির নিয়মিত ‘ক্লিনিং ডে’ কর্মসূচির আওতায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আঙিনা ও টয়লেট পরিষ্কারের বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান, সচিব মো. মশিউর রহমান খান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদার, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমানসহ বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা ও আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।