1. admin@krishisangbad.com : admin :
  2. siddique149096@bsdi-bd.org : md abu bakar siddique rasim : md abu bakar siddique rasim
চাকরির লোভে পাচার, ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে ২০ বাংলাদেশির মৃত্যু: এসআরবি - কৃষি সংবাদ
শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
চিংড়ি রপ্তানিতে গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী চিংড়ি রপ্তানি বাড়াতে ডিজিটাল ট্রেসেবিলিটি জোরদারের আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর মানহীন দুধ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ বাণিজ্যমন্ত্রীর সচিবালয় স্থানান্তর ইস্যুতে আন্দোলনে যাচ্ছে শেকৃবি জীবন্ত পাখি খেলো অটোরিকশাচালক নিরাপদ খাদ্য পরীক্ষার ভ্রাম্যমাণ ল্যাব পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী ঢাকা থেকে সৌদিগামী ৮৬টি ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে ১৩৪৯০ যাত্রী চাকরির লোভে পাচার, ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে ২০ বাংলাদেশির মৃত্যু: এসআরবি ঢালাও ভর্তুকি কমিয়ে লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তার তাগিদ আইএমএফের টঙ্গীস্থ সরকারি ওষুধ কারখানার আগুন চার ঘণ্টায় নিয়ন্ত্রণে, নেই হতাহতের খবর

চাকরির লোভে পাচার, ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে ২০ বাংলাদেশির মৃত্যু: এসআরবি

  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১৪ বার পঠিত

কৃষি সংবাদ প্রতিবেদক:

রাশিয়ায় উচ্চ বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ৩০ জন বাংলাদেশিকে পাচার করে এক‌টি চক্র। পরে তাদেরকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য বাধ্য করা হয়। তা‌দের মধ্যে প্রায় ২০ জন বাংলাদেশি ইতোম‌ধ্যে মারা গে‌ছেন।

এ ঘটনায় মানব পাচার চক্রটির মূলহোতাসহ দুই জনকে গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটিলিয়ন (এসআরবি)। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- মিজানুর রহমান (৫৫) ও মো. আবু তাহের লেন্টু (৫০)।

বা‌হিনীর পক্ষ থেকে বলা হ‌য়ে‌ছে, ভুক্তভোগীরা রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর তাদেরকে জোর করে রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়। প্রশিক্ষণ শেষে তাদেরকে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের সম্মুখসারিতে পাঠানো হতো। মূলত প্রতিপক্ষের অবস্থান শনাক্তে যুদ্ধের ময়দানে শিকার হিসেবে পাঠানো হতো তাদের। এরপর তাদের উপর প্রতিপক্ষ ড্রোন হামলা করলে হামলাকারীদের আবস্থান ও দূরত্ব শনাক্তের জন্যই তাদের শিকার হিসেবে পাঠানো হতো।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাজধানীর কারওয়ান বাজার এসআরবি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব জানান এসআরবি-১০-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহা. আসাদুজ্জামান।

তি‌নি জানান, মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) গভীর রাতে ফরিদপুর জেলার নগরকান্দার আটাইল এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসামি মিজানুর রহমান (৫৫) ও ঝিনাইদহ জেলার কালিগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. আবু তাহের লেন্টু‌কে (৫০) গ্রেফতার করা হয়।

তিনি বলেন, গ্রেফতারকৃতরা ভুক্তভোগী রাজন হোসেনকে (২১) কনস্ট্রাকশন সাইটের কাজের কথা বলে ৮ লাখ ২৫ হাজার টাকার বিনিময়ে রাশিয়ায় পাঠায়। গত ৭ মে রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর জোর করে রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়। টানা ২১ দিনের প্রশিক্ষণ শেষে তাকেসহ বাংলাদেশী ৩০জনকে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের সম্মুখসারিতে পাঠানো হয়। সেখানে ড্রোন হামলায় রাজনের কোমরের হাড় ভেঙে যায় এবং দুই পায়ের শক্তি হারিয়ে ফেলেন তিনি। চার দিন কষ্ট করে হাসপাতালে পৌঁছে চিকিৎসা নেন রাজন। একপর্যায়ে আহত অবস্থায় তিনি পালিয়ে দূতাবাসের সহায়তায় গত ২৩ আগস্ট দেশে ফিরে আসেন।

তিনি বলেন, এরপর ক্ষতিপূরণ দাবি করলে মিজানুর রহমান ভুক্তভোগীর পরিবারের লোকজনকে গালমন্দ, মারধরের চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকি দেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা কালীগঞ্জ থানায় মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা করেন।

এসআর‌বি কর্মকর্তা বলেন, এই চক্রের হোতারা প্রায় ৩০ জন বাংলাদেশিকে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে রাশিয়াতে পাচার করে। পরে তাদের রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য বাধ্য করা হয়। তাদের মধ্যে প্রায় ২০ জন বাংলাদেশি ইতিমধ্যে মৃত্যু বরণ করেছে এবং ২ জন কোন রকমে পালিয়ে দেশে ফেরৎ আসে।

এছাড়া বাকি ৮ জনের মধ্যে ২ জন আহত হয়ে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২জন। বাকি ৬ জন এখনও যুদ্ধের ময়দানে রয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যুদ্ধের ময়দানে প্রতিপক্ষের অবস্থান শনাক্তকরণের জন্য তাদেরকে পাঠানো হয় এক ধরনের শিকার হিসেবে। যখন প্রতিপক্ষ এদের উপরে আক্রমণ করে, ড্রোন হামলা করে, তখন তারা যেন বুঝতে পারে কতদূর-কোন জায়গা থেকে তাদের উপর আক্রমণটা হলো। ড্রোন দিয়ে অ্যাটাক করা হলো। অর্থাৎ প্রতিপক্ষের অবস্থান শনাক্তকরণ বা লোকেট করার জন্যই মূলত এদেরকে শিকার হিসেবে সেখানে পাঠানো হয়।

এসআরবি জানায়, পাচার চক্রের মূলহোতা মিজান জাবাল-ই-নূর ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সির চেয়ারম্যান।

মিজানের জাবাল-ই-নূর ইন্টারন্যাশনালের মাধ্যমে ২১ জন ভুক্তভোগীকে রাশিয়ায় পাঠানো হয়।

আসাদুজ্জামান ব‌লেন, বাকিদের ওই দেশে পাঠানোর পেছনে মোস্তাফিজুর রহমান ও আলী নামের আরও দুজনের সম্পৃক্ততা পেয়েছি। পাশাপা‌শি পাচার চক্রে হারেস ইন্টারন্যাশনাল ও টিএস গ্রুপ নামের দুটি প্রতিষ্ঠানে সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, ভুক্তভোগী ৩০ জনকেই পাসপোর্ট থেকে শুরু করে, প্লেনে উঠিয়ে দেওয়া পর্যন্ত সব কাজ করেছিল মূলহোতা মিজান। ভুক্তভোগীরা রাশিয়া গিয়ে যখন তাদের কর্মক্ষেত্র সম্পর্কে জানতে পারে তখন ওই ৩০ জন মিজানকে অনুরোধ করেছিল যে আমাদেরকে ভুল জায়গায় আপনারা পাঠিয়েছেন। আমাদেরকে রক্ষা করেন, ফিরিয়ে নিয়ে আসেন। কিন্তু তারা ভুক্তভোগীদের কোন কথা শোনেননি। এই বাংলাদেশ থেকে রাশিয়ায় মানবপাচার চক্রের সঙ্গে রাশিয়ায় দুই ব্যাক্তির জড়িত থাকার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ কৃষি সংবাদ
Theme Customized By Shakil IT Park