1. admin@krishisangbad.com : admin :
  2. siddique149096@bsdi-bd.org : md abu bakar siddique rasim : md abu bakar siddique rasim
তিস্তায় ভাঙন, কাঁচা ধান কেটে খাওয়ানো হচ্ছে গরুকে - কৃষি সংবাদ
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২৮ অপরাহ্ন

তিস্তায় ভাঙন, কাঁচা ধান কেটে খাওয়ানো হচ্ছে গরুকে

  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৭ বার পঠিত

কৃষি সংবাদ প্রতিনিধি, রংপুর:

বর্ষা মৌসুম বিদায় নেয়ার পর চলছে হেমন্তকাল। হেমন্তের আগাম নবান্নে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। দম ধরেছে নদ-নদীর পানি। আর এরইমধ্যে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে বিভিন্ন নদীর অববাহিকায়। ভাঙনে বিলীন হচ্ছে একের পর এক এলাকা। নদী গর্ভে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন অবকাঠামো।

তিস্তাপাড়েও একই চিত্র। অব্যাহত ভাঙনে লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা উপজেলার ডাউয়াবাড়ি ও রংপুরের গঙ্গাচড়ার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের জয়রামওঝা চল্লিশসাল এলাকায় এক সপ্তাহের ব্যবধানে বিলীন হয়েছে ২৭ পরিবারের ঘরবাড়ি। ভেঙে যাচ্ছে ফসলি জমি। কৃষক বাধ্য হয়ে স্বপ্নের আমন ধান কেটে খাওয়াচ্ছেন গবাদি পশুকে। এমনটাই বলেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড লালমনিরহাটের নিবার্হী প্রকৌশলী সুনীল রায় ।

তিনি বলেন, পানি কমার সাথে সাথে ভাঙন তীব্র আকার ধারন করেছে। এ সময় কোনো বরাদ্দ না থাকায় আমরা ব্যবস্থা নিতে পারছি না।

সরেজমিনে দেখা গেছে, তীব্র স্রোতে নদীর পাড় ভেঙে পড়ছে। ভাঙনের মুখে থাকা পরিবারগুলোর কেউ ঘর বাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন, আবার কেউ শেষ মুহূর্তে ঘর রক্ষার চেষ্টা করছেন। কোথাও নদী গর্ভে চলে গেছে বসতভিটা, কোথাও রয়েছে ভাঙনের মুখে। অব্যাহত ভাঙনে ফসলি জমি বিলীন হচ্ছে প্রতিনিয়তই।

ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, সম্প্রতি তিস্তার পানি বাড়ার পর স্রোতের তীব্রতা বেড়ে যায়। পরে পানি কমতে শুরু করলে স্রোতের গতিপথ জয়রামওঝা চল্লিশসাল চরের দিকে ধাবিত হয়।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ওই চরের ২৭টি পরিবার। ভাঙন-আতঙ্কে অনেকে ঘরবাড়ি অন্য জায়গায় সরিয়ে নিয়েছেন। ওই এলাকায় এরইমধ্যে উঠতি আমন ধানসহ অন্তত ৫০ একর ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন অব্যাহত থাকায় চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছেন তারা।

ক্ষতিগ্রস্ত জাহেদুল ইসলাম জানিয়েছেন, কয়েক বছর ধরে জয়রামওঝা চল্লিশসাল চরে বসবাস করে চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন তারা। হঠাৎ তিস্তার স্রোতের গতি পথ চরের দিকে গেলে ভাঙন ব্যাপক আকার ধারণ করে।

লক্ষ্মীটারী ইউপি’র চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, কয়েক দিন ধরে চল্লিশসাল এলাকায় ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। বেশ কয়েকটি পরিবারের বাড়িঘর ও আবাদি জমি বিলীন হয়ে গেছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। তারা ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেসমিন আক্তার জানান, তিস্তার ভাঙনে বেশ কিছু পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের সহায়তা দেয়া হবে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুল হক বলেন, ‘বন্যার পর হঠাৎ করে ওই এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি দেখে ভাঙন রোধকল্পে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

লালমনিরহাট জেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইখুল আরেফিন বলেন, তিস্তার বাম ও ডান তীরে ভাঙন তীব্র হওয়ায় কৃষক বাধ্য হয়ে আমন ধান কেটে গরুকে খাওয়াচ্ছেন। এখন পর্যন্ত সাড়ে ১৭ বিঘা জমির আমন ধান কাঁচাই কেটেছে কৃষক।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ কৃষি সংবাদ
Theme Customized By Shakil IT Park