1. admin@krishisangbad.com : admin :
  2. siddique149096@bsdi-bd.org : md abu bakar siddique rasim : md abu bakar siddique rasim
৮-১৪ এপ্রিল জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ পালন করবে সরকার - কৃষি সংবাদ
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে মন্ত্রণালয়ের সাথে আইসিসিসিএডির সমঝোতা স্মারক সই দেশীয় মাছ সংরক্ষণ এবং মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে কাজ করছে সরকার: মৎস্য প্রতিমন্ত্রী প্রান্তিক খামারিদের স্বার্থে কেন্দ্রীয় মুরগি খামারে উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ টুকুর ১১৭ টি ফিড মিলকে নোটিশ করেছে সরকার রাজধানীর সাত স্থানে ককটেল বিষ্ফোরণসহ বাসে আগুন নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার বন্ধের আহ্বান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর ভেজালমুক্ত পণ্য নিশ্চিত করতে ডিজিটাল সেবা বাড়ানোর তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর রফতানিমুখী কৃষিজ পণ্য উৎপাদনে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির তাগিদ টিসিবির জন্য ১০ হাজার টন মসুর ডাল কিনবে সরকার সৌদি আরব থেকে ১৯৪ কোটি টাকার ইউরিয়া আমদানির অনুমোদন

৮-১৪ এপ্রিল জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ পালন করবে সরকার

  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৫
  • ১৭০ বার পঠিত

কৃষি সংবাদ প্রতিবেদক:

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, ৮ -১৪ এপ্রিল জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ পালন করবে সরকার। এ সময়ে অবৈধ জাল তৈরি, পাচার,  পরিবহণ, মজুদদারি রোধে কাজ করা হবে।

সোমবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে  সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

তিনি সংবাদ সম্মেলনের প্রথমেই গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন জুলাই আন্দোলনে শহীদ এবং আহতদের।  
মৎস্য উপদেষ্টা বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পর থেকেই মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য অধিদপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগে ইলিশের টেকসই উৎপাদন বৃদ্ধিসহ সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে ইলিশকে পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে কার্যকর কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ ০৮ থেকে ১৪ এপ্রিল ২০২৫ পালন করা হবে। এসময়ে ইলিশের মজুদদারী রোধ, পাচার রোধ ও সিন্ডিকেট ভাঙ্গতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে গৃহীত একাধিক মতবিনিময় সভায় আমি নিজে উপস্থিত থেকে বরিশাল, বরগুনা, চাঁদপুরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জেলা সমূহের আড়তদার, পাইকারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের স্টেকহোল্ডারদের সাথে মতবিনিময় করেছি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে অবৈধভাবে ইলিশের পাচার রোধ করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া অবৈধ জাল উৎপাদন বন্ধে কারখানা পর্যায়ে আমরা দৃশ্যমান কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ইলিশ আমাদের জাতীয় মাছ এবং জাতীয় অর্থনীতিতে এর গুরুত্ব অপরিসীম। দেশের কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সাথে ইলিশ ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। জনসাধারণের পুষ্টি চাহিদা পূরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জেলেদের জীবন-জীবিকা নির্বাহ, গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল রাখা এবং দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ইলিশ মাছের গুরুত্ব অপরিসীম। 

২০২৩-২৪ অর্থ বছরে দেশে ইলিশের মোট উৎপাদন ৫.২৯ লক্ষ মে. টন। দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনে ইলিশের অবদান প্রায় ১১ শতাংশ। দেশজ জিডিপিতে ইলিশের অবদান ১ শতাংশের বেশি। বিশ্বের মোট উৎপাদিত ইলিশের প্রায় ৮০ শতাংশের বেশি আহরিত হয় এদেশের নদ-নদী, মোহনা ও সাগর থেকে। ইলিশ উৎপাদনকারী ১১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ শীর্ষ স্থানে রয়েছে। বাংলাদেশের ইলিশ ভৌগলিক নির্দেশক পণ্য তথা জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃত। প্রায় ৬ লক্ষ লোক ইলিশ আহরণে সরাসরি নিয়োজিত এবং ২০-২৫ লক্ষ লোক ইলিশ পরিবহণ, বিক্রয়, জাল ও নৌকা তৈরী, বরফ উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, রপ্তানি ইত্যাদি কাজে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত। তাই ইলিশ সম্পদের উন্নয়নের মাধ্যমে সারাদেশের মানুষের হাতের নাগালে ইলিশ পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকার নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে।

উপদেষ্টা বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ইলিশ সম্পদ রক্ষা ও উন্নয়নে সময়োপযোগী এবং বাস্তবমুখী কার্যক্রম বাস্তবায়নে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তাই ইলিশের টেকসই ও স্থায়িত্বশীল উৎপাদন নিশ্চিত করতে প্রতিবছর জাতীয়ভাবে সমন্বিত কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়ে থাকে। এর ধারাবাহিকতায় মৎস্যজীবী, ইলিশ ব্যবসায়ী, আড়তদার, ভোক্তাসহ সকল শ্রেণির জনগণের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতি বছরের ন্যায় এবছর ০৮ এপ্রিল হতে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত”জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ ২০২৫” পালন করা হবে। এ বছরে জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ হয়েছে ‘জাটকা ধরা বন্ধ হলে, ইলিশ উঠবে জাল ভরে’। জাটকা হচ্ছে ১০ ইঞ্চি বা ২৫ সেন্টিমিটারের ছোট আকারের ইলিশ। ১ কেজি ওজনের ইলিশ কমপক্ষে ৪০-৫০ সেন্টিমিটার এবং ২ কেজির অধিক হলে ৬০-৬২ সেন্টিমিটার হবে। জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহের মাধ্যমে জাটকাকে ইলিশে রূপান্তর করা হবে। 

দেশের ইলিশ সমৃদ্ধ ২০টি জেলায় (ঢাকা, মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুর, মুন্সীগঞ্জ, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, বরগুনা, ঝালকাঠী, চাঁদপুর, লক্ষীপুর, ফেনী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, বাগেরহাট, সিরাগঞ্জ) ‘জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ ২০২৫’ উদযাপন করা হবে। এ লক্ষ্যে সাত দিনব্যাপী কেন্দ্রীয় এবং মাঠ পর্যায়ে অর্থাৎ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে উপযোগী কর্মসূচি পালিত হবে। এ বছর জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহের উদ্বোধন অনুষ্ঠান আগামী ০৮ এপ্রিল বরিশাল বিভাগের ইলিশ সমৃদ্ধ অন্যতম জেলা বরিশাল জেলার সদর উপজেলার বেলস্ পার্কে অনুষ্ঠিত হবে এবং বরিশাল সদর উপজেলার ডিসি ঘাট সংলগ্ন কীর্তনখোলা নদীতে নৌ র‍্যালি অনুষ্ঠিত হবে।

বঙ্গোপসাগরে সকল প্রকার মাছ আহরণ নিষিদ্ধ

সামুদ্রিক মৎস্য বিধিমালা-২০২৩ এর ৩(১) বিধি অনুযায়ী বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের জলসীমায় প্রতি বৎসর ২০ মে হতে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ (পঁয়ষট্টি) দিন সকল প্রকার মৎস্য নৌযান কর্তৃক যে কোন প্রকার মৎস্য ও ক্রাস্টাশিয়ান্স আহরণ নিষিদ্ধ করা হয়। এর ফলে সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ আহরণ ১২.৭৮% বৃদ্ধির রেকর্ড রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে মৎস্য বিজ্ঞানী, মৎস্যজীবী, জেলে ও মৎস্য আহরণকারী সংগঠন কর্তৃক বর্ণিত সময়কাল পরিবর্তনের দাবি উত্থাপিত হয়। তারা যুক্তি উত্থাপন করে জানান যে, জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ দূষণ, লবণাক্ততাসহ বিভিন্ন কারণে সামুদ্রিক মাছের প্রজননকাল পরিবর্তন হয়েছে।

এ প্রেক্ষিতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় হতে একটি টেকনিকাল কমিটি গঠন করা হয় যাতে সামুদ্রিক মৎস্য বিজ্ঞানে বিশেষজ্ঞ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী, মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের প্রতিনিধিবৃন্দ অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। এ কমিটি বিজ্ঞানসম্মত তথ্যাদি যাচাই করে বঙ্গোপসাগরে মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধকাল ১৫ এপ্রিল হতে ১১ জুন পর্যন্ত ৫৮ (আটান্ন) দিন নির্ধারণের সুপারিশ করে। এ সুপারিশের প্রেক্ষিতে সরকার বিগত ১৬ মার্চ ২০২৫ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।

যার ফলে, সামুদ্রিক মৎস্য বিধিমালা ২০২৩ সংশোধন করে সামুদ্রিক মৎস্য সংরক্ষণ ও টেকসই মৎস্য আহরণের জন্য প্রতি বছর ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত মোট ৫৮ (আটান্ন) দিন সকল প্রকার মৎস্য নৌযান কর্তৃক বঙ্গোপসাগরে মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ইলিশ সম্পদ রক্ষা ও উন্নয়নে সরকার বর্তমানে যে সকল কার্যক্রম গ্রহণ করেছে তা হলো-

জাটকা ও মা ইলিশ রক্ষায় সর্বস্তরের জনগণকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে সচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণার নানারকম উদ্যোগ গ্রহণ; এর আওতায় প্রতি বছর জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ উদযাপন করা হয়ে থাকে;

ইলিশের বিজ্ঞানভিত্তিক প্রজনন সময় নির্ধারণ করে মা ইলিশ আহরণের নিষিদ্ধ সময় ২২ দিন করা হয়েছে।

ইলিশের পোনা জাটকা যেন নিরাপদে বৃদ্ধি লাভ করতে পারে তাই ১ নভেম্বর হতে ৩০ জুন পর্যন্ত সারাদেশব্যাপী জাটকা ধরা, পরিবহন, মজুদ, ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ করা হয়েছে;

দেশের ইলিশ সমৃদ্ধ প্রধান প্রধান নদ-নদীতে ৬টি ইলিশ অভয়াশ্রম স্থাপন করা হয়েছে এবং এসকল অভয়াশ্রমে বছরের নির্দিষ্ট সময়ে ইলিশসহ সকল প্রকার মাছ ধরা বন্ধ রাখা হয়;

মা ইলিশ এবং জাটকা আহরণ নিষিদ্ধকালে জেলেদের জীবনধারণের জন্য প্রতিবছর ভিজিএফ খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে এবং জাটকা আহরণে বিরত অতি দরিদ্র জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে চাহিদামাফিক নানা প্রকার উপকরণ বিতরণ করা হচ্ছে;

ইলিশসহ উপকূলীয় অন্যান্য মৎস্য প্রজাতি ও জলজ জীব রক্ষায় ২০১৯ সালে নিঝুম দ্বীপ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় ৩ হাজার ১৮৮ বর্গ কি.মি. আয়তনের সামুদ্রিক সংরক্ষিত (MPA) অঞ্চল ঘোষণা করা হয়েছে

জেলে ও মৎস্যজীবীদের জীবনমান উন্নয়ন এবং উপকূলীয় ও সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদের কাঙ্খিত উন্নয়নে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় মৎস্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে ‘সাসটেইনেবল কোস্টাল এন্ড মেরিন ফিশারিজ প্রজেক্ট ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে;

মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন যুগোপযোগী করার নিমিত্ত সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে;

 ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে “ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প” বাস্তবায়ন করছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

 মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য প্রাথমিক অবস্থায় দুটি দেশ সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে মোট ১১ হাজার মেট্রিক টন ইলিশ রপ্তানির জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করেছে।

ইলিশ সম্পদ উন্নয়নে সরকারের নানামুখী সমন্বিত কার্যক্রম বাস্তবায়নের ফলে ইলিশের উৎপাদন ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলেছে। প্রতি বছর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, পুলিশ, র‍্যাব, নৌ-পুলিশ এবং মৎস্য অধিদপ্তর কর্তৃক সম্মিলিতভাবে আইন বাস্তবায়ন করা হয়। সরকার মৎস্য সংরক্ষণ আইনের সময়োপযোগী সংশোধন করেছে। জাটকাকে ইলিশে পরিনত করার জন্য এই নিষিদ্ধ সময়ে সাগরের উপকূলবর্তী এলাকাসহ সকল নদ-নদী, মাছ ঘাট, মৎস্য আড়ত ও বাজারে অবিরত অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। এর ফলশ্রুতিতে ‘জাটকা’ আজ নিম্ন মেঘনা হতে পদ্মা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, সুরমায় বিস্তৃতি লাভ করেছে। পদ্মা নদীর দুই পাড়ের জেলাসমূহ যেমন-ফরিদপুর, রাজবাড়ী, পাবনা, কুষ্টিয়া, নাটোর, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং যমুনা নদীর তীরবর্তী জেলা সিরাজগঞ্জ, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়েছে। জাটকা ও মা ইলিশ রক্ষায় চলমান কার্যক্রমসমূহ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে সারা বছর ইলিশের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। এবার বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধি পেলে দাম নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।

ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান অন্তরায় হচ্ছে কারেন্ট জাল, বেহুন্দি জালসহ অন্যান্য অবৈধ জাল ব্যবহার। কারেন্ট জাল ৬৭১.১৬ লক্ষ মিটার, বেহুন্দি ও অন্যান্য জাল ১৭,৭৫১ টি পোড়ানো হয়েছে যার বাজার মূল্য আনুমানিক ১০ কোটি ৩৮ লক্ষ টাকা। মাঠ পর্যায়ের তথ্যমতে জাটকা সংরক্ষণ অভিযান পরিচালনার ফলে অভয়াশ্রম এলাকায় স্থানভেদে ৬০-৯০%, অভয়াশ্রমের বাইরের এলাকায় ৩০-৫০%, সার্বিকভাবে ৫০% অবৈধ জালের ব্যবহার কমেছে। নির্বিচারে জাটকা নিধন রক্ষায় প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি আইন বাস্তবায়নও জোরদার করা হচ্ছে। বিশেষ করে যেসকল জাল জাটকা ধ্বংসে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর সেসব জাল ধ্বংসে বিগত কয়েক বছর লাগাতারভাবে “বিশেষ কম্বিং অপারেশন” পরিচালনা হচ্ছে। চলতি বছর জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি দুই মাস ৪টি ধাপে সর্বমোট ৩০ দিন দেশের ১৮টি জেলার ৯৬টি উপজেলায় বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সহায়তায় ‘বিশেষ কম্বিং অপারেশন-২০২৫’ পরিচালনা করা হয়েছে। জাটকা রক্ষায় দেশব্যাপী নিয়মিত অভিযান জুন’২০২৫ পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

সরকার জাটকা রক্ষায় কেবল আইন প্রয়োগ করছে না বরং এই মাছ ধরা নিষিদ্ধ সময়ে জেলেদের জন্য ভিজিএফ খাদ্য সহায়তার পরিমাণ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করেছে। জাটকা আহরণ নিষিদ্ধকালীন সময়ে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে জাটকা আহরণে বিরত ৩ লক্ষ ৬১ হাজার ৭১ টি জেলে পরিবারকে মাসিক ৪০ কেজি হারে ৪ মাসে ২৮ হাজার ৮৮৫ মে.টন ভিজিএফ চাল বিতরণ করা হয়েছে। ইলিশের প্রধান মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৫ লক্ষ ৬৬ হাজার ৫৬৫টি জেলে পরিবারকে ২৫ কেজি হারে খাদ্য সহায়তা হিসেবে মোট ১৩ হাজার ৭০৭

মে.টন ভিজিএফ (চাল) দেয়া হয়েছে। ভিজিএফ সহায়তা দেয়ার পাশাপাশি জেলেদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে “ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প” এর মাধ্যমে জেলেদেরকে তাদের চাহিদানুযায়ী বকনা বাছুরসহ নানা প্রকার উপকরণ সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

ইলিশ সম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশের সকল মানুষের হাতের নাগালে ইলিশ মাছ পৌঁছে দিতে চাই। একইসাথে দেশের চাহিদা পূরণের পর বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে চাই। এ লক্ষ্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ কাজে মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন মৎস্য অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট, সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, পুলিশ, নৌপুলিশ, র‍্যাব, আনসার-ভিডিপি ও বিজিবি সরাসরি সম্পৃক্ত থেকে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে। সরকারের এ প্রচেষ্টায় সকলের অংশগ্রহণ প্রযোজন। মা ইলিশ রক্ষা ও জাটকা নিধন বন্ধে আপামর জনগণকে সচেতনতা ও উদ্বুদ্ধকরণের জন্য আমাদের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া তথা সাংবাদিক ভাই-বোনেরা বিগত সময়ে যে বলিষ্ঠ ভূমিকা গ্রহণ করেছেন তার জন্য আমি আপনাদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। এ কার্যক্রমের সফল বাস্তবায়নে সরকারি প্রচেষ্টার পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং আপামর জনসাধারণ বিশেষ করে মৎস্যজীবী সম্প্রদায় ও ভোক্তাদের আন্তরিক সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন। দেশবাসীর কাছে অনুরোধ থাকবে, আপনারা জাটকা আহরণ, ক্রয়-বিক্রয় এবং খাওয়া থেকে বিরত থেকে জাতীয় মাছ ইলিশের উন্নয়নে এগিয়ে আসবেন। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ‘জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ ২০২৫’ সফল ও স্বার্থক হয়ে উঠবে বলেও প্রত্যাশা করেন উপদেষ্টা।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ কৃষি সংবাদ
Theme Customized By Shakil IT Park