সুমন ইসলাম :
মাটির উপরে নির্ভর করছে ফসলের সঠিক উৎপাদন। মাটির এই গুনাগুন পরীক্ষার মাধ্যমে সুষম সার ব্যবহারসহ কৃষকদের ৫ বছরের সার ব্যবস্থাপনায় ভ্রাম্যমাণ গবেষণাগার ছুটে চলছে দেশের ৪৯ জেলার ৫৬টি উপজেলায়। মাটি পরীক্ষার কর্মসূচি হাতে নিয়ে মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট (এসআরডিআই) এই কাজটি করে যাচ্ছে। এই কর্মসূচির আওতায় ১০টি ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগার দেশের মাটি পরীক্ষা করছে বলে এসআরডিআই থেকে জানাগেছে। ‘মাটি পরীক্ষার মাধ্যমে সুষম সার ব্যবহার করুন, অধিক ফসল ঘরে তুলুন’ এই স্লোগান নিয়ে চলছে ভ্রাম্যমাণ মাটি পরীক্ষা কর্মসূচি।
কৃষকেরা কাছ থেকে নাম মাত্র ২৫ টাকা ভর্তুকি মূল্যে (প্রকৃত খরচ ৪৪০ টাকা) ফসলি জমির মাটি পরীক্ষা করা হচ্ছে। ইনস্টিটিউটের কর্মীরা মাটি পরীক্ষার পর সার সুপারিশ সম্বলিত কার্ড সরবরাহ করছেন কৃষকদের।
এসআরডিআইয়ের তথ্য অনুসারে, ভ্রাম্যমাণ মৃত্তিকা পরীক্ষা গবেষণাগার (এমএসটিএল) রবি-২০২৪ মৌসুমের কর্মসূচি ১৭ নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছে। যেটি আগামী ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। ১০ টি নদীর নামে নামকরণ করা গবেষণাগারগুলো হলো যমুনা, তিতাস, রূপসা, তিস্তা, মধুমতী, কর্ণফুলী, ব্রহ্মপুত্র, কীর্তনখোলা, সুরমা ও করতোয়া। গবেষণায় মাটির বিশ্লেষণযোগ্য উপাদানগুলো হলো পিএইচ, ইসি, নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়াম, গন্ধক, জিংক ও বোরন।
গবেষণাগার ‘যমুনা’ মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী, নেত্রকোনার দুর্গাপুর, ফেনীর সোনাগাজী, লক্ষ্মীপুরের রামগতিসহ ছয়টি উপজেলায় অবস্থান করবে গবেষণাগার ‘তিতাস’। ‘তিস্তা’ নাটোরের সিংড়া, সিরাজগঞ্জের শাহাজাদপুরসহ ছয়টি উপজেলা, ‘কর্ণফুলী’ চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি, কক্সবাজারের চকরিয়াসহ ছয়টি উপজেলা, ‘ব্রহ্মপুত্র’ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার, জামালপুরের বকশীগঞ্জসহ ছয়টি উপজেলা, ‘করতোয়া’ রংপুরের গঙ্গাচড়া, ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জসহ ছয়টি উপজেলায় মাটির গুণাগুণ পরীক্ষা করেছে। ‘মধুমতী’ শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ, মাদারীপুর সদরসহ চারটি উপজেলা, গবেষণাগার ‘কীর্তনখোলা’ বরিশালের গৌরনদী, পটুয়াখালীর দুমকীসহ চারটি উপজেলা, ‘সুরমা’ সিলেটের কানাইঘাট, মৌলভীবাজারের বড়লেখাসহ চারটি উপজেলা। এ ছাড়া গবেষণাগার ‘রূপসা’ মেহেরপুরের মুজিবনগর, কুষ্টিয়ার দৌলতপুরসহ আটটি উপজেলায় মাটি পরীক্ষা করে চাষীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবেন।
মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট ভ্রাম্যমাণ গবেষণাগারের মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ে প্রথম মাটির গুণাগুণ পরীক্ষা শুরু করে ১৯৯৬ সালে। শুরুর দিকে মাত্র দুটি ভ্রাম্যমাণ গবেষণাগার থাকলেও পরে তা ১০টিতে উন্নীত হয়। এসআরডিআই প্রতিবছর নতুন নতুন উপজেলায় মাটি পরীক্ষার কর্মসূচি হাতে নেয়।
জানতে চাইলে এসআরডিআইয়ের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোঃ ফারুক হোসেন বলেন, ভ্রাম্যমাণ গবেষণাগার ও লোকবলসংকটের কারণে নির্ধারিত কিছু উপজেলায় মাটির গুণাগুণ পরীক্ষার কাজ চলছে। কৃষকদের সার ব্যবহারের ওপর প্রশিক্ষণ ও সার সুপারিশ কার্ডের নির্দেশনা অনুসারে পাঁচ বছর জমিতে ফসল চাষ করতে পারবেন।