কৃষি সংবাদ প্রতিবেদক:
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিতে প্রান্তিক মানুষকে কিছুটা হলেও লাঘবে চেষ্টা হিসেবে আমাদের এই উদ্যোগ। স্বশ্রয়ী মূল্যে হলেও এটি নিরাপদ করতে হবে।
শুক্রবার রাজধানীর রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় সিরাজ মিয়া মেমোরিয়াল মডেল স্কুল প্রাঙ্গণে এ বিক্রয় কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, শ্লটার হাউজগুলোকে নিরাপদ করার জন্য সিটি করপোরেশনকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
উপদেষ্টা বলেন, রমজানে যারা অকারণে দ্রব্য বা খাদ্যমূল্য বৃদ্ধি করছে তাদের বিরুদ্ধে স্বোচ্চার হতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের এগিয়ে আসতে হবে।
বাংলাদেশ ডেইরি এন্ড ফ্যাটেনিং ফারমার্স এসোসিয়েশনের (বিডিএফএফএ)সভাপতি মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন বলেন, রমজানে সুলভমূল্যে মাংসসহ কিছু পণ্য বিক্রির কার্যক্রম শুরু করেছে। আমরা সরকারের এই কার্যক্রমে অংশ নিয়ে নিম্ন আয়ের মানুষকে গরু ও খাসির মাংস সরবরাহের উদ্যোগ নিচ্ছি প্রান্তিক খামারীদের এই সঙগঠন। এর ফলে নিম্ন আয়ের মানুষ রমজানে মাংস কিনে খাওয়ার স্বক্ষমতা তৈরি হবে। তবে আমাদের এই মাংস সরবরাহে সরকারি খামার থেকেও আমাদের সহায়তা দিচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, প্রাণিসম্পদের উন্নয়নে সরকারকে আরো এগিয়ে আসতে হবে। তবেই আমাদের উন্নয়ন, ফলে নিশ্চিত করবে ভালো সরবরাহ। ভালো হলে সরবরাহ। গো খাদ্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে অনেক খামারীরা কষ্টে আছে। আমাদের উৎপাদন কমে গেছে। সরকরি ক্ষেত্রে প্রাণিস্বাস্থ্যের জন্য প্রযোজনীয় ভ্যাকসিক উৎপাদন ও সরবরাহে এগিয়ে আসতে হবে। এক্ষেত্রে উপকৃত হবে দেশের প্রান্তিক খামারিরা। উন্নয়নের আরো একটিরপ্রতিবন্ধকতা হচ্ছে খাদ্যউপকরণ আমদানি করা। এক্ষেত্রেও রয়েছে বৈষম্য। এগুলো সমাধানের উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগি হওয়ার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিলের (বিপিআইসিসি) সভাপতি শামসুল আরেফিন খালেদ বলেন, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা। এজন্য কাজ করছি। এই সেক্টরে কনজামশন সমভাবে হচ্ছে না। ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে না আসায় এ সমস্যা হচ্ছে। এজন্য স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া প্রযোজন। সুলভে পণ্য বিক্রির এই কার্যক্রম সারাবছরই চালু রাখা প্রয়োজন।
তিনি আরো বলেন, মধ্যস্বত্ত্ব ভোগীদের বিষয়ে তদারকির ব্যবস্থা জোড়দার করা প্রয়োজন। এজন্য যৌথভাবে কাজ করার তাগিদ দিয়েছেন। রমজানে ত্যাগের মহীমায় আমাদের এগিয়ে আসতে হবে , যাতে সারা দেশেই দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়।
প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা জানান, ১লা রমজান থেকে ২৮শে রমজান পর্যন্ত ঢাকা শহরে ড্রেসড ব্রয়লার, ডিম, পাস্তুরিত দুধ ও গরুর মাংস এবং সারাদেশে ব্রয়লার, ডিম, পাস্তুরিত দুধ, গরুর মাংস ও খাসির মাংস সুলভ মূল্যে ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এ কার্যক্রমে দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাত প্রতিষ্ঠানসহ অন্যানা অংশীজন এবং প্রান্তিক খামারিগণ সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করবেন।
প্রাণিজ পণ্যের সুলভ মূল্য ড্রেসড ব্রয়লার মাংস (প্রতি কেজি) ২৫০ টাকা, দুখ পাস্তুরিত (প্রতি লিটার) ৮০ টাকা,ডিম (প্রতি ডজন) ১১৪ টাকা, গরুর মাংস (প্রতি কেজি) ৬৫০ টাকায় বিক্রি করা হবে।
ঢাকা শহরের ২৫ টি স্থানে সুলভ মূল্যে প্রাণিজাত পণ্য বিক্রয়ের ক্ষেত্রে জুলাই বিপ্লবের সময় যে সকল স্থানে সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহন বেশি ছিল সে সকল স্থানকে অগ্রাধিকার প্রদান করা হয়েছে এবং বস্তি এলাকায় বিক্রির ব্যবস্থা করা হবে। এই এলাকাগুলো হচ্ছে-
১। সচিবালয়ের পাশে (আব্দুল গণি রোড), ২। খামারবাড়ী (ফার্মগেট),৩। ঘাটফুট রোড (মিরপুর),৪। আজিমপুর মাতৃসদন (আজিমপুর), ৫। নয়াবাজার (পুরান ঢাকা), ৬। বনশ্রী,৭। হাজারীবাগ (সেকশন),৮। আরামবাগ (মতিঝিল),৯। মোহাম্মদপুর (বাবর রোড),১০। কালশী (মিরপুর),১১। যাত্রাবাড়ী (মানিক নগর গলির মুখে),১২। শাহাজাদপুর (বাড্ডা),১৩। কড়াইল বস্তি, বনানী, ১৪। কামরাঙ্গীর চর, ১৫। খিলগাঁও (রেল ক্রসিং দক্ষিণে) ১৬। নাখাল পাড়া (লুকাস মোড়),১৭। সেগুন বাগিচা (কাঁচা বাজার),১৮। বসিলা (মোহাম্মদপুর),১৯। উত্তরা (হাউজ বিল্ডিং),২০। রামপুরা (বাজার),২১। মিরপুর ১০ ২২। কল্যাণপুর (ঝিলপাড়),২৩। তেজগাঁও,২৪। পুরান ঢাকা (বঙ্গবাজার), ২৫। কাকরাইল।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মোঃ আবু সুফিয়ানের সভাপতিত্বে এসময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ( রুটিন দায়িত্ব) মোঃ তোফাজ্জেল হোসেন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ, বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন লিমিটেডের (মিল্ক ভিটা) চেয়ারম্যান কমান্ডার জাহিরুল আলিম, এলডিডিপির প্রকল্প পরিচালক মো. জসিম উদ্দিনসহ বৈষম্য বিরোধী ছাত্র প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।