কৃষি সংবাদ প্রতিবেদক:
আসন্ন রমজানে ডিম এবং মুরগির মাংসের দাম ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যেই থাকবে বলে জানিয়েছেন, ওয়ার্ল্ড পোল্ট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশনের বাংলাদেশ শাখার সেক্রেটারি মশিউর রহমান।
বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ফিশারিজ অ্যান্ড লাইভস্টক জার্নালিস্ট ফোরাম (এফএলজেএফ) আয়োজিত ‘বিল্ডিং এ রেজিলিয়েন্ট পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রি ইন বাংলাদেশ: ইভ্যালুউশন,চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড স্ট্রাটেজিস’ শীষর্ক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আশা করেছেন।
মশিউর রহমান বলেন, ঈদের আগে চাঁদরাতে বাজারে বেশ চাপ থাকে। পণ্যের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সবকিছুর দামও বেড়ে যায়। তাই এ বিষয়টি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। আর এই দুই দিনের জন্য এক্সট্রা ডিম উৎপাদনও করা যায় না। তবে আমরা আশা করছি ক্রয়ক্ষমতার মধ্যেই থাকবে।
তিনি বলেন, সস্তায় ডিম বিক্রি করার কথা যখন আমরা বলি, তখন অনেকেই প্রশ্ন করেন তা কীভাবে সম্ভব। যে দেশগুলো ইতিমধ্যে ইনভেস্টমেন্ট ও ডেভলপমেন্ট করে ফেলেছে, সেসব ডেভেলপমেন্ট আমাদের দেশেও করা হয়ে গেছে, এটা হয়ত অনেকেরই জানা নেই। আমরা লেটেস্ট টেকনোলজি নিয়ে এসেছি। টেকনোলজির এক্সিবিশন দেখার জন্য আগে আমরা বাইরের দেশে যেতাম, এখন বাইরের দেশ থেকে আমাদের দেশে আসছে এক্সিবিশন দেখার জন্য।
তিনি আরও বলেন, একটা গরু যে পরিমাণ মাংস দেয়, একটা মুরগি সে পরিমাণ মাংস দেয় না। আমরা ওয়েস্ট কম্পোস্টের পরিকল্পনা করছি। বড় বড় কোম্পানিগুলো যে পরিমাণ ওয়েস্ট কম্পোস্ট করে, তাতে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। এতে ওয়েস্ট কন্ট্রোলও হচ্ছে, কার্বন ইমিউশনও হবে।
ওয়াপসা-বাংলাদেশ শাখার সভাপতি মসিউর রহমান আরো বলেন, আসন্ন রমজানে ডিম ও মুরগির মাংসের দাম সহনশীল থাকবে। আমরা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় কেন্দ্রের মাধ্যমে পুরো রমজান মাস সুলভ মূল্যে ডিম ও মুরগি বিক্রি করবো।
সেমিনারের মূল প্রবন্ধে ওয়াপসা-বাংলাদেশ শাখার সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব কুমার প্রামাণিক বলেন, ২০২০ সালের পর ফিডের উৎপাদন বেশ খানিকটা হ্রাস পেয়েছিল। গত বছর উৎপাদন কিছুটা বেড়েছে। আশাকরা যায় চলতি বছরে আরও বাড়বে অর্থাৎ ডিম-মুরগির উৎপাদনও বাড়বে।
তিনি বলেন, যেকোনো কিছু খেলেই হবে না, খাদ্যকে অবশ্যই স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ হতে হবে। যেহেতু আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ মধ্যম আয়ের, এ কারণে ডিম কিংবা মুরগির মাংস কীভাবে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা যায়, এ লক্ষ্যে অবিরাম কাজ করছে ওয়াপসা বাংলাদেশ শাখা।
ব্রিডার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (বিএবি) সভাপতি মাহাবুবুর রহমান বলেন, বিগত সরকারের আমলে খামারিদের লোকসান হলেও তা জোর গলায় বলার মত পরিস্থিতি ছিল না। সে সময় যারাই পোল্ট্রি এসোসিয়েশনের নেতৃত্বে সামনে এসেছিলেন তাদের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এখনও অনেকগুলো মামলা নিস্পত্তি হয়নি। এর রকম পরিস্থিতি আমরা আর দেখতে চাই না।
মাহাবুব বলেন- সরকার ডিমের খুচরা মূল্য ১১.৮৭ টাকা নির্ধারণ করেছেন কিন্তু বাজারে বিক্রি হচ্ছে মাত্র সাড়ে ১০ টাকায়। সামনের রমজানে দাম আরও কমার আশংকা রয়েছে। এ লোকসান সামাল দেয়া তৃণমূল খামারিদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই তাঁদের সাহায্যার্থে সরকারসহ সংশ্লিষ্টদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
ফিড ইন্ডাষ্ট্রিজ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, খামারি ও উদ্যোক্তাদের ঝরে পড়া ঠেকাতে হবে, পোল্ট্রি শিল্পকে টেকসই ও মজবুত ভিতের উপর দাঁড় করাতে হবে।
সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন ডিবিসি নিউজের সম্পাদক লোটন একরাম, আরটিভির হেড অব নিউজ ইলিয়াস হোসেন, এফএলজেএফের সভাপতি, সেক্রেটারিসহ ফোরামের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন ।