1. admin@krishisangbad.com : admin :
  2. siddique149096@bsdi-bd.org : md abu bakar siddique rasim : md abu bakar siddique rasim
মাছের উচ্ছিস্ট থেকে হাজার কোটি টাকা আয়ের হাতছানি, প্রয়োজন সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা - কৃষি সংবাদ
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে মন্ত্রণালয়ের সাথে আইসিসিসিএডির সমঝোতা স্মারক সই দেশীয় মাছ সংরক্ষণ এবং মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে কাজ করছে সরকার: মৎস্য প্রতিমন্ত্রী প্রান্তিক খামারিদের স্বার্থে কেন্দ্রীয় মুরগি খামারে উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ টুকুর ১১৭ টি ফিড মিলকে নোটিশ করেছে সরকার রাজধানীর সাত স্থানে ককটেল বিষ্ফোরণসহ বাসে আগুন নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার বন্ধের আহ্বান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর ভেজালমুক্ত পণ্য নিশ্চিত করতে ডিজিটাল সেবা বাড়ানোর তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর রফতানিমুখী কৃষিজ পণ্য উৎপাদনে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির তাগিদ টিসিবির জন্য ১০ হাজার টন মসুর ডাল কিনবে সরকার সৌদি আরব থেকে ১৯৪ কোটি টাকার ইউরিয়া আমদানির অনুমোদন

মাছের উচ্ছিস্ট থেকে হাজার কোটি টাকা আয়ের হাতছানি, প্রয়োজন সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা

  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৭ মার্চ, ২০২৫
  • ২৩০ বার পঠিত

তরিকুল ইসলাম সুমন :

কম দামে আমিসের চাহিদা পূরণে অন্যতম অনুসংগ হচ্ছে মাছ। দেশের প্রায় সব জায়গায় কম বেশি মাছের প্রাপ্যতা রয়েছে। মাছ কাটার সময় বেশ কিছুটা অংশ আমরা অপ্রয়োজনীয় বর্জ্য হিসেবে ফেলে দেই। কিন্তু সময়ের প্রয়োজনে এসব ফেলে দেওয়া বর্জ্য ও হতে পারে অমূল্য ও অর্থআয়ের উপকরণ। 

মাছের উচ্ছিস্ট (Fish Waste) আজ ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি মূল্যের একটি শিল্পে পরিণত হয়েছে। মাছের মাথা, চামড়া, পাখনা, নাড়িভুঁড়ি ও আঁশ থেকে উৎপাদিত ফিশ মিল, ফিশ অয়েল, কোলাজেন, চিটোসান ও অন্যান্য মূল্যবান পণ্য বিশ্বজুড়ে ব্যাপক চাহিদা সৃষ্টি করেছে।

বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, পেরু, চীন ও থাইল্যান্ড মাছের উচ্ছিস্টকে কাজে লাগিয়ে বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা করছে। চীন, ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এসব পণ্যের প্রধান আমদানিকারক।

এবার আসুন জেনে নেই বিশ্বব্যাপী মাছের উচ্ছিস্ট শিল্পের বাজার পরিসংখ্যান (২০২৪-২৫)

মোট বাজার মূল্য: ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বছরে উৎপাদিত মাছের ইচ্ছিস্ট পরিমাণ: ২০-৩০ মিলিয়ন টন প্রধান উৎপাদনকারী দেশ: পেরু, চীন, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম প্রধান আমদানিকারক দেশ: চীন, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, ইউরোপের দেশসমূহ

মাছের উচ্ছিস্ট থেকে উৎপাদিত পণ্যের বাজার মূল্য

ফিশ মিল (Fish Meal): ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ৫.৮%) ফিশ অয়েল (Fish Oil): ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ৬.৩%) কোলাজেন ও জেলাটিন: ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ৭.২%) চিটোসান (Chitosan): ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ৮.১%) অ্যাকুয়াকালচার ফিড: ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ৬.৫%)

মাছের উচ্ছিস্ট থেকে উৎপাদিত পণ্যের রপ্তানি বাজার
ফিশ মিল (Fish Meal) রপ্তানি ব্যবহার: মাছ ও পোলট্রি খাদ্য প্রধান রপ্তানিকারক দেশ: পেরু, চীন, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ প্রধান আমদানিকারক দেশ: চীন, ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র রপ্তানি মূল্য (প্রতি টন): ১২০০-২০০০ মার্কিন ডলার

ফিশ অয়েল (Fish Oil) রপ্তানি
ব্যবহার: ওষুধ, স্বাস্থ্য পণ্য প্রধান রপ্তানিকারক দেশ: নরওয়ে, পেরু, চীন প্রধান আমদানিকারক দেশ: ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান  রপ্তানি মূল্য (প্রতি লিটার): ২০-৮০ মার্কিন ডলার
কোলাজেন ও জেলাটিন রপ্তানি
 ব্যবহার: প্রসাধনী, ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্প প্রধান রপ্তানিকারক দেশ: ভারত, ব্রাজিল, থাইল্যান্ড প্রধান আমদানিকারক দেশ: ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান রপ্তানি মূল্য (প্রতি কেজি): ১০-২০০ মার্কিন ডলার
চিটোসান রপ্তানি
 ব্যবহার: কৃষি, ঔষধ ও পানিশোধন শিল্প প্রধান রপ্তানিকারক দেশ: চীন, ভারত, থাইল্যান্ড প্রধান আমদানিকারক দেশ: যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, জাপান রপ্তানি মূল্য (প্রতি কেজি): ২০-১০০ মার্কিন ডলার

বাংলাদেশের রপ্তানি বাজার (২০২৪-২৫)

বাংলাদেশে বার্ষিক মাছের ইচ্ছিস্ট উৎপাদন: ৬-৮ লাখ টন বাংলাদেশের বার্ষিক ফিশ মিল উৎপাদন: ১০,০০০-১৫,০০০ টন প্রধান রপ্তানি বাজার: চীন, থাইল্যান্ড, ভারত বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি মূল্য (প্রতি টন): ১৩০০-১৭০০ মার্কিন ডলার
ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানি বাজার (২০২৪-২৫)
বার্ষিক ফিশ মিল উৎপাদন: ১.৫-২ মিলিয়ন টন প্রধান বাজার: চীন, ভিয়েতনাম, জাপান ফিশ অয়েলের বার্ষিক উৎপাদন: ৫০০,০০০ টন

মাছের উচ্ছিস্ট রপ্তানি শুরু করতে যা যা দরকার

কাঁচামাল সংগ্রহ ও প্রসেসিং প্ল্যান্ট মাছের বাজার, প্রসেসিং কারখানা ও ট্রলার থেকে মাছের ইচ্ছিস্ট সংগ্রহ উন্নত মানের প্রসেসিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে ফিশ মিল, ফিশ অয়েল ও অন্যান্য পণ্য তৈরি
আন্তর্জাতিক মানের প্রশংসাপত্র সংগ্রহ  HACCP (Hazard Analysis and Critical Control Points)  ISO 22000 (Food Safety Management System) GMP (Good Manufacturing Practice) EU Health Certificate
রপ্তানি প্রক্রিয়া ও মার্কেটিং আন্তর্জাতিক বায়ার ও ট্রেডিং কোম্পানির সঙ্গে সংযোগ Alibaba, TradeIndia, ExportHub, Global Sources প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বায়ার খোঁজা রপ্তানি অনুমোদনের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগে আবেদন করা

মাছের উচ্ছিস্ট রপ্তানির চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা

আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা কাঁচামালের প্রাপ্যতা ও মৌসুমী সীমাবদ্ধতা পরিবেশবান্ধব প্রক্রিয়াকরণ নিশ্চিত করা

বিশ্বব্যাপী অ্যাকুয়াকালচার ও পশুখাদ্য শিল্পের চাহিদা বৃদ্ধি নতুন বাজার যেমন মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকায় প্রবেশের সুযোগ ই-কমার্স ও অনলাইন ট্রেডিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সরাসরি রপ্তানি মাছের উচ্ছিস্ট এখন বর্জ্য নয়, এটি একটি বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি খাত। সঠিক পরিকল্পনা সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রযুক্তি ব্যবহার করলে বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলো এই বাজার থেকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারে।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ কৃষি সংবাদ
Theme Customized By Shakil IT Park