সুমন ইসলাম
দেশের মৎস্য সম্পদের উন্নয়নে কাজ করছে সরকার। এরই ধারাবাহীকতায় দেশের সকল সরকারি খামার ও এর অবকাঠামো উন্নয়ন, খামারের যান্ত্রিকীকরণ, সরকারি খামার সমূহের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি, খামারি ও হ্যাচারী মালিকদের উন্নয়নে ‘বিদ্যমান সরকারি মৎস্য খামার সমূহের সক্ষমতা ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (১ম পর্যায়)’ বাস্তবায়ন কাজ চলছে। দেশের ৩১ টি খামার সংস্কার ও উন্নয়ন কাজ ত্বরান্তিত করার জন্য চলতি মাসে একটি কমিটি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালক মো. মশিউর রহমান।
তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো সরকারি খামার গুলো উন্নয়নের মাধ্যমে আগামী ২০২৮ সালের মধ্যে দেশে মাছের উৎপাদন ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি করা। এছাড়াও প্রযুক্তি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে খামারে উন্নত মৎস্য প্রযুক্তি স্থাপন, উন্নত কৌলিতাত্ত্বিক গুণসম্পন্ন প্রজননক্ষম মাছ সংরক্ষণ এবং মৎস্য খামারে নিয়োজিত জনবলের কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধিকল্পে দক্ষতা উন্নয়ন।
প্রকল্প পরিচালক আরো বলেন, মৎস্য অধিদপ্তরের বিদ্যমান ৩১ টি খামার সংস্কার ও ৩১টি খামারের প্রতিটি খামারের ০১ (একটি) পুকুর নিবিড় চাষের যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে আধুনিকায়ন করা হবে। (৩১টি ) প্রদর্শনী খামারসমূহের মাছের উৎপাদনশীলতা হেক্টর প্রতি ৭.৫ মে. টন হতে ৪৭ মে. টন বৃদ্ধি (বটম লাইনারযুক্ত পুকুর) এবং প্রকল্প এলাকায় (৫৬টি জেলায়) মাছের উৎপাদন ৩০শতাংশ বৃদ্ধি, ২৭ টি খামারে প্রশিক্ষণ সুবিধাদিসহ অফিস ভবন ও ২৯ টি লেবার-শেড নির্মাণ করা হবে। ২টি খামারে উন্নত কৌলিতাত্ত্বিক গুণসম্পন্ন মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও ক্রায়োপ্রিজারভেশন সুবিধাদি স্থাপন এবং ২০টি খামারে ক্রায়োপ্রিজারভেশন এর মাধ্যমে পোনা উৎপাদন এবং হ্যাচারির রেণু ও পোনা উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় দ্বিগুন করা হবে।
তিনি বলেন, ৩১টি খামারে সৌর বিদ্যুৎ স্থাপনের মাধ্যমে ৬.৪ মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য উৎস হতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ করা এবং ২৫৪০ জন মৎস্য খামার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারী, উদ্যোক্তা এবং বেসরকারি হ্যাচারি সংশ্লিষ্ট জনবলকে নিবিড় মৎস্য চাষ ও অন্যান্য বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়াও প্রকল্পের প্রত্যক্ষ সুবিধাভোগী (মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারী, মৎস্যচাষি, উদ্যোক্তা ইত্যাদিসহ) ৩৯২০ (সুফলভোগী: ৩৪৬০ জন এবং কর্মকর্তা ও কর্মচারী: ৪৬০ জন) জনকে আধনিক প্রশিক্ষণ ও মৎস্য যান্ত্রিকীকরণে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে গড়ে তোলার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
প্রকল্প শেষে এসব প্রশিক্ষণার্থীরা উন্নত ও আধুনিক মৎস্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নিরাপদ মৎস্য উৎপাদন নিশ্চিত করবে। পাশাপাশি জাতীয় মৎস্য উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেও মশিউর রহমান মনে করেন।