কৃষি সংবাদ প্রতিনিধি সাতক্ষীরা:
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ১ হাজার ২০০ বিঘা চিংড়ি ঘের দখল করেছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে কয়েকশ লাঠিয়াল দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে উপজেলার ঝাঁপা-সোনাখালী গ্রামে অবস্থিত ঘেরটি দখল করে।
অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আমজাদুল ইসলাম ও পদ্মপুকুর ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক হাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে বিরোধপূর্ণ ঘেরটি দখল করা হয়েছে।
ঘেরটির মালিক রবিউল্লাহ বাহারের ভাই সফিউল্লাহর ভাষ্য, ৫ আগস্টের পর থেকে বিএনপি নেতা আমজাদ ও তাঁর লোকজন ঘেরটি দখলের হুমকি দিয়ে আসছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার জমির মালিক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মঙ্গলবার রাতে আমজাদুল উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় তিন-চারশ লাঠিয়াল নিয়ে ঘেরটি দখল করেছেন। এ সময় সিসি ক্যামেরাসহ ঘেরের ঘর ভাঙচুর করা হয়। ঘেরের কর্মচারী হাদি, হাবিবুর ও মুজিবরকে মারধর করেছে এবং ম্যানেজার হাবিবুরকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গেছেন আমজাদের লোকজন।
ঘেরের জমির মালিক মাখন লাল মণ্ডল বলেন, জাতীয় পার্টির নেতা আব্দুস সাত্তারের দীর্ঘ নির্যাতনের পর তারা নিজেদের জমির মালিকানা ফিরে পাওয়ার আশা করেছিলেন। হুমকির পর মানববন্ধন করা সত্ত্বেও মঙ্গলবার রাতে বিএনপি ও যুবদল নেতা ঘেরটি দখলে নিয়েছেন। এতে তারা ভীতসন্ত্রস্ত। মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত ১০ লাখ টাকার মাছ লুট করা হয়েছে।
ফোন না ধরায় এ বিষয়ে আমজাদুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে তাঁর প্রধান সহযোগী উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক হাফিজুরের দাবি, জাতীয় পার্টির নেতা সাত্তার মোড়ল ঘেরটি তাদের দিয়েছেন। আদালতের নির্দেশ থাকায় মঙ্গলবার রাতে তারা লোকজন নিয়ে ঘেরের দখল নিলেও কোনো ভাঙচুর বা কাউকে মারধর করেননি।
জাতীয় পার্টির নেতা আব্দুস সাত্তার ও বর্তমান ঘেরমালিক রবিউল্লাহর বাবা শমসের আলী যৌথভাবে ১৯৯৬ সালে এ ঘেরের কার্যক্রম শুরু করেন। ২০১৩ সাল থেকে আব্দুস সাত্তার রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এককভাবে ঘেরের দখল নেন। একপর্যায়ে সহ-মালিকের প্রাপ্য অংশের ৭ কোটি ২০ লাখ টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে আব্দুস সাত্তার ২০২৩ সালে ঘেরের দখল শমসের আলীর ছেলে রবিউল্লাহর কাছে হস্তান্তর করেন। তবে গত ৫ আগস্টে পরিবর্তিত পরিস্থিতির পর আব্দুস সাত্তার ঘেরের ৮০ শতাংশ মালিকানা বিএনপি নেতা আমজাদুলের কাছে হস্তান্তর করেন।
এ বিষয়ে বিএনপি নেতা আমজাদুল বলেন, আব্দুস সাত্তার বছরের শুরুতে ঘেরের ৮০ শতাংশ মালিকানা লিখিতভাবে তাঁর অনুকূলে হস্তান্তর করেন। একপর্যায়ে রবিউল্লাহ সম্পূর্ণ ঘের দখল করে নিয়ে আদালতের মাধ্যমে রিসিভার নিয়োগ করেন। মঙ্গলবার আদালত রিসিভার নিয়োগের আদেশ বাতিল করায় রাতে তিনি লোকজন নিয়ে ঘেরের দখল বুঝে নেন।
ঘটনা সম্পর্কে শ্যামনগর থানার ওসি (তদন্ত) ফকির তাইজুর রহমান বলেন, বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে। বেঅইনি কাজ করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।