1. admin@krishisangbad.com : admin :
  2. siddique149096@bsdi-bd.org : md abu bakar siddique rasim : md abu bakar siddique rasim
পোল্ট্রি খাতকে কেবল উৎপাদন বৃদ্ধি নয়, পণ্যের মান ও মূল্যের দিকে নজর দেয়ার তাগিদ বিশেষজ্ঞদের - কৃষি সংবাদ
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ইলিশ বিক্রি করায় তিন হোটেলকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা উপহারের ১৮টি ব্লুগিল মাছে জাপানের সর্বনাশ! ‘আইল্যান্ড গার্ল’ ট্রাজেডি, দেশে ফিরছেন সন্তান হারা নিউজিল্যান্ড পরিবার সাফারি পার্ক থেকে চুরি হওয়া লেমুর কীভাবে এসেছিল তার তথ্য নেই: পরিবেশমন্ত্রী মধ্যস্বত্তভোগীদের কারণে বাজারে ডিমের দাম বাড়ছে প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরেই দেশের উন্নয়ন ও মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে : প্রতিমন্ত্রী টুকু প্রান্তিক খামারিদের অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করতে কাজ করছে সরকার: প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু আতপ চালের চাহিদা ও ব্যবহার নিয়ে গবেষণা জরুরি : খাদ্যমন্ত্রী ২৭০০ বিড়ালের মাংস বিক্রি, ১২ সদস্য গ্রেফতার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে : প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু

পোল্ট্রি খাতকে কেবল উৎপাদন বৃদ্ধি নয়, পণ্যের মান ও মূল্যের দিকে নজর দেয়ার তাগিদ বিশেষজ্ঞদের

  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৫৮ বার পঠিত

কৃষি সংবাদ ডেস্ক :

ওয়ার্ল্ডস পোল্ট্রি সাইন্স অ্যাসোসিয়েশন-বাংলাদেশ শাখা (ডাব্লিউপিএসএ-বিবি)-এর আন্তর্জাতিক টেকনিক্যাল সেমিনার ২০২৬-এ বক্তারা বলেছেন, বাংলাদেশের পোল্ট্রি খাতকে কেবল উৎপাদন বাড়ানোর মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে খামারের লাভজনকতা, খাদ্যের নিরাপত্তা, জলবায়ু-সহনশীলতা এবং আন্তর্জাতিকভাবে নির্ভরযোগ্য মান অর্জনের দিকে নজর দিতে হবে।

সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে ডাব্লিউপিএসএ-বিবি আয়োজিত “বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতার জন্য সহনশীল পোল্ট্রি উৎপাদন” শীর্ষক প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজিত এই সেমিনারে এ তাগিদ দিয়েছেন। সেমিনারে সরকার, শিল্প খাত এবং শিক্ষাবিদদের মধ্য থেকে আটজন বক্তা বক্তব্য রাখেন। এতে পোল্ট্রি ব্যবসা, সরকারি সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয় এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের (ডিএলএস) মহাপরিচালক জনাব মো. শাহজামান খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিলের (বিপিআইসিসি) এর আহবায়ক মসিউর রহমান এবং বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডাব্লিউপিএসএ-বিবি সভাপতি জনাব শামসুল আরেফিন খালেদ।

ডাব্লিউপিএসএ-বিবি সভাপতি শামসুল আরেফিন খালেদ বলেন, পোল্ট্রি খাত উৎপাদনের পরিমাণগত সমস্যার সমাধান করলেও সঠিক মূল্য পাওয়ার সমস্যার সমাধান করতে পারেনি। উৎপাদন ক্রমাগত বাড়লেও অনেক উৎপাদনকারী লোকসান গুনছেন; তাঁর হিসাবমতে, ব্রিডার খামারগুলো গত ২০ মাসে প্রায় ১,৭০৬ কোটি টাকা লোকসান করেছে। তিনি যুক্তি দেন যে, ব্যবসার মুনাফা খামার ও হ্যাচারি থেকে সরে গিয়ে সরবরাহ শৃঙ্খলের মধ্যস্বত্বভোগীদের হাতে চলে গেছে। তিনি চাহিদার সাথে বাচ্চার সরবরাহের সামঞ্জস্য করা, জাতীয় পোল্ট্রি নীতিকে আইনি ভিত্তি দেওয়া এবং বীমা, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও কোল্ড চেইনে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।

সেমিনারে ডাব্লিউপিএসএ-বিবির জেনারেল সেক্রেটারি ফয়জুর রহমান পোল্ট্রি শিল্পের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা তুলে ধরে চারটি মূল বিষয়ের ওপর জোর দেন- এগুলো হলো- উৎপাদন থেকে মান ও লাভজনকতায় স্থানান্তর: কেবল উৎপাদন বৃদ্ধি নয়; পোল্ট্রি খাতকে বিজ্ঞানভিত্তিক, নিরাপদ, টেকসই ও খামারিবান্ধব হতে হবে। আন্তর্জাতিক মান ও রপ্তানি প্রস্তুতি: খামার থেকে বিপণন-প্রতিটি ধাপে আন্তর্জাতিক মান, ট্রেসেবিলিটি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে বিশ্ববাজারে প্রবেশের প্রস্তুতি নিতে হবে। গবেষণা ও খামারের সংযোগ: বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণাগারের আধুনিক প্রযুক্তি সরাসরি খামারিদের কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে হবে। খামারি সুরক্ষা ও যৌথ উদ্যোগ: খামারি টিকে থাকলেই শিল্প ও জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা টিকে থাকবে; তাই সরকার, গবেষক ও উদ্যোক্তাদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

বাংলা-ইউকে এগ্রো প্রোডাক্টস লিমিটেডের পরিচালক ও সিইও মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, সর্বনিম্ন ফিড কনভার্সন রেশিও (এফসিআর) বা খাদ্য রূপান্তর দক্ষতাই সবসময় সবচেয়ে লাভজনক ফলাফল নিশ্চিত করে না। ওষুধ প্রয়োগ বন্ধের নির্ধারিত সময় সঠিকভাবে মেনে চললে এবং বেশি ওজনের মুরগি বাজারজাত করলে খামারের আয় ও খাদ্যের নিরাপত্তা উভয়ই বৃদ্ধি পায়। ডিএসএম-ফার্মেনিচ এপিএসি -এর আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মিস কিটিমা জিন্দামংকন এশিয়ার পোল্ট্রি শিল্প থেকে শিক্ষা নিয়ে বলেন, ভবিষ্যতের সাফল্য নির্ভর করছে সমন্বিত ব্যবস্থাপনা, প্রক্রিয়াজাতকরণ, পণ্যের উৎস চিহ্নিতকরণ ব্যবস্থা এবং ‘সোনালী’ মুরগির মতো স্থানীয় সম্ভাবনার সঠিক ব্যবহারের ওপর।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) প্যাথলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এমদাদুল হক চৌধুরী ভোক্তা ও সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের ওপর জরিপ এবং ল্যাব পরীক্ষার সমন্বয়ে প্রস্তুত একটি গবেষণা উপস্থাপন করেন। সাধারণ মানুষের ভ্রান্ত ধারণার বিপরীতে পরীক্ষা করা কোনো নমুনাতেই গ্রোথ হরমোনের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। তিনি ক্ষতিকর অবশিষ্টাংশ পর্যবেক্ষণ (residue surveillance), পণ্যের উৎস চিহ্নিতকরণ ব্যবস্থা, জ্যান্ত মুরগির বাজারে উন্নত স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখা এবং জনগণের সাথে স্বচ্ছ যোগাযোগের ওপর জোর দেন।

প্যারাগন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বিপিআইসিসির সভাপতি মশিউর রহমান বলেন, খাদ্যের উন্নত ব্যবহার, দক্ষতার সাথে শক্তি পরিচালনা এবং মৃত্যুর হার কমানোর মাধ্যমে খামারের খরচ ও কার্বন নিঃসরণ উভয়ই কমানো সম্ভব। তিনি দেখান কিভাবে বায়োগ্যাস, জৈব সার ও সৌরবিদ্যুৎ খামারের বর্জ্য এবং ব্যবহৃত শক্তিকে আয়ের উৎসে পরিণত করতে পারে এবং এই সমাধানগুলো খামারের আকার অনুযায়ী ছোট-বড় সব খামারে প্রয়োগ করা সম্ভব।

শুধু ‘হালাল’ সনদই যথেষ্ট নয়: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মিস বেবি রানী কর্মকার বলেন, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক হালাল বাজারে প্রতিযোগিতা করতে পারে, তবে এর জন্য প্রয়োজন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সনদ, অ্যাক্রিডিটেড ল্যাবরেটরি এবং বাজারভিত্তিক নির্দেশিকা। পশুখাদ্য সুরক্ষা, পশু স্বাস্থ্য এবং ভেটেরিনারি প্রয়োজনীয়তার পাশাপাশি হালাল নিশ্চয়তা নিয়ে কাজ করতে হবে।

রপ্তানি নির্ভর করে প্রমাণের ওপর: বাকৃবির ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মাহমুদুল হাসান সিকদার বলেন, বার্ড ফ্লুর ঝুঁকি এখনও থাকায় রপ্তানির সুযোগ প্রতিটি পণ্য ও প্রতিটি দেশের জন্য আলাদাভাবে নির্ধারিত হয়। “আমদানিকারকরা কোনো দাবি মানেন না; তারা মানেন প্রমাণ,” বলেন তিনি। তিনি পরামর্শ দেন যে, বাংলাদেশ যেন একটি নির্দিষ্ট পণ্য, একটি নির্দিষ্ট বাজার এবং একটি নিয়ন্ত্রিত সরবরাহ শৃঙ্খল দিয়ে রপ্তানি শুরু করে এবং বিনিয়োগ করার আগেই আমদানিকারক দেশের প্রয়োজনীয় শর্তাবলী নিশ্চিত করে নেয়।

বাকৃবির প্যাথলজি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, স্বাস্থ্যকর বাণিজ্য বা ব্যবসার ভিত্তি হলো স্বাস্থ্যকর খামার। তিনি ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশন ফর অ্যানিমেল হেলথ (WOAH) টেরেস্ট্রিয়াল কোড, কোডেক্স অ্যালিমেন্টারিয়াস এবং ডাব্লিউটিও এসপিএস (WTO SPS) চুক্তির সাথে সামঞ্জস্য রেখে জাতীয় মানদণ্ড তৈরি এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ সক্ষমতা জোরদার করার আহ্বান জানান। তিনি আরও যোগ করেন, মানদণ্ড নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও রেকর্ড করা না হলে তার কোনো মূল্য থাকে না।

মুক্ত আলোচনাটি সঞ্চালনা করেন ডাব্লিউপিএসএ-বিবি টেকনিক্যাল সাব-কমিটির সদস্য-সচিব অধ্যাপক ড. মো. মাহমুদুল হাসান সিকদার। অংশগ্রহণকারীরা বক্তাদের উত্থাপিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেন এবং খামারিরা যে দাম পান আর ভোক্তারা যা প্রদান করেন—এই দুইয়ের মধ্যকার তফাৎ কমানোর জন্য ব্যবহারিক পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর বিশেষ জোর দেন। তাঁরা যেকোনো আকারের খামারের জন্য সাশ্রয়ী, স্মার্ট ও সংস্থান-দক্ষ খামার গড়ে তোলার উপায় এবং এই খাতের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে আলোচনা করেন। সরকার, শিল্প খাত, শিক্ষাবিদ ও খামারিদের সমন্বয়ে একটি যৌথ উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে সবাই একমত পোষণ করেন।

অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন জনাব শামসুল আরেফিন খালেদ এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন টেকনিক্যাল সাব-কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. শওকত আলী।
ওয়ার্ল্ডস পোল্ট্রি সাইন্স অ্যাসোসিয়েশন – বাংলাদেশ শাখা (ডাব্লিউপিএসএ-বিবি) পোল্ট্রি বিজ্ঞান, শিল্প খাত, শিক্ষাবিদ ও নীতি নির্ধারকদের একত্র করে বাংলাদেশের পোল্ট্রি খাতের টেকসই উন্নয়নে কাজ করে থাকে। সংস্থাটির পরবর্তী আয়োজনসমূহ হলো ১৪তম আন্তর্জাতিক সেমিনার (১৬–১৭ মার্চ ২০ ২৭) এবং ১৪তম আন্তর্জাতিক পোল্ট্রি শো (১৮–২০ মার্চ ২০২৭) ।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ কৃষি সংবাদ
Theme Customized By Shakil IT Park