1. admin@krishisangbad.com : admin :
  2. siddique149096@bsdi-bd.org : md abu bakar siddique rasim : md abu bakar siddique rasim
নিষেধাজ্ঞার পরও চলছে মা ইলিশ শিকার, ১৩ দিনে ১০৮৮ জনের জেল - কৃষি সংবাদ
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে মন্ত্রণালয়ের সাথে আইসিসিসিএডির সমঝোতা স্মারক সই দেশীয় মাছ সংরক্ষণ এবং মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে কাজ করছে সরকার: মৎস্য প্রতিমন্ত্রী প্রান্তিক খামারিদের স্বার্থে কেন্দ্রীয় মুরগি খামারে উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ টুকুর ১১৭ টি ফিড মিলকে নোটিশ করেছে সরকার রাজধানীর সাত স্থানে ককটেল বিষ্ফোরণসহ বাসে আগুন নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার বন্ধের আহ্বান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর ভেজালমুক্ত পণ্য নিশ্চিত করতে ডিজিটাল সেবা বাড়ানোর তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর রফতানিমুখী কৃষিজ পণ্য উৎপাদনে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির তাগিদ টিসিবির জন্য ১০ হাজার টন মসুর ডাল কিনবে সরকার সৌদি আরব থেকে ১৯৪ কোটি টাকার ইউরিয়া আমদানির অনুমোদন

নিষেধাজ্ঞার পরও চলছে মা ইলিশ শিকার, ১৩ দিনে ১০৮৮ জনের জেল

  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৪
  • ২৯৩ বার পঠিত

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক:

মা ইলিশ রক্ষায় দেশব্যাপী ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলছে। কিন্তু এ সময়েও বিভিন্ন জায়গায় জেলেদের মাছ ধরতে দেখা গেছে। দু’একটি জায়গায় আবার মাছ ধরে তা বাড়িতে পৌছে দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে। অভিযান কারােিদর উপরে হামলার ঘটনাও ঘটছে বলে আমাদের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন। একদিকে অভিযান ও অন্যদিকে চলছে মা ইলিশ ধরা। তবে মৎস্য কর্মকর্তারা বলছেন, জনবল ও জলযানের সংকট থাকায় বিভিন্ন জায়গায় জেলেরা মাছ ধরার চেষ্টা করছেন। তবে অভিযানের নামলেই তারা জাল ও নৌকা ফেলে চলে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই জাল ও নৌকা আটক করা হচ্ছে। আদায় করা হচ্ছে জরিমানা।

মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত কেউ ইলিশ মাছ ধরতে পারবেন না। উপজেলা প্রশাসন, থানা পুলিশ ও মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞার মধ্যে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞার এই সময়ের মধ্যে কেউ ইলিশ মাছ ধরলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করা হবে। দু এক জায়গায় কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটছে। তবে আমাদের কাছে তথ্য আসলেই আমরা তা প্রতিহতের চেষ্টা করছি। স্থানীয় ভাবেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হচ্ছে। ইলিশ মাছ রক্ষা করতে আমাদের অভিযান চলছে। নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যে-সব জেলেরা মাছ ধরছেন তাদের ভিজিএফসহ অন্যান্য সুবিধা বাতিল করা হচ্ছে। এছাড়াও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের জেল, জরিমানা করা হচ্ছে। তাদের থেকে জব্দ করা জাল পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে।
মৎস্য অধিদফতরের ইলিশ ব্যবস্থাপনা শাখার উপ পরিচালক মো. সাজদার রহমান বলেন, গত ১৩-২৫ অক্টোরব পর্যন্ত ১৩ দিনে সারা দেশে ১১৪০ টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে, অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে ৫৬৮৩টি, মামলা হয়েছে ১৬০৬, বিভিন্ন মেয়াদে জেল হয়েছে ১০৮৮ জন জেলের, জরিমানা আদায় হয়েছে ৩৬ লাখ ৮২ হাজার টাকা, পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে ৩ কোটি ৩২ লাখ মিটার জাল।

আমাাদের কৃষি সংবাদ প্রতিনিধি, কুষ্টিয়া জানান, এ বছর মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৪ চলছে ঢিলেঢালা ভাবে। বিগত বছর গুলোতে লাগাতার অভিযান চালানো হলেও এবার চলছে কচ্ছপ গতিতে। নিষেধাজ্ঞা শুরু হওয়ার পর থেকে পদ্মা নদীতে দিনে ও রাতে অবৈধভাবে ধরা হচ্ছে ইলিশ মাছ। ভেড়ামারা উপজেলার বাহিরচর. মোকারিমপুর, বাহাদুরপুর ও জুনিয়াদহ ইউনিয়নের (৪টি ইউনিয়ন) পদ্মা নদীর ধারে ইলিশ মাছ ধরার মহোৎসব চলছে। ভেড়ামারার ১২ মাইল এলাকা থেকে রায়টা পাথর ঘাট পর্যন্ত পদ্মা নদীতে প্রকাশ্যে জেলেরা নৌকা নিয়ে ইলিশ মাছ ধরছে। নদী এলাকায় চলছে এসব ইলিশ মাছ বেচাকেনা। বিশেষ ক্ষেত্রে শহরে এনে চোরাই ইলিশ হোম ডেলিভারিও দিচ্ছেন অসাধু জেলে ও তাদের লোকেরা। বিভিন্ন অবৈধ জেলেরা নদী থেকে ইলিশ শিকার করে তারা নদীর তীরে এনেই বিক্রি করছেন। ১ কেজির বেশি ওজনের ইলিশ মাছ গুলো তারা ১২০০-১৫০০ টাকা ও ছোট (জাটকা) ইলিশ মাছ ৫০০ টাকা কেজিতে বিক্রি করছেন তারা।

নদীপাড়ের বাসিন্ধারা জানান, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও প্রতিদিনই বিভিন্ন অবৈধ জেলেরা পদ্মা নদী থেকে কারেন্ট জাল দিয়ে ইলিশ মাছ ধরে নদীর কিনারে নিয়ে আসছেন। সেখানে প্রকাশ্যে বড়, ছোট ইলিশ মাছগুলো মৌসুমি মাছ ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়া সেখানে একটু কম দামে পাওয়ায় গ্রামের অনেক দরিদ্র মানুষ সেখান থেকে ইলিশ মাছ কিনছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক মাছ বিক্রেতা বলেন, ইলিশগুলো আমরা এখান থেকে একটু কম দামে কিনে নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে একটু লাভ রেখে বিক্রি করি।

ভেড়ামারা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা শাম্মি শিরিন বলেন, ভেড়ামারা উপজেলার পদ্মা নদীর অংশে অভিযান চালিয়েছি। তাদের কাছে থেকে জব্দকৃত ইলিশ এতিমখানায় দান করা হয়েছে। এছাড়া তাদের কাছে পাওয়া ৫ হাজার মিটার কারেন্ট জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয় যার আনুমানিক মূল্য ১লাখ টাকা। ইলিশ শিকার ও বিক্রির বিষয়টি আমি শুনেছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা বিভিন্ন স্থানে সাধ্যমতো অভিযান চালাচ্ছি।

ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানুর রহমান বলেন, ইলিশ মাছ আমাদের জাতীয় সম্পদ এইটা রক্ষা করতে আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। ১৩ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর এই ২২ দিন সরকারিভাবে মাছ আহরণ পরিবহণ মজুত করা নিষিদ্ধ। জেলেরা পরিবার যেন কষ্ট না পায় তার জন্য সরকার উপজেলার নিবন্ধনকৃত ৩৩২ জন মৎস্য চাষিকে ভিজিএফ কার্ডের মাধ্যমে প্রতিজনকে ২৫ কেজি চাল দেওয়া হবে। নিষেধাজ্ঞার এই সময়ের মধ্যে কেউ ইলিশ ধরলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আমাদের কৃষি সংবাদ প্রতিনিধি সিরাজগঞ্জ জানান, পদ্মা নদীতে প্রকাশ্যে মা ইলিশ শিকার করছে সহস্রাধিক জেলে। জেলের জালে প্রতিদিন ধরা পড়ছে প্রায় এক হাজার মণ মা ইলিশ। এ সব মা ইলিশ বিকিকিনি হচ্ছে প্রকাশ্যে। অদৃশ্য কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রয়েছে নিরব। মৎস্য কর্মকর্তা বলছেন জনবল সংকট।

পদ্মা নদীতে ঘুরে দেখা যায়, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী ও ফরিদপুর জেলার প্রায় সহস্রাধিক জেলে পদ্মা ও যমুনা নদীতে অবাধে প্রকাশ্যে মা ইলিশ শিকার করছে। অবৈধভাবে জেলেরা যে মা ইলিশ শিকার করছে সেগুলো প্রকাশ্যে খোলা বাজারে বিক্রি হচ্ছে। আবার বিভিন্নভাবে সংরক্ষণ করে রাখছে এবং অন্য জেলার জেলেরা মা ইলিশ পাচার করছে।

জেলার পাংশা উপজেলার সীমান্ত থেকে শুরু করে কালুখালী, রাজবাড়ী সদর ও গোয়ালন্দ উপজেলার সীমান্ত পর্যন্ত ৫৭ কিলোমিটার এলাকায় পদ্মা নদীর পার দিয়ে মা ইলিশ এর মোবাইল বাজার বসছে সকাল ও বিকেলে। বিভিন্ন এলাকার নারী-পুরুষ ক্রেতারা এসে স্বল্প মূল্যে এই মা ইলিশগুলো ক্রয় করছে। যে সকল মাছ বিক্রি হচ্ছে প্রত্যেকটি মাছের পেটে ডিম রয়েছে। ডিম ছাড়ার পূর্বে মা ইলিশ ধরা পড়ছে জেলের জালে। এতে ভবিষ্যতে নদীতে ইলিশ মাছ কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেকে। এদিকে নদীতে অবৈধভাবে মাছ ধরার সময় জেলের জালে অসংখ্য পাঙ্গাশ মাছও ধরা পড়ছে। বড় বড় এই পাঙ্গাশ মাছগুলো নির্ধারিত মাছ বাজারে বিক্রি হচ্ছে। এ ব্যাপারে জেলেদের কাছে জানতে চাইলে অনেকে বলেন, ইলিশ মাছ ধরা নিষেধ, যে কারণে বাজারে আমরা ইলিশ মাছ বিক্রি করছি না। তবে অন্য যে বড় মাছ যেমন পাঙ্গাশ, রুই, নিঠাসহ বিভিন্ন প্রকার মাছ নির্ধারিত বাজারে বিক্রি করতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না।

আমাদের কৃষি সংবাদ প্রতিনিধি বরিশাল জানান, ইলিশের ষষ্ঠ অভয়াশ্রম বরিশালের হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার মেঘনা নদী। আর এই নদীর ২২ কিলোমিটার এলাকাকে ধরা হয় ইলিশের অভয়াশ্রম। যা ‘ইলিশ প্রজননের হটস্পট’ নামে পরিচিত। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দিনরাত দেদারসে ইলিশ শিকার করছেন জেলেরা। আবার তা পার্শ্ববর্তী বাজারে প্রকাশ্যে বিক্রি করছেন জেলেরাই। আর এসব কাজে বাধা দিতে গেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের লোকদের ওপর হামলা যেন নিয়মিত ঘটনা। হিজলা উপজেলায় মেঘনা নদীতে দুই দফা হামলার শিকার হয়েছে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সবশেষ শুক্রবার রাতে গৌরবদী ইউনিয়নসংলগ্ন ওরাকুল এলাকায় অভিযানে গিয়ে হামলার শিকার হন ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্টরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে ফাঁকা গুলি ছোড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরে এ ঘটনায় হিজলা থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ইমরান হোসেন বলেন- প্রতিবছরের মতো এবারও অভিযানে গেলে জেলেরা বাধা দিচ্ছেন। বিশেষ করে দড়িচর-খাজুরিয়া এলাকার কালাবদর নদীতে হামলা বেশি হয়। মেহেন্দীগঞ্জের ইউএনও নেছার উদ্দিন বলেন- বিশাল মেঘনার পাহারা দিতে প্রশাসনের জলযান ও জনবল কিছুই নেই। অভিযানে যেতে যে ট্রলার নেওয়া হয়, তার মাঝিই জেলেদের সোর্স হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

মৎস্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় উপ-পরিচালক নৃপেন্দ্র নাথ বিশ্বাস বলেন- একটি বড় চক্র অবৈধভাবে ইলিশ শিকার করছে। চক্রটির অপতৎপরতা বন্ধে নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, নৌ পুলিশ যৌথভাবে কাজ করছে। তবে এসব জেলেরা এখনো সক্রিয় আছেন। অভিযান চালাতে গিয়ে গত কয়েক বছরের মতো এবারও জেলেদের হামলার ঘটনা ঘটছে। বিষয়টি উদ্বেগের, তারপরও অভিযান অব্যাহত আছে। চক্রের কর্মকাণ্ড প্রতিহত করতে সেনাবাহিনীর সহায়তা নেওয়ার চিন্তা করা হচ্ছে।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ কৃষি সংবাদ
Theme Customized By Shakil IT Park