# নিরাপত্তাকর্মী চেয়ে কর্পোরেশনের প্রধান কার্যালয়ে আবেদন
# যুক্ত হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন জলাধার
# কাজের বাকি ৩৫ শতাংশ
# এক বছর মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন
# কর্মসংস্থান হবে ১০ হাজার জনের
সুমন ইসলাম, কক্সবাজার থেকে ফিরে:
কক্সবাজার জেলার সদর উপজেলার খুরুশকূল ইউনিয়নে বাস্তবায়নাধীন জলবায়ু উদ্বাস্তু‘ পুনর্বাসন প্রকল্পে পুনর্বাসিতব্য ৪ হাজার ৬০৯টি পরিবারের সদস্যদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে কাজ করছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। একদিকে কর্মসংস্থান অন্যদিকে শুটকি উৎপাদন ও বিপনন ব্যবস্থার উন্নয়নে ‘কক্সবাজার জেলায় শুঁটকি প্রক্রিয়াকরণ শিল্প স্থাপন’করছে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি)। কিন্তু প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হতে বাকি রয়েছে মাত্র দুই মাস। এ সময়ের মধ্যে কোনোভাবেই কাজ শেষ করা সম্ভব হবে না। প্রকল্প শুরুর ৬৪ মাস পার হলেও ভূমি উন্নয়ন কাজের দীর্ঘসুত্রিতা, কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমের প্রাক্কলিত ব্যয় অত্যধিক কম থাকায় যথাসময়ে দরপত্র আহ্বান করতে না পারা, প্রতিকূল প্রকৃতি, ঠিকাদারদের মালামাল চুরি, পানি সংকট, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা প্রহরীর অভাব ইত্যাদি কারণে মোট কাজের মাত্র ৬৫ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। এখনও বাকি ৩৫ শতাংশ।
সরেজমিন প্রকল্প এলাকা ঘুরে এবং প্রকল্প পরিচালক জনাব মো: শামসুজ্জামান এর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পুরো ৪৫ একর এলাকা জুড়ে চলছে কর্মযজ্ঞ। এর মধ্যে ২ হাজার ৫০০ বর্গমিটার আয়তনের অবতরণ শেড, ১ হাজার ৮৬০ বর্গমিটার আয়তনের চারতলা বিশিষ্ট ল্যাব, অফিস, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র কাম ডরমেটরি, ব্যবসায়ীদের জন্য ৩০০টি স্টোর কাম অফিস ঘর (এর মধ্যে বড় ৫০ টি, ছোট ১৫০ টি এবং মাঝারি ১০০ টি ঘর রয়েছে), ৩৬টি শুঁটকি বিক্রয় কেন্দ্র, ১১টি টয়লেট জোন, প্যাকেজিং ফ্যাক্টরি স্থাপন, ইটিপি, এসটিপি ও ডব্লিউটিপি, ৩টি জেনারেটরসহ ১টি বৈদ্যুতিক সাবষ্টেশন স্থাপনের কাজ চলমান। এছাড়া প্রকল্প এলাকায় ৩৫০টি গ্রীণহাউজ মেকানিক্যাল ড্রায়ার এবং ৩০টি মেকানিক্যাল ড্রায়ার স্থাপনের কাজ চলছে। গ্রীণহাউজ মেকানিক্যাল ড্রায়ার দেখভালের দায়িত্ব পালন করবে পূনর্বাসিত জেলে ও ব্যবসায়ী সমন্বিত কমিটি। এসব ড্রায়ারের মাধ্যমে গড়ে প্রতি ০৪দিনে ১৫৫ কেজি শুটকি উৎপাদন করা সম্ভব হবে। ৩০টি মেকানিক্যাল ড্রায়ার দেখভাল করবে বিএফডিসি। প্রতিটি ড্রায়ারের মাধ্যমে গড়ে প্রতিদিন ৩০০ কেজি শুটকি মাছ উৎপাদন করা সম্ভব হবে। এভাবে গ্রীণহাউজ ড্রায়ার এবং মেকানিক্যাল ড্রায়ারের মাধ্যমে বছরে প্রায় ৭ হাজার মে. টন শুটকি উৎপাদন করা সম্ভব হবে। প্রকল্প সাইটে ¯’াপিতব্য প্যাকেজিং মেশিনের মাধ্যমে প্রতি ঘণ্টায় বিভিন্ন সাইজের ৫৫০ ব্যাগ (প্রতি ব্যাগ ৫০০ গ্রাম, ১০০০ গ্রাম, ৩০০০ গ্রাম এবং ৫০০ গ্রাম) শুটকি প্যাকেটজাত করা যাবে। প্রতিদিন ১০০ মে. টন শুটকি সংরক্ষণ সুবিধা নিশ্চিত করতে চলছে কর্মযজ্ঞ।
তিনি বলেন, চলতি বছরের জুনে এই প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন কারণে কাজের মাত্র ৬৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এ কারণে প্রকল্পের মেয়াদ আরো এক বছর বৃদ্ধির আবেদন করে অনুমোদনের জন্য প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
প্রকল্পের ধীরগতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রকল্প এলাকা বুঝে পাওয়ার পর থেকেই নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। ভূমি উন্নয়নজনিত দীর্ঘসূত্রিতার (যা আশ্রয়ণ প্রকল্প কর্তৃক বাস্তবায়িত) প্রকল্প মেয়াদকাল শুরুর ২০ মাস পর প্রকল্প সাইটে সিভিল কাজ শুরু করতে পারা, প্রকল্প সাইটের নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করতে না পারা, কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমের প্রাক্কলিত ব্যয় অত্যধিক কম থাকায় যথাসময়ে দরপত্র আহ্বান করতে না পারা, প্রতিকূ আবহাওয়া, পানি সংকট, ঠিকাদারদের মালামাল চুরি হয়ে যাওয়া, নিরাপত্তা সংকট ইত্যাদির মধ্য দিয়ে আমাদের কাজ করতে হচ্ছে। একারণে ই”েছ থাকা সত্ত্বেও যথা সময়ে কাজ সম্পন্ন করা যাচ্ছে না। নিরাপত্তাকর্মীর অভাবে এখনও ঠিকাদারদের মালামাল চুরি হয়ে যাচ্ছে। এ বিষয় স্থানীয় থানায় অভিযোগ করা হলেও চুরি কমানো যাচ্ছে না। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করা হলেও লাভ হচ্ছে না। জনৈক ঠিকাদার কর্তৃক চুরি সংক্রান্ত বিষয়ে একটি মামলা করা হলেও অদ্যাবধি এর কোন সুরাহা হয়নি। । এ সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে দ্রুত সময়ে ১০-১৫ জন নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।
প্রকল্পের কাজের সঙ্গে যুক্ত প্রকৌশলীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখানকার এই পরিবেশে কাজ করা খুবই চ্যালেঞ্জিং। প্রকল্প শুরু থেকেই নানা চ্যালেঞ্জের মুখে কাজ করতে হচ্ছে। পিডি অফিস ভবনের নির্মাণ শেষ হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্টোর ও গ্যারেজ নির্মাণ , মেকানিক্যাল ড্রায়ারের শেড নির্মাণ, প্যাকেজিং ভবন নির্মাণ, বজ্র নিরোধক যন্ত্র ¯’াপন কাজ শেষ হয়েছে। চলতি অর্থ-বছর অবতরণ শেড, ল্যাব, অফিস, প্রশিখ্ষণ কেন্দ্র ও ডরমেটরি, ড্রেনেজ কাঠামো, জলাধার নির্মাণ, সাব স্টেশন রুম নির্মাণ কাজ ১০০% শেষ হয়ে যাবে বলে আশা করা যায়।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, গ্রীণ হাউস বেইজড মেকানিক্যাল ড্রায়ার এবং মেকানিক্যাল ড্রায়ার স্থাপনের মাধ্যমে প্রতি বছর গড়ে ৭ হাজার মেট্রিট টন শুটকি উৎপাদন করা সম্ভব হবে। এ জন্য প্রায় ৩৬ হাজার মেট্রিক টন কাঁচা মাছ প্রয়োজন হবে। যার বাণিজ্যিক মূল্য হবে প্রায় ১ হাজার ৫০ কোটি টাকা (প্রতি কেজি গড়ে ১৫০০ টাকা করে)। এক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ বাজারের চেয়ে রফতানির দিকে জোড় দেওয়া হবে।
প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতির বিষয়ে প্রকল্পটির পরিচালক জনাব মো. শামসুজ্জামান বলেন, ২০২১ সালে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য দায়িত্ব পায় মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি)। প্রকল্পের কাজ শেষ হলে প্রতি বছর এই শিল্প পরিচালনায় ব্যয় হবে প্রায় ১৫ কোটি টাকা আর পরিচালন আয় হবে প্রায় ১৯ কোটি টাকা। বছরে উৎপাদিত ৭ হাজার মে: টন শুটকিতে ভ্যাল্যু এ্যাড হবে প্রায় ১৫৮ কোটি টাকা। ২৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কাজ চলছে। কিন্তু চলতি এপ্রিল পর্যন্ত ক্রমপুঞ্জিত আর্থিক অগ্রগতি ১৪০ কোটি ১২ লাখ টাকা যা মোট প্রকল্প ব্যয়ের ৫৮ শতাংশ।