ঝালকাঠি জেলা প্রতিনিধি:
ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সানজিদা আরা শাওন বরগুনা বদলীর খবরে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করেন এলাকাবাসী। গতকাল সকালে উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের শাওনের বদলী তথ্য নিশ্চিত করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কৃষি অফিসার সানজিদ আরা শাওনের বিরুদ্ধে প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ, ভুয়া নামে প্রকল্প দাখিল ও প্রান্তিক কৃষকদের নামে বরাদ্দকৃত প্রণোদনা বিক্রিসহ নানা অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা দীর্ঘদিন ধরে এসব অনিয়ম দুর্নীতির দায়ে তার নলছিটি থেকে অন্যত্র বদলী দাবি করেছিলেন।
কিন্তু তার স্বামী বিগত সরকারের একটি প্রভাবশালী পেশাজীবী সংগঠনের নেতা হওয়ায় তার প্রভাবে স্ত্রী শাওন রয়ে গেছেন বহাল তবিয়াতে।
বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর বিগত সরকারের মদদপুষ্ট দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের অন্যত্র বদলী কার্যক্রম শুরু হওয়ায় ভুক্তভোগীদের দাবি ছিল দুর্নীতিবাজ এ কর্মকর্তার নলছিটি থেকে বদলী।
এ বিষয় সদ্য বদলী হওয়া উপজেলা কৃষি অফিসার সানজিদ আরা শাওন জানান, তার বদলী সরকারের একটি চলমান প্রক্রিয়া। তার সময়ে উপজেলা কৃষি অফিসে কোন অনিয়ম দুর্নীতি হয়নি। যারা নিয়মবহির্ভূত কাজ করতে বাঁধার সম্মুখীন হয়েছে তারাই অতি উৎসাহী হয়ে এসব কর্মকাণ্ড করছে।
সংশ্লিষ্ট কৃষি অফিস সূত্র জানায়, কয়েকজন উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তাকে নিয়ে লুটপাটের এক সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। এসব ঘটনায় গত এক সপ্তাহে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে অভিযোগ করেছেন উপজেলার শতাধিক কৃষক। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, পার্টনার প্রকল্পের বোরো মৌসুমে কৃষক স্কুলের কৃষকদের জনপ্রতি ১০টি করে ক্লাসের ভাতা দেয়ার কথা থাকলেও তাদেরকে ৫টি ক্লাসের ভাতা দেয়া হয়েছে।
নাস্তার জন্য বরাদ্দ থাকলেও কৃষি কর্মকর্তা তা আত্মসাৎ করেছেন। পারিবারিক পুষ্টি বাগান প্রকল্পে বছরে ৩৫০টি বরাদ্দ থাকলেও উপজেলার কৃষকদের মাঝে মাত্র ১১০টি পুষ্টি বাগানের বরাদ্দ দেয়া হয়। পুষ্টি উন্নয়ন নামে আরেকটি প্রকল্পে পুষ্টি গ্রামে ৭৮টি বাগান দেয়ার কথা থাকলেও কৃষি কর্মকর্তা ২৫টি বাগান বরাদ্দ দিয়েছেন।
লেবু জাতীয় ফসল প্রকল্পের রবি মৌসুমে বাগানের বরাদ্দ আসলেও তিনি কোন বাগান না দিয়ে পুরো টাকা আত্মসাৎ করেছেন। কৃষকদের আন্তঃপরিচর্যা বাবদ যে টাকা বরাদ্দ তা তিনি দেননি। মালামালও কম দিয়েছেন। এসএসিপি প্রকল্পের সিএফসি নির্মাণ ও যন্ত্রপাতি ক্রয়ে তিনি দুর্নীতি করেছেন।
যন্ত্রপাতিতে সরকার থেকে ২ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দিলেও তিনি খরচ করেছেন ৭০ হাজার টাকা। ছয়টি সিএফসিতে যন্ত্রপাতি দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি তিনটিতে দিয়েছেন। কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরণেও তিনি দুর্নীতি করেছেন। নামে-বেনামে যন্ত্রপাতি বরাদ্দ দিয়ে কোম্পানিকে ভর্তুকির টাকা আত্মসাতে সহযোগিতা করেছেন।
আরো কয়েকটি প্রকল্পে কৃষকদের জন্য সরকার কর্তৃক বরাদ্দ দেয়া অর্থ তিনি লোপাট করেছেন। প্রণোদনা কর্মসূচি পরিচালনাও রয়েছে অনিয়ম। এ কর্মসূচিতে ধান ক্রয়ের যে বিধান আছে তার অপব্যবহার করে নিম্ন মানের হাইব্রিড ধান সস্তায় কিনে কৃষকদের দিয়েছেন। প্রণোদনার ধান ও সার কৃষকদের না দিয়ে তা তিনি বিভিন্ন প্রদর্শনীতে দিয়েছেন।
আবার কৃষকদের মাঝে প্রদর্শনীর বরাদ্দ দেয়ার কথা থাকলেও তিনি এলাকার মেম্বার-চেয়ারম্যান ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদেরকে তা বরাদ্দ দিয়েছেন। বিভিন্ন প্রদর্শনীতে বরাদ্দকৃত মালামাল বিতরণ না করে ভুয়া মাস্টাররোল করেছেন।
এছাড়াও বিভিন্ন কাজ ও পরামর্শের জন্য কৃষকরা তার অফিসে গেলে কৃষি কর্মকর্তা তাদের সাথে ভাল আচরণ ও ব্যবহার করেননি। তার স্বামী আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেন; এ কথা বলে বিগত সরকারের আমলে সবাইকে ভয় দেখাতেন। নলছিটি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সানজিদ আরা শাওন বলেন, অভিযোগের বিষয়ে আমি দাপ্তরিকভাবে জানি না।