কৃষি সংবাদ প্রতিবেদক:
ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ সংরক্ষণ ও টেকসই আহরণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মৎস্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে “মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৫” দেশব্যাপী চলমান রয়েছে। এ বিশেষ অভিযান ৪ অক্টোবর হতে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত ১৩ দিনে ৫০৮৫ টি অভিযান ও ১১৭৫ টি মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ১৩০১টি মামলা দায়ের করা হয় এবং আইন ভঙ্গের অপরাধে ১০৪৭ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়াসহ ৪২.৪৩ লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার মো: মামুন হাসান গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, এ সময়ের মধ্যে ৪২৮.৪৭ লক্ষ মিটার জাল ও ৫৭.১ মেট্রিক টন ইলিশ জব্দ করা হয়েছে, জব্দকৃত ইলিশ এতিমখানতে বিতরণ করা হয়েছে। নিষিদ্ধ জালগুলো পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে এবং নৌকা ও অন্যান্য সরঞ্জামাদি নিলামে বিক্রয়ের মাধ্যমে ৩১.১২৮ লক্ষ টাকা সরকারী কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও মা ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধকালে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় জেলেদের জন্য ৩৮ জেলার ১৬৫টি উপজেলার ৬,২০,১৪০ জন জেলেকে ২৫ কেজি হারে ১৫,৫০৩ মে. টন ভিজিএফ চাল বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে এবং ১৫৪০০.৮৫ মে. টন (৯৯.৩৪%) চাল ইতোমধ্যে বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে।
অভিযান চলাকালে মেহেন্দিগঞ্জ, হিজলা, ভেদরগঞ্জ উপজেলায় একজন সহকারী কমিশনার (ভূমি) সহ মৎস্য অধিদপ্তরের দুইজন কর্মকর্তা, নৌ পুলিশের একজন সাব-ইন্সপেক্টর, তিনজন কনস্টেবল সহ মোট নয় জন সদস্য আহত হন। “ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার”-এর আওতায় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনী ‘মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৫’ পরিচালনা করছে। ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম মহানগর, কোম্পানীগঞ্জ, রায়পুর, হিজলা, শিবচর ও শ্রীনগর উপজেলায় সেনাবাহিনীর সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। গভীর সমুদ্রে দেশি-বিদেশি অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে যুদ্ধজাহাজ ও মেরিটাইম পেট্রোল এয়ারক্রাফট দিয়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে। এছাড়া আকাশপথে ইলিশ অধ্যুষিত জেলাসমূহের নদীসমূহে নজরদারির জন্য এ পর্যন্ত বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ৩টি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। আগামী ২৫ অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত ২২ দিনব্যাপী দেশের উপকূলীয় নদ-নদী, মোহনা ও সাগরসহ ৩৮ জেলার ১৭৮টি উপজেলায় এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।