কৃষি সংবাদ প্রতিবেদক:
ছাত্র জনতার অভ্যুথানে ক্ষতমাচ্যুত আওযামী সরকারের পতনের পরে দেশ পরিচালনার দাত্বি পালন করছে অন্তর্বর্তী সরকার। তাদের অত্যতম প্রধান কাজ হলো দেশে একটি সুষ্ঠু ও সর্বজন গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকেও দ্রুত নির্বাচনের জন্য সরকারকে তাগাদা দিচ্ছে। এরই ধারাবাহীতকায় নির্বাচন কমিশন সংস্কার কমিটি এবং নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। নবগঠিত নির্বাচন কমিশন আজ সোমবার প্রথম বৈঠক করেছে। প্রথম বৈঠকেই নির্বাচনী ট্রেনের ইঞ্জিন চালু করা হযেছে। ঘোষণা দেওয়া হয়েছে খসড়া খোটার তালিকা প্রনয়ণে। যা দুই মাসের মধ্যে ভোটার তালিকার খসড়া চূড়ান্ত করে তালিকা প্রকাশ করা হবে বলেও জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল সানাউল্লাহ। গতকাল আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নাসির উদ্দীন কমিশনের প্রথম বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এম এম নাসির উদ্দীন। বৈঠকে চার নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, আবদুর রহমানেল মাসুদ, তহমিদা আহমদ ও আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ অংশগ্রহণ করেন।
নির্বাচন কমিশন (কার্যপ্রণালী) বিধিমালার ৩(২) বিধি অনুযায়ী কমিশনের বিভিন্ন কার্যক্রম নিষ্পন্নের জন্য চারজন নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বে পৃথক চারটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া ভোটার তালিকা হালনাগাদ কর্মসূচি প্রণয়ন এবং জাতীয় সংসদের সীমানা নির্ধারণ নিয়ে পাওয়া আপত্তিগুলোর বিষয়ে নতুন কমিশনকে অবহিত করা হয়েছে।
সানাউল্লাহ বলেন, আগামী বছর ২ মার্চের পর থেকে ভোটার তালিকা হালনাগাদে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। হালনাগাদকৃত এসব ভোটার ২০২৬ সালে নতুন ভোটার হিসেবে যুক্ত হবে। এদিকে, ভোটার তালিকা আইন অনুযায়ী নিয়মতান্ত্রিকভাবেই নির্বাচন কমিশনের সংগ্রহে থাকা তথ্যের ভিত্তিতে আগামী জানুয়ারির ২ তারিখ থেকে মার্চের ২ তারিখের মধ্যে ভোটার তালিকার খসড়া ও চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে।
আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, নতুন ভোটার হিসেবে যুক্ত হওয়ার জন্য আমাদের কাছে ১৭ লাখ নাগরিকের তথ্য সংগ্রহে রয়েছে। এসব নাগরিক ১ জানুয়ারি ২০২৫ এ ভোটার তালিকায় যুক্ত হবে। এই ১৭ লাখ নাগরিকের মধ্যে ১৩ লাখের তথ্য নির্বাচন কমিশন ২২ সালে সংগ্রহ করেছিল। বাকি নাগরিকরা নিজেরা নিবন্ধিত হয়েছেন।
তবে পরিসংখ্যান বলে ৪৫ লাখের মতো নাগরিকের নতুন ভোটার হিসেবে যুক্ত হওয়ার কথা। সেই হিসেবে ২৭-২৮ লাখ নাগরিক নিবন্ধিত হননি কিন্তু তারা ভোটার হওয়ার যোগ্য। এ কারণে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি এ বছরের হালনাগাদ ২ জানুয়ারি থেকে ২ মার্চের মধ্যে সম্পন্ন হবে। এরপর আমরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবো। বাদ পড়া এসব নাগরিকসহ ২০২৬ সালে ভোটার হওয়ার উপযুক্ত হবেন এমন নাগরিকের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। একই সঙ্গে যে সব ভোটার মৃত্যুবরণ করেছে তাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে কর্তন করার জন্য তথ্য নেওয়া হবে।
এছাড়া দ্বৈত ভোটার বা অন্য কোন জটিলতা আছে কি না সেসব বিষয়েও তথ্য সংগ্রহ করা হবে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। তারা ২০২৬ সালে নতুন ভোটার হিসেবে যুক্ত হবেন। এর মাধ্যমে আমরা শুদ্ধ এবং পূর্ণাঙ্গ তথ্যের ভিত্তিতে শতভাগ সঠিকতা নিশ্চিত করতে পারবো। বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহসহ যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করতে ছয় মাসের মতো সময় লাগবে।
সভায় চারজন কমিশনারের অধীনে চারটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিগুলো হলো- ইসি সানাউল্লাহর নেতৃত্বে ‘জাতীয় পরিচয়পত্র, ভোটার তালিকা, নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও তথ্যপ্রযুক্তি কমিটি’, ইসি আব্দুর রহমানেল মাছউদের নেতৃত্ব ‘আইন ও বিধিমালা সংস্কার কমিটি’, ইসি মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকারের নেতৃত্বে ‘সীমানা পুনঃনির্ধারণ, জাতীয় স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন প্রস্তুতি, ভোটকেন্দ্র স্থাপন, ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তাদের প্যানেল প্রস্তুত ও তদারকি কমিটি’ এবং ইসি তহমিদা আহমদের নেতৃত্বে ‘নিয়োগ, পদোন্নতি, প্রশাসনিক সংস্কার ও পুনর্বিন্যাস এবং দক্ষতা উন্নয়ন কমিটি’।
ইসি সানাউল্লাহ বলেন, সংসদীয় আসনের সীমানা নিয়ে কিছু অভিযোগ ছিল। এ নিয়ে তেমন আলোচনা হয়নি। এই অভিযোগগুলো কমিশনের গঠিত সংশ্লিষ্ট কমিটির কাছে প্রেরণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে এ নিয়ে আলোচনা করা হবে।
বৈঠক শেষে ইসির অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী নেওয়াজ বলেন, জানুয়ারির ২ তারিখে আইন অনুযায়ী প্রতিবছর ভোটার তালিকা হালনাগাদের খসড়া প্রস্তুত করে প্রকাশ করা হয়। এ খসড়া তালিকা প্রকাশ করার পর কেউ যদি মনে করে সে খসড়া তালিকা মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়নি, তখন তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ভোটার হওয়ার যোগ্য হলে ভোটার হিসাবে গণ্য করা হয়। এ কাজ শেষ করতে হয় মার্চের দুই তারিখের মধ্যে বা তার আগে। কারণ দুই তারিখে এ সংশোধনী বা আমাদের ডাটাবেজে আগের যে তথ্য থাকে তার আলোকে তারা (যাদের প্রতি বছর ১ জানুয়ারিতে ১৮ বছর পূর্ণ হয়) ওই বছরেই ভোটার তালিকায় যুক্ত হয়। এ কাজটা আমাদের সামনে করতে হবে।
এ বিষয়ে কমিশনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এর বাইরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য কি কি প্রস্তুতি প্রয়োজন সে প্রস্তুতি সম্পর্কে আমরা কমিশনকে অবহিত করেছি।
ভোটার তালিকা হালনাগাদ করতে ইসি সচিবালয়ের কি প্রস্তুতি আছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কমিশন যদি আমাদের বলে তাহলে আমাদের সেটা করতে হবে। তবে, আমাদের প্রস্তুতির কথা যদি বলেন তাহলে ঠিক এ মূহূর্তে নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না যে প্রস্তুতি আছে কি না। কমিশন যেভাবে চাইবে সেভাবে আমাদের শেষ করতে হবে এবং সে প্রস্তুতি আমাদের গ্রহণ করতে হবে। বাড়িবাড়ি গিয়ে হালনাগাদ করতে হয় তাহলে আমাদের কি করতে হবে এ বিষয়ে আমরা আলোচনা করেছি।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে গঠিত কাজী হাবিবুল আউয়াল নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত ৫ সেপ্টেম্বর পদত্যাগ করে। এরপর নতুন কমিশন গঠনে আইন অনুযায়ী সার্চ কমিটি গঠন করা হয়। সার্চ কমিটি প্রস্তাবিত তালিকা থেকে পাঁচজনকে বেছে নিয়ে গত ২১ নভেম্বর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১১৮(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের আদেশক্রমে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপনে নির্বাচন কমিশনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ অন্যান্য নির্বাচন এ কমিশনের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে। ২৪ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্ট জাজেজ লাউঞ্জে নাসির উদ্দীন নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনকে শপথ পড়ান প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ।