কৃষি সংবাদ প্রতিবেদক:
গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্য বিমোচনের পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে গবাদিপশু ও পাখি পালন। গ্রামে অনেকেই পশুপাখি পালন করে বাড়তি আয় করেন। আবার অনেকে বাণিজ্যিকভাবে গড়ে তুলেছেন বড় খামার। এভাবে দেশে প্রাণিসম্পদ খাতের সমৃদ্ধি ঘটলেও তাৎক্ষণিক চিকিৎসার অভাবে মারা যায় অনেক পশুপাখি। উপজেলা প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করা হলেও অনেক সময় গবাদি পশু নিয়ে হাসপাতালে আসা সম্ভব হয় না। সেক্ষেত্রে খামারীদের কাছে সেবা পৌছানোর তাগিদ থেকে মোবাইল ভেটেরিনারি ক্লিনিক (এসভিসি) চালু করা হয়েছে।
খামারির দোরগোড়ায় পশুর চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিতেই এই ভ্রাম্যমাণ ক্লিনিক। প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের (এলডিডিপি) মাধ্যমে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর দেশের ১১৫ টি উপজেলায় মোবাইল ভেটেরিনারি ক্লিনিক (এমভিসি) বিতরণ করা হবে কাল। রাজধানীর প্রাণিসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠান (এলআরআই) প্রঙ্গণে এমভিসি বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। এছাড়াও প্রাণিসম্পদ খাতের সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত থাকবেন।
এলডিডিপির প্রকল্প পরিচালক ডা. মো. জসীম উদ্দিন বলেন, খামারিদের দোরগোড়ায় আধুনিক ও জরুরি প্রাণী চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মোবাইল ভেটেরিনারি ক্লিনিক বিতরণ কার্যক্রম চলছে। প্রাণীর চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সার্ভিসগুলোর সমন্বয়ে একটি গাড়ি কাস্টমাইজ করে পেছনের অংশে একটি স্টিলের বক্স থাকবে। পোর্টেবল মেশিনগুলো এ গাড়িতে থাকবে। গাড়ির মাঝের অংশে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ভেটেরিনারি সার্জনকে নিয়ে বসবেন। সামনের ড্রাইভারের পাশে একজন কম্পাউন্ডার বা ড্রেসার থাকবেন। গাড়িতে জরুরি সেবার মেশিন যেমন থাকবে তেমনি ওষুধও থাকবে। তাই প্রয়োজন হলে চিকিৎসক যেন তাৎক্ষণিক সহায়তা দিতে পারবেন। এর আগে ৩৬০টি উপজেলায় এ গাড়ি দেওয়া হয়েছে। কাল আরো ১১৫ টি উপজেলায় হস্তান্তর করা হবে। তবে এর মধ্যে রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, ঢাকার কেন্দ্রীয় পশু হাসপাতাল, কেন্দ্রীয় রোগ গবেষণাগার, সাভার উপজেলা, বরিশাল, সিরাজগঞ্জ এবং যশোরের রোগ অনুসন্ধান গবেষণাগারের জন্য একটি করে মোবাইল ভেটেরিনারি ক্লিনিক (এমভিসি)বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে ক্ষুদ্র খামারিদের সংগঠন বাংলাদেশ ডেইরি এন্ড ফ্যাটেনিং ফারমার্স এসোসিয়েশনের (বিডিএফএফএ) সভাপতি মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন বলেন, এই এমভিসি সার্ভিস পেলে খামারিরা বেশ উপকৃত হবে। তবে এই গাড়ির ব্যবহার নিয়ে নানা অভিযোগ রয়েছে। তিনি আশা করেন, এই মোবাইল ভেটেরিনারি ক্লিনিক যাতে করে প্রকৃত খামারিদের সেবা নিশ্চিত করে সেটা দেখতে হবে। তা না হলে এই সেবা সার্ভিস কোনো কাজেই আসবে না।