1. admin@krishisangbad.com : admin :
  2. siddique149096@bsdi-bd.org : md abu bakar siddique rasim : md abu bakar siddique rasim
কৃষিতে বাড়ছে না ভর্তুকি, মোট বাজেটের ৫শতাংশ ভর্তুকির তাগিদ - কৃষি সংবাদ
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৪১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে মন্ত্রণালয়ের সাথে আইসিসিসিএডির সমঝোতা স্মারক সই দেশীয় মাছ সংরক্ষণ এবং মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে কাজ করছে সরকার: মৎস্য প্রতিমন্ত্রী প্রান্তিক খামারিদের স্বার্থে কেন্দ্রীয় মুরগি খামারে উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ টুকুর ১১৭ টি ফিড মিলকে নোটিশ করেছে সরকার রাজধানীর সাত স্থানে ককটেল বিষ্ফোরণসহ বাসে আগুন নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার বন্ধের আহ্বান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর ভেজালমুক্ত পণ্য নিশ্চিত করতে ডিজিটাল সেবা বাড়ানোর তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর রফতানিমুখী কৃষিজ পণ্য উৎপাদনে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির তাগিদ টিসিবির জন্য ১০ হাজার টন মসুর ডাল কিনবে সরকার সৌদি আরব থেকে ১৯৪ কোটি টাকার ইউরিয়া আমদানির অনুমোদন

কৃষিতে বাড়ছে না ভর্তুকি, মোট বাজেটের ৫শতাংশ ভর্তুকির তাগিদ

  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৭ মে, ২০২৫
  • ১৪০ বার পঠিত

সুমন ইসলাম :

বাংলাদেশ আগামী বছর যুক্ত হবে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে। এ কারণে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করতে ভর্তুকি থেকে বের হতে হবে। ভর্তুকি থেকে বের হয়ে আসতে কাজ করছে সরকার। এ কারণে নতুন করে কৃষিতে ভর্তুকি বৃদ্ধি না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অর্থ মন্ত্রনালয়। কিন্তু গত বছরের ভর্তুকির টাকা সুদসহ পরিশোধের জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে ২৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। তবে আগামী বাজেটের আকার বাড়বে না জানিয়ে এ বাবদ চলতি অর্থবছরের সমান ১৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিতে চায় অর্থ মন্ত্রণালয়।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ভর্তুকিতে বরাদ্দ না বাড়ালে তারা বিপাকে পড়বে। কারণ, ইতিমধ্যে সুদসহ ভর্তুকির বকেয়া অর্থ দাবি করছে ঠিকাদারেরা। ভর্তুকিতে বরাদ্দ বাড়াতে তাই দেনদরবার করছে কৃষি মন্ত্রণালয়।

কৃষিসচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান বলেন, কৃষিতে ২৫ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকির প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে আমাদের মন্ত্রনালয় কাজ করছে। তিনি বলেন, আমোদের পরিসংখ্যানে ঘাটতি আছে, কৃষি উৎপাদনের পরিসংখ্যান যথার্থ নয়। সঠিক পরিসংখ্যান তৈরি করতে একটি অ্যাপ বানানো হবে। সেই অ্যাপে জমির ধরণ অনুযায়ী কোন ঋতুতে কোন ফসল হবে, কোন বীজ কতটুকু লাগবে, সার ও কীটনাশক কী পরিমাণ লাগবে—তা জানতে পারবেন কৃষক। আবহাওয়া অনুযায়ী কোথায় কোন ধরনের ফসলের চাষ হবে তা-ও জানিয়ে দেওয়া হবে।

কৃষিসচিব আরও জানান, ২৫ বছর মেয়াদি একটি প্রেক্ষিত পরিকল্পনা প্রণয়নের কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে ২০৫০ সাল নাগাদ দেশের মানুষের জন্য কতটুকু এবং অন্যান্য প্রাণীর জন্য কতটুকু খাদ্যশস্য দরকার তার একটি ধারণা থাকবে। সরকার সেই তথ্যানুযায়ী উৎপাদন পরিকল্পনা তৈরি করবে, যাতে দীর্ঘ মেয়াদে সবার খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। ইতিমধ্যে কৃষি মন্ত্রণালয়ে এই কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। আগামী অর্থবছরের বাজেটে এ বিষয়ে দিকনির্দেশনা থাকবে।

কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, এছাড়া মোট বাজেটের প্রায় ৫ শতাংশ কৃষি ভর্তুকি খাতে দেয়া উচিত। এদিকে গত অর্থবছরের চেয়ে চলতি অর্থবছরের কমানো হয়েছে ভর্তুকিও। বিশ্ব দাতা সংস্থার চাপে আসন্ন বাজেটেও কমতে পারে এর পরিমাণ। তবে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত, মূল্যস্ফীতি কমানোর প্রক্রিয়ায় কৃষককে সহায়তা বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দিতে হবে। কৃষিখাতে বরাদ্দ ও ভর্তুকি বাড়লে, স্বাভাবিকভাবেই উৎপাদন বাড়বে। অন্যদিকে কমবে কৃষি পণ্যের দাম।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অর্থ বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, ভর্তুকি থেকে বের হয়ে আসার সময় এসেছে। ২০২৬ সালে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) কাতার থেকে বের হয়ে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হবে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করতে ভর্তুকি থেকে বের হতে হবে। যদিও এলডিসি থেকে উত্তরণের পরও তিন বছর গ্রেস পিরিয়ড থাকবে; কিন্তু সরকার এখন থেকেই ভর্তুকি ব্যবস্থাপনা করছে। তবে কৃষি খাতে সরকার ভর্তুকি অব্যাহত রাখবে।

এ বিষয়ে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, খাদ্য নিরাপত্তার জন্য কৃষি খাতে ভর্তুকি দরকার।

সূত্র জানায়, চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে কৃষিতে ভর্তুকি বাবদ দেওয়া ১৭ হাজার কোটি টাকার মধ্যে গত ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার চাহিদা পাওয়া গেছে। অর্থবছর শেষে এই ভর্তুকির পরিমাণ বরাদ্দের চেয়ে অনেক বাড়বে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কৃষি ভর্তুকির পরিমাণ ছিল ২৫ হাজার ৬৪৪ কোটি টাকা, যার পুরোটা এখনো পরিশোধ হয়নি। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে কৃষিতে ভর্তুকির জন্য ১৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে প্রকৃত ভর্তুকির পরিমাণ আরও বেশি। গত অর্থবছরে কৃষিতে ভর্তুকির ২৪ হাজার কোটি টাকা বকেয়া পরিশোধ করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়। বাকি টাকা সুদসহ দাবি করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় সুদসহ বকেয়া পরিশোধের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কারণ, সুদসহ বকেয়া শোধ না করলে তারা আগামীতে সারসহ অন্যান্য কৃষি উপকরণ সরবরাহ করবে না বলে জানিয়েছে।

অর্থমন্ত্রণালয় জানায়, জুনেই আগামী অর্থবছরের বাজেট পাস হবে। বাজেটের আকা জাতীয় বাজেট ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা হওয়ার সম্ভাবনা হযেছে। তবে এগুলো হেরফের হতে পারে। ইতোমধ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য দুই লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি)।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা এবং উপকরণ উইংয়ের তথ্যানুযায়ী, সারে ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৬ হাজার ৭১৬ কোটি টাকা, ২০২০-২১ অর্থবছরে ৭ হাজার ৮০০ কোটি টাকা, ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রায় ২৮ হাজার কোটি টাকা এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১৭ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়েছে। নতুন অর্থবছরে সারের চাহিদা কিছুটা বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন হওয়ায় কৃষি খাতে ভর্তুকির পরিমাণ বাড়ছে। কারণ কৃষির ভর্তুকির বড় অংশ ব্যয় হয় সার কেনায়। এর বাইরে কৃষির আধুনিকায়নের জন্য নতুন যন্ত্রপাতি কেনা, কৃষি পুনর্বাসন ও গবেষণা এবং ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের প্রণোদনায় ভর্তুকির টাকা খরচ করা হয়।

সূত্র জানায়, কৃষিতে ভর্তুকির টাকা বকেয়া পড়ায় অর্থ বিভাগ বন্ড ইস্যু করে ভর্তুকি বাবদ প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা কৃষি মন্ত্রণালয়কে দিয়েছে। কিন্তু বন্ড থেকে আশানুরূপ অর্থ সংগৃহীত না হওয়ায় বকেয়ার পুরোটা পরিশোধ করা যায়নি। কৃষি মন্ত্রণালয় গত অর্থবছরে ভর্তুকির বকেয়ার ২৪ হাজার কোটি টাকা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে শোধ করেছে।

সরকার সর্বশেষ ২০২৩ সালের ১১ এপ্রিল সারের দাম বাড়ায়। সে সময় সব ধরনের সারের দাম কেজিতে ৫ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। তারপর থেকে কৃষক পর্যায়ে ইউরিয়া সারের দাম প্রতি কেজি ২৭ টাকা, ডিএপি ২১ টাকা, টিএসপি ২৭ টাকা এবং এমওপি ২০ টাকা। সেই সময় কৃষি মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে ঘোষণা দিয়েছিল, আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম প্রতি কেজি ইউরিয়া ৪৮ টাকা, ডিএপি ৭০ টাকা, টিএসপি ৫০ টাকা এবং এমওপি ৬০ টাকা। কেজিতে ৫ টাকা দাম বাড়ানোর পরও সরকারকে ইউরিয়া সারে কেজিতে ২১ টাকা, ডিএপিতে ৪৯ টাকা, টিএসপিতে ২৩ টাকা এবং এমওপিতে ৪০ টাকা ভর্তুকি দিতে হবে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে সারের চাহিদা ৬৯ লাখ টন। চাহিদার ৮০ শতাংশ সার আমদানির মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০১১-১২ অর্থবছরে কৃষিতে জাতীয় বাজেটের মোট বরাদ্দ ছিল ১০ দশমিক ৬৫ শতাংশ। চাহিদার অনুপাতে এক দশক পেরিয়ে তা বাড়েনি, উল্টো কমে চলতি অর্থবছর দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৯৪ শতাংশে। এতে সামগ্রিকভাবে কৃষির প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা ৪ শতাংশও পূরণ হচ্ছে না।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ কৃষি সংবাদ
Theme Customized By Shakil IT Park