কৃষি সংবাদ প্রতিবেদক:
কর্মক্ষেত্রে ন্যূনতম জীবনসুরক্ষা মান নিশ্চিত করায় আজ বাংলাদেশের ৪৬টি তৈরি পোশাক (আরএমজি) কারখানাকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছে আরএমজি সাসটেইনেবিলিটি কাউন্সিল (আরএসসি)। ঢাকার আরএসসি কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ৪৬টি কারখানার প্রতিনিধিদের হাতে ‘লেটার অব রিকগনিশন’ বা স্বীকৃতিপত্র তুলে দেন আরএসসি-র ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল হক এবং চিফ সেফটি অফিসার (সিএসও) মো. হাসান নাওয়াজিস।
মঙ্গলবার আরএসসি এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নতুন করে ৪৬টি কারখানাসহ এখন পর্যন্ত মোট ৬৭৫টি পোশাক কারখানা আরএসসি-র স্বীকৃতি পেল। পোশাক খাতে শক্তিশালী নিরাপত্তা সংস্কৃতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এই কারখানাগুলোর গভীর প্রতিশ্রুতি বাংলাদেশকে বিশ্ব ফ্যাশন বাজারের জন্য অন্যতম নিরাপদ উৎস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়েছে, আরএসসি হলো ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি জাতীয় ত্রিপক্ষীয় বেসরকারি উদ্যোগ, যেখানে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প, বিশ্বখ্যাত ফ্যাশন ব্র্যান্ড এবং দেশি-বিদেশি ট্রেড ইউনিয়নগুলোর সমান প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। ২০১৩ সালের রানা প্লাজা ধসের পর গঠিত ‘বাংলাদেশ অ্যাকর্ড’-এর অবকাঠামো ও কার্যাবলীকে উত্তরাধিকার সূত্রে গ্রহণ করে আরএসসি বর্তমানে বাংলাদেশের পোশাক কারখানার নিরাপত্তা মানোন্নয়নে নেতৃত্ব দিচ্ছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে আরএসসি এখন পর্যন্ত ২৬,৮২২টি নিরাপত্তা পরিদর্শন সম্পন্ন করেছে। চিফ সেফটি অফিসার মো. হাসান নাওয়াজিস বলেন, এই স্বীকৃতি মূলত প্রাথমিক সংশোধনী কর্মপরিকল্পনা (সিএপি) সম্পন্ন করার প্রচেষ্টাকে সম্মান জানায়।
তিনি আরও যোগ করেন, টেকসই কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি, যার জন্য প্রয়োজন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং সম্মিলিত মানসিকতা। এটি কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় একটি অগ্রণী পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করে এবং একটি নিরাপদ সরবরাহ ব্যবস্থা তৈরিতে সহায়তা করে। প্রাথমিক পরিদর্শনের পর, প্রাপ্ত ত্রুটির গুরুত্ব বিবেচনা করে কারখানা ও ব্র্যান্ডগুলোকে একটি সময়োপযোগী সংশোধনী কর্মপরিকল্পনা (CAP) তৈরি করতে হয়। আরএসসি নিয়মিত কারখানার সাথে সমন্বয় করে এই কাজগুলো তদারকি করে এবং ফলো-আপ পরিদর্শনের মাধ্যমে কাজের অগ্রগতি নিশ্চিত করে।
প্রাথমিক সব ত্রুটি শতভাগ সংশোধন করার পরই একটি কারখানা এই স্বীকৃতিপত্র পাওয়ার যোগ্য হয়। এই স্বীকৃতি সেইসব কারখানাকে দেওয়া হয় যারা আরএসসি-র নিরাপত্তা কর্মসূচির সাথে নিরবচ্ছিন্নভাবে সহযোগিতা করেছে এবং কারখানার কাঠামো, অগ্নি ও বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর রেখেছে। বাংলাদেশের পোশাক খাতে নিরাপত্তা সংস্কৃতি জোরদার করার এটি একটি চলমান অংশ।
আরএসসি-র ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল হক বলেন, “আমাদের এই স্বীকৃতি মূলত শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও কমপ্লায়েন্সকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ক্ষেত্রে শিল্পের ধারাবাহিক অগ্রগতির প্রতিফলন। যেসব কারখানা এটি গ্রহণ করছে, তারা দীর্ঘদিনের অর্জিত নিরাপত্তা মান ধরে রাখতে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দেখিয়েছে। তবে এই অর্জন ধরে রাখা অর্জনের চেয়েও বেশি চ্যালেঞ্জিং। আমাদের সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যেতে হবে। আরএসসি বর্তমানে ১,৯২১টি কারখানার নিরাপত্তা তদারকি করছে। পরিদর্শনের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং একটি স্বাধীন অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা পরিচালনা করে থাকে।