কৃষি সংবাদ প্রতিবেদক:
উত্তম কৃষি চর্চা (গ্যাপ) অনুসরণ করে দেশে উৎপাদিত বাঁধাকপি সুপার শপের মাধ্যমে বাজারজাত কার্ক্রমের উদ্বোধন করা হয়। বাংলাদেশ গ্যাপ নিয়ে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর(ডিএএম) একটি অনানুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে আসা কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনগণকে গ্যাপ বিষয়ে অবহিত করা হয়। সেখানে গ্যাপ অনুসরণ করে উৎপাদিত বাঁধাকপি রাজধানীর বিভিন্ন সুপারসপের নিকট হস্তান্তর করা হয়।
গতকাল রাজধানীর খামারবাড়ীতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটের সামনে এগ্রিকালচার অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার) প্রকল্পের অর্থায়নে মাঠ পর্যায়ে পনেরোটি কৃষি পণ্য ‘বাংলাদেশ গ্যাপ’ এর মাধ্যমে ট্রায়াল হিসেবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর(ডিএই) উৎপাদিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
সে অনুযায়ী গ্যাপ এর ১ম উৎপাদিত বাঁধাকপি’র মার্কেট লিংকজে কাজ করে কৃষি বিপনন অধিদপ্তর। কৃষকের ভালো দাম প্রাপ্তির লক্ষে অধিদপ্তরের মাধ্যমে রাজধানীর কয়েকটি সুপারশপ এর সাথে বিক্রয়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের আবহাওয়া শাকসবজি ও মৌসুমী ফল চাষের জন্য উপযোগী। দেশে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজির ও ফলমূলের ফলন বেড়েই চলেছে। তাই সময় এসেছে এখন নিরাপদ সবজি উত্পাদন করে বিদেশে রফতানি বাড়ানোর। আর এ জন্য গুড এগ্রিকালচারাল প্রাকটিসেস (গ্যাপ) বা উন্নত কৃষি চর্চা অনুসরণে ফসল উত্পাদন প্রয়োজন। এতে উত্পাদন খরচ কিছু বেশি হলেও ক্রেতারা নিরাপদ কৃষি পণ্য পায় এবং কৃষি কার্যক্রম টেকসই হয়। পাশাপাশি পরিবেশ ও মানবস্বাস্থ্য সুরক্ষিত থাকে। তাই অতি দ্রুত প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশে গ্যাপ কার্যক্রম আরও বৃদ্ধি করতে সরকারসহ সবার এগিয়ে আসা প্রয়োজন।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক(ডিজি) মো. মাসুদ করিম বলেন, গ্যাপ মেইনটেইন করে আমাদের দেশে যে পন্য উৎপাদন শুরু হয়েছে এই উৎপাদিত পন্যটি আজ বানিজ্যিকভাবে বিক্রয় কাযক্রমের উদ্বোধন করা হলো। এটিই দেশে গ্যাপ মেইনটেইন করে কোন বাংলাদেশী পণ্যর দেশের বাজারে প্রথম বাজারজাত করা হল।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের পরিচালক ড. ফাতেমা ওয়াদুদ বলেন, নিরাপদ খাদ্যপণ্য প্রাপ্যতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে উত্পাদনের শুরু থেকে সংগ্রহ, সংগ্রহোত্তর ও প্রক্রিয়াকরণ যেমন- মাঠ হতে সংগ্রহ, প্যাকেজিং, পরিবহন ইত্যাদি পর্যায়ে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, চলতি অর্থবছরে বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায় ৩ জন কৃষক ৮৫ শতক জমিতে বাঁধাকপির উত্তম কৃষি চর্চা (গ্যাপ) ভেলিডেশন ট্রায়াল বাস্তবায়ন করা হয়। উৎপাদকদের জমিতে আনুমানিক ১২-১৩ টন বাঁধাকপি উৎপাদিত হয়েছে । তারা আশা করেন, বাংলাদেশ উত্তম কৃষি চর্চা পদ্ধতি অনুসরণ করে উৎপাদিত বাঁধাকপি আরও সুপার শপের মাধ্যমে বাজারজাতকরনে বা তাঁদের উৎপাদিত কৃষি পণ্যের ভালো দাম প্রাপ্তিতে সরকার কতৃক পরিবহন ও প্যাকজিং সুবিধা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন ।