1. admin@krishisangbad.com : admin :
  2. siddique149096@bsdi-bd.org : md abu bakar siddique rasim : md abu bakar siddique rasim
আশার আলো জাগাচ্ছে বারি-৫ জাতের পেঁয়াজ, বিঘায় উৎপাদন দুইশ মণ - কৃষি সংবাদ
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে মন্ত্রণালয়ের সাথে আইসিসিসিএডির সমঝোতা স্মারক সই দেশীয় মাছ সংরক্ষণ এবং মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে কাজ করছে সরকার: মৎস্য প্রতিমন্ত্রী প্রান্তিক খামারিদের স্বার্থে কেন্দ্রীয় মুরগি খামারে উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ টুকুর ১১৭ টি ফিড মিলকে নোটিশ করেছে সরকার রাজধানীর সাত স্থানে ককটেল বিষ্ফোরণসহ বাসে আগুন নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার বন্ধের আহ্বান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর ভেজালমুক্ত পণ্য নিশ্চিত করতে ডিজিটাল সেবা বাড়ানোর তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর রফতানিমুখী কৃষিজ পণ্য উৎপাদনে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির তাগিদ টিসিবির জন্য ১০ হাজার টন মসুর ডাল কিনবে সরকার সৌদি আরব থেকে ১৯৪ কোটি টাকার ইউরিয়া আমদানির অনুমোদন

আশার আলো জাগাচ্ছে বারি-৫ জাতের পেঁয়াজ, বিঘায় উৎপাদন দুইশ মণ

  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৪
  • ৬০ বার পঠিত

কৃষি সংবাদ প্রতিনিধি পাবনা:

নতুন জাতের পেঁয়াজ বারি-৫ । এই পেঁয়াজ চাষে তুলনামূলক খরচ কম হলেও ফলন অন্য পেঁয়াজ থেকে সাড়ে তিনগুণ বেশি হয়। সংকটের মধ্যে আশা জাগাচ্ছে পাবনার চাষিদের। চাষাবাদ নিয়ে আশাবাদী কৃষি বিভাগও।

কৃষি বিভাগ বলছে, সাধারণত গ্রীষ্মকালে দেশের বাজারে পেঁয়াজের সংকট তৈরি হয়। কারণ এ সময় চাষিদের হাতে কোনো পেঁয়াজ থাকে না। অন্যদিকে এর আগে অল্প দামে চাষিদের থেকে পেঁয়াজ কিনে মজুত রাখে অসাধু ব্যবসায়ীরা। ফলে সংকটকালে পেঁয়াজের দাম নিয়ে কারসাজি শুরু হয়। এ সময়ে কোনো পেঁয়াজ চাষও হয় না। এসব বিবেচনায় রেখে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের আওতায় বগুড়ার মসলা গবেষণা কেন্দ্র বারি-৫ নামে একটি জাতের পেঁয়াজ উদ্ভাবন করে। যেটি আবাদে মুড়িকাটা বা চারা পেঁয়াজের তুলনায় ব্যয় তুলনামূলক কম। কিন্তু ফলন কয়েকগুণ বেশি। মাত্র ৩০ হাজার টাকা খরচে প্রতি বিঘায় ফলন দেড়শ থেকে দুইশ মণও হয়ে থাকে। প্রতিটি পেঁয়াজ ওজনে ২০০-৩০০ গ্রাম পর্যন্ত হয়। কম খরচে নতুন জাতের উচ্চ ফলনের পেঁয়াজ চাষে লাভের সম্ভাবনা কয়েকগুণ বেশি। তাই এ পেঁয়াজ চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন চাষিরা।

কৃষক শাহজাহান আলী বাদশা বলেন, কয়েক বিঘা জমিতে এবার আমি এ পেঁয়াজ আবাদ করেছি। একেকটি পেঁয়াজের ওজন ৩০০ গ্রাম পর্যন্ত হবে। এরই মধ্যে ২০০ গ্রাম অতিক্রম করেছে। বিঘায় ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ফলন হবে ২০০ মণের মতো। যা সাধারণত ১ একর জমিতেও সম্ভব নয়। এদিক থেকে দেড় থেকে ২ হাজার টাকা মণ বিক্রি করলেও খরচ বাদে প্রায় ২ থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত লাভ করা সম্ভব। এ পেঁয়াজ নিয়ে আমরা খুবই আশাবাদী। এটি আমাদের জন্য লাভজনক একটি ফসল।

চাষি শাহিনুজ্জামান বলেন, চাষে খুব বেশি জটিলতা নেই, খরচও কম। এর বিপরীতে ফলন ব্যাপক। প্রতি বিঘায় আমার ফলন হবে দেড়শ থেকে ১৬০ মণের মতো। অন্য পেঁয়াজে খরচ তোলা বা লাভ নিয়ে যে আশঙ্কা থাকে; সেটি এ ক্ষেত্রে একদমই নেই। তবে বীজ নিয়ে একটু জটিলতা আছে। এর বীজ এখনো চাষিরা উৎপাদন শুরু করেননি। বীজ উৎপাদনে কিছুটা হিসেব-নিকেশের ব্যাপার আছে। এটি কাটাতে পারলে উঁচু সব জমিতে চাষ করা যাবে। এতে যে সময়ে পেঁয়াজের সংকট দেখা দেয়; সে সময়টা এ পেঁয়াজ দিয়ে মেটানো যাবে।

সদর উপজেলার আতাইকুলা মধুরপুরের মকবুল হোসেন বলেন,যে হারে ফলন হচ্ছে, তাতে লোকসান তো দূরে থাক; লাভ নিয়েও চিন্তার কিছু দেখছি না। মুড়িকাটা পেঁয়াজে খরচ ওঠানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় চাষিরা। কারণ দাম খুবই কম। কিন্তু এ পেঁয়াজে সে ভয় নেই। মার না খেলে আবাদ ২০০ মণের জায়গায় এক-দেড়শ মণ হবেই। সেদিক থেকে দাম আরও কম হলেও লাভবান হবো আমরা।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, জেলার ৯টি উপজেলায়ই কম-বেশি গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের নতুন জাত বরি-৫-এর আবাদ হয়েছে। তবে বেশি হয়েছে সদর, ঈশ্বরদী, সাঁথিয়া, সুজানগর, চাটমোহর ও আটঘরিয়া উপজেলায়। জেলায় এবার প্রায় ৭০ হেক্টর জমিতে এ পেঁয়াজের আবাদ করেছেন চাষিরা। বিঘায় দেড়শ মণ ফলন ধরলেও এ থেকে প্রায় ৮০ হাজার মণ পেঁয়াজ উৎপাদন হবে।

পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. জামাল উদ্দীন বলেন, জেলায় এ পেঁয়াজের আবাদ ছড়িয়ে দিতে কাজ করছে কৃষি বিভাগ। চাষপদ্ধতি ও পরিচর্যাসহ সব বিষয়ে চাষিদের পরামর্শ দিচ্ছেন মাঠকর্মীরা। উচ্চ ফলনে কৃষকেরা ব্যাপকভাবে লাভবান হবেন। তবে এ পেঁয়াজের বীজ উৎপাদন ও সংরক্ষণাগার স্থাপনে কৃষকদের সহযোগিতা প্রয়োজন।

পরিদর্শন শেষে উপ-সচিব কামরুল হাসান বলেন, বারি-৫ পেঁয়াজে এখানকার চাষিদের সফলতা উল্লেখ করার মতো। সেটি দেখতেই এখানে এসেছিলাম। এ পেঁয়াজ চাষে ব্যাপক সম্ভাবনা আছে। এর বীজ উৎপাদন এখনো চাষিদের হাতে দেওয়া সম্ভব হয়নি। এটি সম্ভব না হলে জনপ্রিয়তা হারাবে। বীজ উৎপাদনে পলিনেট হাউজসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিগত পদ্ধতির প্রয়োজন হচ্ছে। এ ব্যাপারে কীভাবে সহযোগিতা দেওয়া যায়; সেটি নিয়ে মন্ত্রণালয়ে কথা বলবো।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ কৃষি সংবাদ
Theme Customized By Shakil IT Park