কৃষি সংবাদ প্রতিবেদক:
আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে সুলভ মূল্যে দুধ, ডিম, গরুর মাংস ও ব্রয়লার মুরগি বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার ২৫টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ভ্রাম্যমাণ বিক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে এসব পণ্য বিক্রি করা হবে। কাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯ টায় রাজধানীর মহাখালিস্থ প্রাণিসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠান (এলআরআই) প্রঙ্গনে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, কৃষি ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
রমজানের আগের দিন থেকে এ বিক্রি কার্যক্রম পরিচালনার শুরু করার কথা থাকলেও নতুন সরকার গঠনের কারণে প্রথম রমজান (বৃহস্পতিবার) থেকে শুরু হয়ে ২৫ রমজান পর্যন্ত এ কার্যত্রম চলবে বলে জানিয়েছেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান।
তিনি বলেন, রমজানে প্রান্তিক মানুষের জন্য ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রির এ কার্যক্রম ২৫ রজমান পর্যন্ত চলবে। প্রাথমিকভাবে রাজধানীর ২৫ টি জায়গায় পণ্য বিক্রি কার্যক্রম শুরু করা হবে। রমজান মাসে প্রতি কেজি ড্রেসড ব্রয়লার মুরগি ২৫০ টাকা, গরুর মাংস ৬৫০ টাকা, পাস্তুরিত তরল দুধ প্রতি লিটার ৮০ টাকা এবং প্রতিটি ডিম ৮ টাকা দরে বিক্রি করা হবে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ডেইরী এন্ড ফ্যাটেনিং ফার্মার্স এসোসিয়েশনের (বিডিএফএফএ) সভাপতি মো. ইকবাল হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আসন্ন রমজানে ন্যায্যমূল্যে গরুর মাংস এবং দুধ সরবরাহের সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমরা সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে এ কাজটি সম্পন্ন করতে চাই। তিনি আশা করেন, গত বছরের মতো এ বছরও মাংসের চাহিদা পূরণে সরকারি খামারগুলো থেকে গরু সরবরাহ করা হবে। এছাড়াও সরকারিভাবে প্রয়োজনীয় সাপোর্ট দেওয়া হলে প্রয়োজনীয় মাংস ও দুধ সরবরাহ করা সম্ভব হবে। গ্রাহকদের চাহিদা ও সরকারি সুবিধা নিশ্চিত হলে বাড়ানো হবে বিক্রির স্পট।
বিডিএফএফএর সভাপতি মো. ইকবাল হোসাইন আরো বলেন, এ বছর সরকারিভাবে আমাদের ৩৫০ টি গরু সরবরাহের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এর সঙ্গে আবার ২৫ শতাংশ ভ্যাট জুড়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু আমাদের দাবি ছিল ভ্যাট প্রত্যাহার করা কিন্তু তা করা হয়নি। এমতাবস্থায় রজমানে ৬৫০ টাকায় গরুর মাংস সরবরাহ করা বেশ কষ্ট সাধ্য যেখানে বাজারে ৭৫০-৮০০ টাকায় গরুর মাংস বিক্রি করা হচ্ছে।
যেসব স্থানে মিলবে এই সুবিধা
প্রাথমিকভাবে ঢাকার ২৫টি স্থানে এই সুলভ মূল্যের পণ্য পাওয়া যাবে। স্থানগুলো হলো-আব্দুল গনি রোড (সচিবালয়ের পাশে), খামারবাড়ি (ফার্মগেট), মিরপুর ৬০ ফুট রোড, আজিমপুর মাতৃসদন, পুরান ঢাকার নয়াবাজার, উত্তরা হাউজ বিল্ডিং, রামপুরা বাজার, হাজারীবাগ, মতিঝিলের আরামবাগ, মিরপুর কালশী, যাত্রাবাড়ীর মানিকনগর গলির মুখ, বাড্ডার শাহজাদপুর, বনানীর কড়াইল বস্তি, কামরাঙ্গীরচর, খিলগাঁও রেলক্রসিংয়ের দক্ষিণ পাশ, নাখালপাড়া লুকাস মোড়, সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজার, মোহাম্মদপুর বাবর রোড, বসিলা, কাকরাইল, বনশ্রী, মিরপুর-১০, কল্যাণপুর, তেজগাঁও এবং বঙ্গবাজার।