কৃষি সংবাদ প্রতিনিধি রাজশাহী:
চাষিদের আর্থিকভাবে লাভবান করতে আমের জন্য হিমাগার স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তিনি বলেছেন, এই যে এখানে আম বাগান, আমাদের এই যে চাঁপাই শহর, রাজশাহীর যে আম বাগান— আমাদের এখানে আমকে সংরক্ষণ করার জন্য কোনো হিমগার নেই। আমাদের পরিকল্পনার মধ্যে একটি আছে, কীভাবে আমকে সংরক্ষণ করা যায়, আরও বেশি কিছুদিন রাখা যায়; সেটা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আমরা আমের জন্য হিমগার তৈরি করতে চাই এই এলাকায়।
তিনি বলেন, রাজশাহী বললেই বোঝায় পদ্মা নদী… এখন দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে—পদ্মাই বলেন, তিস্তাই বলেন, ব্রক্ষপুত্রই বলেন; যে নদীই বলেন, পানি আছে কোনো?
“কোনো পানি নাই, পদ্মা নদীর সাথে যে খালগুলো আছে, সেখানেও পানি নাই। আমাদের নদীতে পানি দরকার। এই এলাকার খালগুলো আমরা খনন করতে চাই। ধানের শীষ ইনশাল্লাহ বিজয়ী হলে আমরা পদ্মা ব্যারেজ করতে চাই। ইনশাল্লাহ আমরা পদ্মা ব্যারেজের কাজে হাত দেব।
পদ্মা ব্যারেজ যদি ইনশাআল্লাহ আমরা তৈরি করতে পারি, পুরা এই এলাকার মানুষের উপকার হবে—রাজশাহীসহ নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সবাই। ইনশাআল্লাহ আমরা পদ্মা ব্যারেজের কাজে হাত দিব।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, কতগুলো পুরনো পরিকল্পনা, যেগুলোকে আমরা নতুন করে চালু করব—শহীদ জিয়ার সেই খাল খনন কর্মসূচি। সাথে আমরা পদ্মা ব্যারেজের কাজেও ইনশাআল্লাহ হাত দিব যত দ্রুত সম্ভব। কিন্তু তার জন্য আপনাদেরসহ এই পুরো অঞ্চলের উত্তর অঞ্চলের প্রতিটি মানুষকে ধানের শীষকে জয়যুক্ত করতে হবে। কারণ এই বরেন্দ্র প্রকল্পের সুবিধা রাজশাহী থেকে শুরু করে সেই ঠাকুরগাঁও পঞ্চগড় পর্যন্ত কৃষকরা সুবিধা পেয়ে থাকে, পায় না? সেই পর্যন্ত চলে গিয়েছে এ প্রকল্পের সুযোগ-সুবিধা।
তারেক রহমান বলেন, এই যে বরেন্দ্র প্রকল্প, যেটা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান চালু করেছিলেন, এই বরেন্দ্র প্রকল্প চালু করার পরেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় দেশ খাদ্যে দ্বিগুণ উৎপাদন করে, দ্বিগুণ খাদ্য উৎপাদন করে। এখন সেই বরেন্দ্র প্রকল্প প্রায় আজ বন্ধ বন্ধ অবস্থায়। কিন্তু বিগত ১৬ বছর আমরা দেখেছি যে, এটাতে কোনো কাজই হয় নাই। স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এই বরেন্দ্র প্রকল্প সবচেয়ে বড় প্রকল্প ছিল, যাদের নিজস্ব বাজেট ছিল প্রায় ১০০০ কোটি টাকা। কিন্তু সেই বরেন্দ্র প্রকল্পকে ধামাচাপা রেখে দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা এই বরেন্দ্র প্রকল্পকে চালু করতে চাই সঠিকভাবে আবার। এই এলাকার খালগুলোকে আমরা খনন করতে চাই, পদ্মা নদীকে আমরা খনন করতে চাই।
বিএনপি সরকার গঠন করলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফেরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, কৃষক যদি আজকে ভালো থাকে, তাহলে অবশ্যই দেশের মানুষ ভালো থাকবে। কৃষক যদি আজকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী ভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে, তাহলে দেশের মানুষও সহজেই কৃষি উৎপাদিত যে সকল পণ্য আছে—সেগুলো তারা সহজেই তাদের ব্যবহারের জন্য ব্যবহার করতে পারবে এবং সেজন্যই কৃষক ভাইদেরকে সহযোগিতা করার জন্য আমরা ঠিক ফ্যামিলি কার্ড যেমন মায়েদের হাতে পৌঁছে দিতে চাই, কৃষক ভাইদের জন্য আমরা কৃষি কার্ড একটি পৌঁছে দিতে চাই। প্রত্যেক কৃষক ভাইদের কাছে যার (কার্ডের) মাধ্যমে তারা ব্যাংকের ঋণসহ যার মাধ্যমে তারা সরকারের পক্ষ থেকে কীটনাশক ঔষধ, বীজ সহ সার সহ এই সুবিধাগুলো সরাসরি আমরা কৃষক ভাইদের হাতে পৌঁছে দিতে চাই।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “আমরা আরেকটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমরা হিসাব-নিকাশ করে দেখেছি এবং তারপরে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত যাদের কৃষি ঋণ এই মুহূর্ত পর্যন্ত আছে, ইনশাআল্লাহ আগামী ১২ তারিখে ধানের শীষ বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করলে আমরা ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করব ইনশাআল্লাহ।”
তারেক রহমান বলেন, ১২ তারিখে বাংলাদেশের মানুষকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, আগামী দিন আমরা দেশকে কোন দিকে পরিচালিত করব। দেশকে আমরা গণতন্ত্রের দিকে পরিচালিত করব, নাকি দেশ অন্য কোনো দিকে চলে যাবে.. এই বিষয়ে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
“গণতন্ত্রের দিকে যদি আমরা দেশকে ধাবিত করি, গণতন্ত্রের পথে যদি দেশকে আমরা পরিচালিত করি; তাহলে আজকে আমরা যেসব পরিকল্পনার কথা বললাম, আপনাদের যে দাবিগুলোর কথা তুলে ধরলাম, মানুষের উপকার হয়—সেই কাজগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, আমরা যদি গণতন্ত্রকে ধরে রাখতে না পারি; তাহলে মেগা প্রজেক্ট হবে, জনগণের কোনো প্রজেক্ট হবে না।“জনগণের প্রজেক্ট যদি বাস্তবায়ন করতে হয়, তাহলে অবশ্যই গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা করতে হবে; গণতন্ত্রের ভিত্তিকে মজবুত করতে হবে। তাহলেই জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে। আসুন, আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে; ঐক্যবদ্ধ হওয়ার মাধ্যমে অবস্থার পরিবর্তন করতে হবে।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, অবস্থার পরিবর্তনের অর্থ যেকোনো মূল্যে গণতন্ত্রকে সুসংহত করা, গণতন্ত্রের ঝান্ডাকে উপরে তুলে ধরা। কোনোভাবে যেন জনগণের ঝান্ডা নেমে যেতে না পারে—এ ব্যাপারে সকলকে দৃষ্টি রাখতে হবে।
বিএনপি নেতা তারেক রহমান বলেন, আমরা শান্তিতে বিশ্বাস করি। কারণ শান্তি থাকলে আমি যে কথা বললাম, সেগুলো বাস্তবায়ন করতে পারব। আমরা ঝগড়া-বিবাদের মধ্যে যেতে চাই না। আমি আজ এখানে দাঁড়িয়ে কারো সমালোচনা করছি না। কারণ আমি যদি সমালোচনা করি, আপনাদের কোনো লাভ হবে, আপনাদের পেট ভরবে? আপনাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে, আপনাদের কৃষি ঋণ মওকুফ হবে?
তিনি বলেন, কোথাও যদি কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে, অন্তবর্তীকালীন যে সরকার আছে; তাদের উচিত সুষ্ঠু তদন্ত করা । সেই সুষ্ঠু তদন্তে যদি বিএনপির ভূমিকা থাকে, আমরা সার্বিকভাবে সহযোগিতা করব। সঠিক তদন্ত হলে দেশের আইন অনুযায়ী বিচার হতে হবে। আমরা মুসলাম,বৌদ্ধ, হিন্দু, খ্রিস্টান—সকলে এদেশে আমরা শান্তিতে বসবাস করতে চাই। একাত্তর সালে যখন আমরা দেখিনি কে কোন ধর্মের, চব্বিশ সালের ৫ অগাস্টেও আমরা দেখিনি কে কোন ধর্মে।”
রাজশাহীর আইটি পার্ক সচল, রাজশাহী বিভাগে একটি ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট স্থাপন, একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণেরও আশ্বাস দেন তারেক রহমান।
তারেক রহমান বলেন, ১২ তারিখে ধানের শীষ জয়যুক্ত হলে পরে ইনশাল্লাহ ১৩ তারিখ থেকে শুরু হবে জনগণের জয়যাত্রা।
রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন-অর-রশিদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান লিটনের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন দলের নেতা শাহীন শওকত, দেবাশীষ রায় মধু, সাইফুল ইসলাম মার্শাল, বিশ্বনাথ সরকারসহ সহযোগী সংগঠনের নেতারা।মাদ্রাসা মাঠের সমাবেশ শেষ করে তারেক রহমান পাশের জেলা নওগাঁর পথে রওনা হয়েছেন। বিকাল সাড়ে ৫টায় শহরের এটিম মাঠে নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য বিএনপি চেয়ারম্যানের বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। এরপর রাত সাড়ে ৭টায় বগুড়ার আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে আরেকটি নির্বাচনি সমাবেশে বক্তব্য দেবেন তিনি।