1. admin@krishisangbad.com : admin :
  2. siddique149096@bsdi-bd.org : md abu bakar siddique rasim : md abu bakar siddique rasim
২০০ বছরের স্বাদের ঐতিহ্য সিরাজদিখানের ‘পাতক্ষীর’ - কৃষি সংবাদ
বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৩২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সারের আমদানি বাড়ানো হবে: কৃষিমন্ত্রী বালতি-ড্রামেই এডিসের বড় উৎস: উচ্চ ঝুঁকিতে ২৯ ওয়ার্ড ইউপি নির্বাচনের তালিকা যাচাইয়ে মাঠপর্যায়ে ইসির নির্দেশ সংবাদ প্রকাশের জেরে গ্রেফতারে আদালতের অনুমতি নিতে হবে, মন্ত্রিসভার কমিটিতে ঐকমত্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে অভিযান, ৮ লাখ ২৮ হাজার টাকা জরিমানা ৪ ডিসেম্বর হচ্ছে না মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা ভ্যাকসিন উৎপাদনে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে আনার তাগিদ প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর শ্রমিক বিক্ষোভে রণক্ষেত্র সাভার, ওসির গাড়িতে আগুন ডিসেম্বরেই পোশাক শ্রমিকদের নতুন মজুরি কাঠামো নির্ধারণ, কার্যকর জানুয়ারিতে ফল, গরুর মাংস ও পোল্ট্রিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে দেশব্যাপী অভিযান

২০০ বছরের স্বাদের ঐতিহ্য সিরাজদিখানের ‘পাতক্ষীর’

  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১৯৫ বার পঠিত

কৃষি সংবাদ প্রতিনিধি, মুন্সীগঞ্জ:

পদ্মা-মেঘনা-ধলেশ্বরী বিধৌত মুন্সীগঞ্জ ইতিহাস আর ঐতিহ্যে লালিত জেলা। মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান বিক্রমপুরের প্রাচীন জনপদ। ‘পাতক্ষীর’ এই জেলার এক ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি। দুইশ বছর ধরে মিষ্টিপ্রেমিদের কাছে পরিচিত একটি নাম সিরাজদিখানের সুস্বাদু মিষ্টান্ন ‘পাতক্ষীর’। পুরোনো প্রস্তুত প্রণালি ব্যবহার করে আজও স্বাদের ঐতিহ্য ধরে রেখেছে ‘পাতক্ষীর’।

জেলার সিরাজদিখানের সন্তোষপাড়ার পুলিনবিহারী দেব ও তার স্ত্রীর তৈরি কলাপাতায় মোড়ানো ‘পাতক্ষীর’ শুধু একটি খাবার নয়, একটি ঐতিহ্যের নাম। এটি একটি ইতিহাস। দুই শত বছর পেরিয়ে বাঙালির রসনাতৃপ্তির এই মিষ্টান্নটি ভৌগোলিক নির্দেশক ( জিআই) স্বীকৃতি পেয়েছে। যা এই মিষ্টান্নকে আলাদা মর্যাদা দিয়েছে।

সিরাজদিখানের প্রবীণরা জানান, আজ থেকে ২০০ বছর আগে সন্তোষপাড়া গ্রামের বাসিন্দা পুলিনবিহারী দেব ও তার স্ত্রী প্রথমে এই মিষ্টি তৈরি করেছিলেন। সে সময় এলাকায় দুধ ছিল স্বাভাবিক খাদ্যপণ্য। কিন্তু ক্ষীরসা তৈরি হতো না। পুলিনবিহারী দম্পতি দুধ ঘন করে ক্ষীরসা তৈরির নতুন কৌশল উদ্ভাবন করে বাজারে সীমিত আকারে বিক্রি শুরু করেন। মিষ্টান্নটির স্বাদ, রং ও আকৃতিতে নতুনত্ব থাকায় দ্রুত এর চাহিদা বৃদ্ধি পায়। পুলিনবিহারী দেবের পর লক্ষ্মী রানী ঘোষ ও ইন্দ্রমোহন ঘোষ পরিবার ‘পাতক্ষীর’ তৈরি শুরু করেন। এখনও বংশ পরিক্রমায় এই মিষ্টান্ন তৈরি করা হয়।

আদর্শ মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের কারিগর বিশ্বচন্দ্র রায় বলেন, দুধ দীর্ঘক্ষণ জ্বাল দিয়ে ঘন করা হয়। তারপর তৈরি ছানা পৃথক করা হয়। সাথে গুড় বা চিনি মিশিয়ে ক্ষীরসা তৈরি করা হয়। এক চিমটি হলুদ মিশিয়ে হলদে রঙের করা হয়। অত:পর ঘন ক্ষীর কলাপাতায় মোড়ানো হয়।

তিনি জানান, ৩০ লিটার দুধ থেকে ৫ কেজি পাতক্ষীর তৈরি করা যায়। পাতক্ষীর তৈরি করার জন্য স্থানীয়ভাবে দুধ সংগ্রহ করা হয়।

কারিগররা জানান, কলাপাতায় মোড়ালে মিষ্টান্ন দীর্ঘ সময় ভালো থাকে। পাতার একটি প্রাকৃতিক সুবাস ক্ষীরের সাথে মিশে বিশেষ স্বাদ তৈরি করে।

শীতের সময় পাটি সাপটা পিঠা তৈরিতে সিরাজদিখানের পাতক্ষীরের জুরি নেই। দেশ ছাড়িয়ে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও সামান্য পরিমাণে বাজারজাত হয়। দুধ দিয়ে তৈরি এই ক্ষীরসা ২ থেকে ৩ দিন স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ভালো থাকে। সিরাজদিখান বাজারের রাজলক্ষ্মী মিষ্টান্ন ভাণ্ডার, মা ক্ষীর ভাণ্ডারসহ স্থানীয় বিভিন্ন মিষ্টান্নের দোকানে প্রতিদিন প্রায় ২৫০ পাতা পাতক্ষীর বিক্রি হয়। সিরাজদিখানের পাতক্ষীর চলতি বছর ৩০ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে জিআই স্বীকৃতি পেয়েছে।

সিরাজদিখান বাজারের মহাগুরু মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের মালিক সুশান্ত ঘোষ বলেন, এখানে প্রতিদিন প্রায় কয়েক হাজার পাতা পাতক্ষীর বিক্রি হয়। আধা কেজির প্রতি পাতার দাম প্রায় ৮০০ টাকা। জিআই স্বীকৃতি পাবার পর এই মিষ্টির বাণিজ্যিক প্রসার ঘটেছে।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ কৃষি সংবাদ
Theme Customized By Shakil IT Park