1. admin@krishisangbad.com : admin :
  2. siddique149096@bsdi-bd.org : md abu bakar siddique rasim : md abu bakar siddique rasim
পটুয়াখালীতে আমন ধানে পোকার আক্রমণ, ক্ষতির আশঙ্কায় কৃষকেরা - কৃষি সংবাদ
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে মন্ত্রণালয়ের সাথে আইসিসিসিএডির সমঝোতা স্মারক সই দেশীয় মাছ সংরক্ষণ এবং মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে কাজ করছে সরকার: মৎস্য প্রতিমন্ত্রী প্রান্তিক খামারিদের স্বার্থে কেন্দ্রীয় মুরগি খামারে উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ টুকুর ১১৭ টি ফিড মিলকে নোটিশ করেছে সরকার রাজধানীর সাত স্থানে ককটেল বিষ্ফোরণসহ বাসে আগুন নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার বন্ধের আহ্বান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর ভেজালমুক্ত পণ্য নিশ্চিত করতে ডিজিটাল সেবা বাড়ানোর তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর রফতানিমুখী কৃষিজ পণ্য উৎপাদনে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির তাগিদ টিসিবির জন্য ১০ হাজার টন মসুর ডাল কিনবে সরকার সৌদি আরব থেকে ১৯৪ কোটি টাকার ইউরিয়া আমদানির অনুমোদন

পটুয়াখালীতে আমন ধানে পোকার আক্রমণ, ক্ষতির আশঙ্কায় কৃষকেরা

  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১০৭ বার পঠিত

প্রতিনিধি, পটুয়াখালী:

জেলার বিভিন্ন উপজেলায় আমন ধানে অস্বাভাবিক হারে পোকার আক্রমণ দেখা দেওয়ায় কৃষকেরা ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছেন। জেলার পটুয়াখালী সদর, কলাপাড়া, মির্জাগঞ্জ, দুমকি, গলাচিপা, দশমিনা, বাউফল ও রাঙ্গাবালি উপজেলাজুড়ে বিস্তীর্ণ সবুজ ধান ক্ষেতের পাতা হলুদ হয়ে ঝলসে যাওয়ার ঘটনায় কৃষকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

সরেজমিনে মাঠপর্যায়ে ঘুরে দেখা গেছে, বহু এলাকায় পাতা মোড়ানো পোকা এবং ঝলসানো পোকা ধানের গাছের কচি অংশ নষ্ট করছে, ফলে ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে বলে জানান কৃষকেরা।

দুমকি উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের জলিশা, বাহেরচর, মুরাদিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ মুরাদিয়া, শ্রীরামপুর ইউনিয়নের রাজাখালী, চরবয়েড়া, লেবুখালী ইউনিয়নের আঠারগাছিয়া এবং পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের আলগি ও বাঁশবুনিয়া গ্রামজুড়ে আক্রান্ত জমির সংখ্যা বাড়ছে প্রতিদিনই।

এসব এলাকার অধিকাংশ কৃষকই জানান, গত সপ্তাহ থেকেই পাতা মোড়ানো ও গাছ শুকিয়ে ফেলার পোকা ধানের গাছে আক্রমণ শুরু করেছে। বিশেষত উঁচু জমির ফসল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেন।

জলিশা গ্রামের কৃষক নুরুল আমিন বাসসকে বলেন, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে তার জমির একটি অংশ ঝলসে গেছে। তিনি বলেন, ‘পাতা আগে হলুদ হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে, পরে শিষ নষ্ট হচ্ছে। ওষুধ দিয়েছি, কিন্তু তেমন কোনো ফল পাচ্ছি না।’ তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এভাবে চলতে থাকলে মৌসুমের উৎপাদন অর্ধেকে নেমে আসবে।

দক্ষিণ মুরাদিয়ার কৃষক আব্দুল খালেক বলেন, বিভিন্ন দোকান থেকে তিন ধরনের ওষুধ কিনে ছিটিয়েছি। কিন্তু উল্টো পাতা আরও শুকিয়ে যাচ্ছে। কোনটা ব্যবহার করতে হবে, সে বিষয়ে সঠিক পরামর্শ পাচ্ছি না। তিনি জানান, বাজার থেকে পরামর্শ ছাড়াই ওষুধ নেওয়ার ফলে অনেকেই ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

রাজাখালী গ্রামের কৃষক আমির হোসেন জানান, উঁচু জমির ধানের গাছ আক্রান্ত হওয়ার হার বেশি। গাছের মাথা শুকিয়ে যাচ্ছে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে ফলন কমে যাবে। ধানের শিষে পোকা ঢুকে পড়লে আর কোনোভাবেই ফসল রক্ষা করা যাবে না।

বাউফল উপজেলার কনকদিয়া এলাকার কৃষক আবদুস সত্তার মিয়া, মালেক মিয়া ও ফারুক মিয়া জানান, এলাকাজুড়ে প্রায় সব ক্ষেতেই পোকার আক্রমণ দেখা গেছে। আবদুস সত্তার বলেন, নিয়মিত ওষুধ দিচ্ছি, তাও পোকা কমছে না। এভাবে চলতে থাকলে ধান ঘরে তোলা কঠিন হবে।

মালেক মিয়া অভিযোগ করে বলেন, কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে এলে সঠিক পরামর্শ পাওয়া যেত। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, আক্রান্ত গাছের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে।

মির্জাগঞ্জ উপজেলার কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, ফসল পাকতে আর বেশি সময় নেই। এর মধ্যে যদি পোকা আরও ছড়ায়, তাহলে বড় ধরনের ক্ষতি হবে। দ্রুত সরকারি সহায়তা প্রয়োজন।

চরবয়েড়া গ্রামের কৃষক শাহেদ আলম বলেন, আমরা যারা প্রতিদিন মাঠে থাকি, তাই আমরা সবচেয়ে আগে সমস্যাটা বুঝতে পারি। কিন্তু এমন সমস্যার সময়ে মাঠপর্যায়ের সহায়তা তেমন একটা পাই না। পোকা এখনো নিয়ন্ত্রণে না এলে পুরো মৌসুমই ঝুঁকিতে পড়বে।

এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মিলন ও দুমকি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন  বলেন, আমন ধানে পোকার আক্রমণের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তারা বলেন, ‘মৌসুমি আবহাওয়ার পরিবর্তন, উচ্চ আর্দ্রতা ও তাপমাত্রার ওঠানামার কারণে পোকা দেখা দিতে পারে। তবে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা নিয়মিত তদারকি করছেন।’

তারা আরও বলেন, আক্রান্ত গাছ চিহ্নিত হলে অনুমোদিত কীটনাশক সঠিক মাত্রায় প্রয়োগ করা, আক্রান্ত পাতা হাতে না ধরা এবং আক্রান্ত গাছ পর্যবেক্ষণে রাখা জরুরি। কৃষকদের যেকোনো প্রয়োজনে উপজেলা কৃষি দপ্তরে যোগাযোগের আহ্বান জানান তারা।

স্থানীয় কৃষকেরা দ্রুত মাঠ পর্যায়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরকে সক্রিয় এবং কীটনাশক ও পরামর্শে বিশেষ সহায়তা প্রদানের দাবি করেছেন। তারা বলেন, এখনই ব্যবস্থা না নেওয়া হলে জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় আমন মৌসুম মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে।

 

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ কৃষি সংবাদ
Theme Customized By Shakil IT Park