কৃষি সংবাদ প্রতিবেদক:
বাংলাদেশ পানি আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৭ অনুযায়ী পানি সংকটাপন্ন এলাকার সুষ্ঠু পানি ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে জলাধার বা পানি ধারক স্তরের সুরক্ষার জন্য যথাযথ অনুসন্ধান, পরীক্ষা, নিরীক্ষা ও জরিপের ফলাফলের কিছু অঞ্চলকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পানি সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করেছে।এর আগে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপনও জারি করেছে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিম হাইড্রোলজিক্যাল অঞ্চলের রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ জেলার ২৫টি উপজেলার ৪৭টি ইউনিয়নকে ‘অতি উচ্চ পানি সংকটাপন্ন’, ৪০টি ইউনিয়নকে ‘উচ্চ পানি সংকটাপন্ন’ এবং ৬৬টি ইউনিয়নকে ‘মধ্যম পানি সংকটাপন্ন’ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এ ছাড়া চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া উপজেলার পটিয়া পৌরসভার ৫টি মৌজাকে ‘অতি উচ্চ পানি সংকটাপন্ন’ এবং ৩টি মৌজাকে ‘উচ্চ পানি সংকটাপন্ন’ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। উপজেলার ৩টি ইউনিয়নের ৭টি মৌজা ‘অতি উচ্চ পানি সংকটাপন্ন’, ৯টি ইউনিয়নের ২৭টি মৌজা ‘উচ্চ পানি সংকটাপন্ন’ এবং ৮টি ইউনিয়নের ৩০টি মৌজা ‘মধ্যম পানি সংকটাপন্ন’ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
পানি সংকটাপন্ন এলাকার জন্য প্রতিপালনীয় নির্দেশনাসমূহ-পানি সংকটাপন্ন এলাকায় বাংলাদেশ পানি আইন, ২০২৩-এর ধারা ৩ ও ১৮ অনুযায়ী পানি সম্পদের অগ্রাধিকারভিত্তিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। খাবার পানি ব্যতীত অন্য কোনো কারণে নতুন নলকূপ স্থাপন বা ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন করা যাবে না। বিদ্যমান নলকূপ থেকেও খাবার পানি ছাড়া অন্য কাজে পানি উত্তোলন বন্ধ রাখতে হবে। ভূগর্ভস্থ পানি নির্ভর নতুন শিল্প বা প্রতিষ্ঠান স্থাপন নিষিদ্ধ থাকবে। খাল, বিল, পুকুর, নদীসহ কোনো জলাধারের শ্রেণি পরিবর্তন করা যাবে না এবং এসব জলাশয় জনগণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে। জনগণের ব্যবহারের উপযোগী খাস জলাশয় ও জলমহাল ইজারা প্রদানে নিরুৎসাহিত করতে হবে। জলস্রোতের স্বাভাবিক প্রবাহ কোনোভাবে বিঘ্নিত করা যাবে না। কোনো জলাধারের সমগ্র পানি আহরণ করে নিঃশেষ করা যাবে না। ভূমি ও পানির প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য নষ্ট বা পরিবর্তন করে এমন কোনো কাজ করা যাবে না।
নদী, জলাশয়, লেক বা জলাভূমিতে বসতবাড়ি, শিল্পপ্রতিষ্ঠান বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে অপরিশোধিত তরল ও কঠিন বর্জ্য নির্গমন এবং দূষণ করা যাবে না। অধিক পানি-নির্ভর ফসল উৎপাদন নিরুৎসাহিত করতে হবে এবং পর্যায়ক্রমে পানি-সাশ্রয়ী ফসলের আবাদ বৃদ্ধি করতে হবে। জনগণের সুপেয় পানি ও গৃহস্থালি কাজে পানি ব্যবহারের নিশ্চয়তা বিধানে প্রয়োজনীয় অন্যান্য নির্দেশনা প্রদান করা যেতে পারে। উল্লেখিত নির্দেশনাসমূহ প্রতিপালন করা বাধ্যতামূলক। এসব নির্দেশনা লঙ্ঘন বাংলাদেশ পানি আইন, ২০২৩-এর ধারা ২৯ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ধারার আওতায় দণ্ডনীয় অপরাধ বলে গণ্য হবে।