1. admin@krishisangbad.com : admin :
  2. siddique149096@bsdi-bd.org : md abu bakar siddique rasim : md abu bakar siddique rasim
গবাদি পশুর ঢেকুরে মিথেন গ্যাস !!!! - কৃষি সংবাদ
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে মন্ত্রণালয়ের সাথে আইসিসিসিএডির সমঝোতা স্মারক সই দেশীয় মাছ সংরক্ষণ এবং মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে কাজ করছে সরকার: মৎস্য প্রতিমন্ত্রী প্রান্তিক খামারিদের স্বার্থে কেন্দ্রীয় মুরগি খামারে উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ টুকুর ১১৭ টি ফিড মিলকে নোটিশ করেছে সরকার রাজধানীর সাত স্থানে ককটেল বিষ্ফোরণসহ বাসে আগুন নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার বন্ধের আহ্বান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর ভেজালমুক্ত পণ্য নিশ্চিত করতে ডিজিটাল সেবা বাড়ানোর তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর রফতানিমুখী কৃষিজ পণ্য উৎপাদনে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির তাগিদ টিসিবির জন্য ১০ হাজার টন মসুর ডাল কিনবে সরকার সৌদি আরব থেকে ১৯৪ কোটি টাকার ইউরিয়া আমদানির অনুমোদন

গবাদি পশুর ঢেকুরে মিথেন গ্যাস !!!!

  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৫
  • ২৩৪ বার পঠিত

সুমন ইসলাম :

বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ তাপমাত্রা বৃদ্ধির জন্য দায়ী হচ্ছে গ্রিন হাউস গ্যাস। আর এই গ্যামের মধ্যে অন্যতম হলো মিথেন। বিশ্বে যত মিথেন গ্যাস নির্গত হয় তার ১৫ শতাংশ আসে গবাদিপশু থেকে। আর এই ১৫ শতাংশ গ্যাসের আবার ৪৭-৬৫ শতাংশ আসে ডেইরি সেক্টর থেকে। জলবায়ু ও কৃষি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানাগেছে। বিশেষ করে উন্নত দেশ গুলো এলডিসি (কম ও অনুন্নয়নশীল) দেশ গুলোর উপরে চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে। তবে বাংলাদেশে ডেইরি শিল্পে গবাদি পশুর ঢেকুর, জাবর কাটা, বায়ু ত্যাগ করা, এবং বর্জ্য অব্যবস্থানাই মিথেন গ্যাস নির্গত করছে বলে জানাগেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কৃষি এবং ডেইরি সমান সমান বলা হচ্ছে। তবে ডেইরি সেক্টরে নির্গত হওয়া মিথেন গ্যাসের ৮৯ শতাংশ আসে গরুর ঢেকুর এবং জারবকাটা থেকে বাকি ২১ শতাংশ আসে গবাদি পশুর প্রোসাব, গোবর এবং রোমেন ফমমেশনের মাধ্যমে।

জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (জলবায়ু পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক কনভেনশন) মির্জা শওকত অলী বলেন, আমরা একটি উন্নয়নশীল দেশ। আমাদের এবিষয়ে কারো কাছে জবাবদিহিতা নেই। আমরা বিশ্বের ১৪ তম মিথেন নির্গতকারীদেশ। এর পরিমাণ মাত্র শূন্য দশমিক ৪৮ শতাংশ। তারপরেও আমাদের দেশে ডেইরি সেক্টরে মিথেন ইমিশন হয়ে থাকে গরু যখন জাবর কাটে, মল, মুত্র ত্যাগ করে। তবে লাইভ স্টক সেক্টরে গ্লোবার ইমিশন ফ্যাক্টক ধরে কাজ করা হচ্ছে। কিন্তু সব দেশের গবাদিপশুর সাইজ এক রকম নয়। একারণে কন্ট্রি ইমিশন ফ্যাক্টর নির্ধারণের কাজ চলছে। এর পরেই জানাযাবে এই সেক্টরে কি ধরনের মিথেন গ্যাস নির্গত করছে। তবে গবাদি পশুর মিথেন নির্গত কমাতে খাদ্যে কিছু ফুড সাপ্লিমেন্ট যুক্ত করা হলে মিথেনের পরিমান কমে আসবে বলেও তিনি মনে করেন।

জলবায়ু প্রাণিপুষ্টি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে জানাগেছে, মিখেন গ্যাস বায়ু মন্ডলকে বেশি উতপ্ত করে। আর এটি উদগিরণের পরে এর প্রভাব ১২-২০ বছর পর্যন্ত স্থায়ী হয় আর অপরদিকে কার্বনডাই অক্সাইড বায়ুমন্ডলে থাকে ২০০ থেকে এ হাজার বছর। যে কারণে বায়ুমন্ডল থেকে মিথেন গ্যাসের প্রভার কমাতোর বিশ্ব আজ স্বোচ্ছার।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (এ্যনিমেল নউিট্রিশন বিভাগ) এবং দুগ্ধবতি গাভির দুধ উৎপাদন বৃদ্ধি ও মিথেন প্রশমনে পরিবেশ বান্ধন প্রযুিক্ত উদ্ভাবন বিষয়ক প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল মামুন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে ডেইরি সেক্টরের ভুমিকা রয়েছে। বিশেষ করে মিথেন গ্যাস নির্গমনে। এক্ষেত্রে জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণলেয়ের একটি প্রকল্প চালু হচ্ছে পাবনা ও সিরাজগঞ্জে, যেখানে গরু প্রতি কতোটা মিথেন গ্যাস নির্গত হয় তার ওপরে গবেষণা করা হবে। আমাদের দেশে এখন পর্যন্ত এ ধরণের কোনো কাজ করা হয়নি। শুধু পরিমাণ নির্ধারণই নয়, পাশাপাশি মিথেনের পরিমান হ্রাস করে দুধের উৃৎপাদন বৃদ্ধিকে এই প্রকল্প কাজ করবে। আমাদের এখানে গবাদি পশুকে যা খাওয়ানো হচ্ছে তার কোয়ালিটি ভালো না। একারণে বাড়ছে মিথেন গ্যাস । প্রকল্প এলাকায় গবাদি পশুর খাবারের সঙ্গে অষুধি গাছের মিশ্রন করে খাবার তৈরি করে খাওয়ানো হবে। পাশপাশি দুধের উৎপাদন বৃদ্ধিতে কাজ করা হবে।

এ বিষযে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. আবু সুফিয়ান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনে গ্রিন হাউস গ্যাসের ভুমিকা রয়েছে। তার মধ্যে মিথেন একটি। ডেইরি সেক্টর থেকে কতোটা গ্যাস নির্গত হয়, সে বিষয়ে কোনো তথ্য নেই। এ বিষয়ে আমরা এফএও (জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা) এর সঙ্গে কাজ চলমান রয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে।
তিনি আরো বলেন, খামারিদের মিথেন নির্গত হ্রাসে এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপরে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি প্রাণিদের খ্যাদ্যাভ্যাসেও পরিবর্তনের জন্য পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। বৃদ্ধি করা হচ্ছে সচেতনতা।

এসিআই এ্যাগ্রো বিজনেসেস এর প্রেসিডেন্ট ড. ফা. হ. আনসারি বলেন, উন্নতদেশগুলো এখন মনোযোগ দিয়েছে কার্বন ইমিশন কমানোর দিকে। তীক্ষè দৃষ্টিতে দেখছে গবাদিপশুর খামারকে। বলা হচ্ছে, গবাদি পশুর ঢেঁকুর ও মলমূত্র থেকে মিথেনসহ গ্রিনহাউস গ্যাস তৈরি হচ্ছে। বেশি গরু বেশি গ্যাস নিঃসরণ করবে। তাই বাংলাদেশকে এ ব্যাপারে বিশেষ নজর রাখতে হবে। এক্ষেত্রে দুধ ও মাংসের জন্য অধিক উৎপাদনশীল জাত প্রয়োজন। বিশ্ব এখন কোয়ান্টিটি কমিয়ে কোয়ালিটিসম্পন্ন ইউনিট প্রতি উৎপাদন বৃদ্ধিতে কাজ করছে। দুধের দেশ হিসেবে পরিচিত নিউজিল্যান্ডে গরু মাত্র ৬০ লাখ। এর মাধ্যমে দেশটিদেশটি যে পরিমাণ দুধ উৎপাদন করে তা নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশেও রপ্তানি করছে। এখন সময় হয়েছে বেশি উৎপাদন কম, ইমিশনের দিকে নজর দেয়া।

কৃষি অর্থনীতিবীদ ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনে ডেইরি সেক্টারের ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে মিথেন গ্যাস ইমিশেনে। তবে বাংলাদেশে এ পযৃন্ত খুব একটা গবেষণা হয়নি। কি পারমাণ গ্যাস নির্গত হচ্ছে। তবে মিঘেন গ্যাস তৈরি হয় গবাদি পশুর জাবর কাটয়া, এক্ষেত্রে ফিড ব্যবস্থাপনায় জোর দিতে হবে তবেই কমে আসবে মিথেনের পরিমান।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ কৃষি সংবাদ
Theme Customized By Shakil IT Park