কৃষি সংবাদ প্রতিনিধি, খুলনা:
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থীর সরকারি মৎস্য বীজ উৎপাদন খামার দখলের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন (কুআ), ফিশ ফার্ম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ফোয়াব) এবং বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএফইএ)।
তিন সংগঠনই অবিলম্বে খামারটি দখলমুক্ত করে মৎস্যচাষিদের সেবা পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছে। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন গল্লামারি মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারের কার্যালয় দখল করে ‘শহীদ মীর মুগ্ধ হল’ ব্যানার টাঙিয়ে দেয় কিছু শিক্ষার্থী। তাদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থান সংকট থাকায় দীর্ঘদিন ধরে জায়গাটি অধিগ্রহণের আবেদন করলেও কোনো সাড়া মেলেনি। ফলে তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছেন।
গল্লামারি মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারটি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন মৎস্য অধিদপ্তরের একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান। এখানে রয়েছে ‘খুলনা মৎস্য বীজ উৎপাদন খামার’, ‘উপ-প্রকল্প পরিচালক, সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ প্রজেক্ট’ এবং ‘ফিস হেল্থ ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরি’।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের অভিযোগ, সরকারি সম্পত্তি জবরদখল করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বের করে দিয়ে ভবনটিকে ‘শহীদ মীর মুগ্ধ হল’ ঘোষণা আইন পরিপন্থি। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং মৎস্য অধিদপ্তরের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।
ফিশ ফার্ম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (ফোয়াব) জানিয়েছে, ১৯৫৯ সাল থেকে খামারটি স্থানীয় মৎস্য ও চিংড়ি চাষিদের মানসম্মত পোনা সরবরাহ করে আসছে। এখান থেকে চাষিরা প্রশিক্ষণ, উপকরণ, ওয়ার্কশপ এবং মাছের রোগ নির্ণয়সহ নানা সেবা পান। দখলের কারণে হাজার হাজার চাষি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, মৎস্য উৎপাদন ব্যাহত হবে এবং দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন তাদের বিবৃতিতে বলেছে, এই প্রতিষ্ঠানটি এ অঞ্চলের চিংড়ি ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে, যা দেশের জন্য মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সহায়ক। কর্মচারীদের বের করে দিয়ে অবৈধভাবে দখল করা ‘জুলাই চেতনার সম্পূর্ণ পরিপন্থী’ এবং শহীদদের নাম ব্যবহার করা অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মনে করে সংগঠনটি। তারা বিষয়টি আইনী প্রক্রিয়ায় সমাধান করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, খামারটিতে প্রতি বছর সাড়ে ১৬ হাজার চিংড়ি চাষিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এবং চিংড়ির উৎপাদন বাড়াতে গবেষণা করা হয়।
মো. জাহাঙ্গীর আলম, পরিচালক, মৎস্য অধিদপ্তর, খুলনা বিভাগ বলেন, ‘এই খামারটি হাতছাড়া হলে এ অঞ্চলের চিংড়ি উৎপাদন ও রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।’ তিন সংগঠনই দ্রুত সরকারি খামারটি দখলমুক্ত করার জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছে।