কৃষি সংবাদ প্রতিনিধি গাজীপুর:
চুরি হওয়া গাজীপুর সাফারী পার্কের তিনটি বিপন্ন বন্যপ্রাণী লেমুরের মধ্যে থেকে একটি উদ্ধার হলেও আরো দুটি উদ্ধারে বিভিন্ন জাযগায় অভিযান চলছে। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, শুক্রবার জামালপুর জেলার সদর থানার দড়িহামিপুর আকন্দ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তওসীফকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত আনুমানিক ১১টায় রাজধানী ঢাকার শ্যামবাজারে অভিযান পরিচালনা করে চুরি হওয়া একটি পুরুষ রিংটেইল লেমুর উদ্ধার করা হয়।
ডিবি সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ মার্চ রাত আনুমানিক ১১টা হতে ২৪ মার্চ ভোর সাড়ে ৫ টার মধ্যে গাজীপুর সাফারী পার্কের লামচিতা ঘর-১ নামক বেষ্টনীর জাল কেটে বিশ্বব্যাপী বিপন্ন প্রজাতির দুটি পুরুষ রিংটেইল লেমুর ও একটি স্ত্রী রিংটেইল লেমুর চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সাফারী পার্ক কর্তৃপক্ষের অভিযোগের প্রেক্ষিতে গাজীপুরের শ্রীপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।
ডিবি সূত্রে আরো জানা যায়, বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী ডিবি বিপন্ন প্রজাতির লেমুর চুরির বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত শুরু করে। এরপর সরকারি অন্যান্য দপ্তরের তথ্য-উপাত্তের সহযোগিতায় শুক্রবার জামালপুর জেলার সদর থানাধীন দড়িহামিপুর আকন্দ বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে লেমুর চুরির ঘটনার সাথে জড়িত তওসীফকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত দেলোয়ারকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং অন্যান্য প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে ঢাকার সদরঘাটের শ্যামবাজার মসজিদ সংলগ্ন একটি নির্জনস্থান থেকে খাঁচাবন্দি অবস্থায় রাত ১১টায় পুরুষ রিংটেইল লেমুরটি উদ্ধার করা হয়। ঘটনার বিষয়ে বন অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটকে অবগত করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন। বাকি দুটি লেমুর উদ্ধার ও অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম জানান, গত ২৩ মার্চ দিবাগত রাতে পার্কের বেস্টনির নেট কেটে তিনটি লেমুর চুরি করে দুর্বৃত্তরা। এখনো তার আলামত রয়েছে।
‘আমরা আশপাশে খুঁজেছিলাম, কিন্তু পাইনি। পরে ২৪ তারিখ থানায় জিডি করি। এ ঘটনায় বিভাগীয় বন কর্মকর্তা, বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়,’ বলেন তিনি।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ৫ আগস্টের পরে পার্কে দুইবার চুরি হয়েছে। তার আগেও হয়েছে। পার্কের সীমানা প্রাচীর নিচু, তাই নেট কেটে চুরি করা সহজ। এছাড়া নিরাপত্তা প্রহরী নেই। এছাড়া ৫ আগস্টের পরে সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে ফেলা হয়েছে।
পার্কে বিভিন্ন জাতের এক হাজার ৩০০টির বেশি প্রাণী রয়েছে। যে কোনো সময় অন্য প্রাণী চুরি হতে পারে বলে আশঙ্কা কর্তৃপক্ষের।