1. admin@krishisangbad.com : admin :
  2. siddique149096@bsdi-bd.org : md abu bakar siddique rasim : md abu bakar siddique rasim
দ্বিগুণ আমদানিতেও কমেনি খেজুরের দাম - কৃষি সংবাদ
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৪০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে মন্ত্রণালয়ের সাথে আইসিসিসিএডির সমঝোতা স্মারক সই দেশীয় মাছ সংরক্ষণ এবং মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে কাজ করছে সরকার: মৎস্য প্রতিমন্ত্রী প্রান্তিক খামারিদের স্বার্থে কেন্দ্রীয় মুরগি খামারে উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ টুকুর ১১৭ টি ফিড মিলকে নোটিশ করেছে সরকার রাজধানীর সাত স্থানে ককটেল বিষ্ফোরণসহ বাসে আগুন নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার বন্ধের আহ্বান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর ভেজালমুক্ত পণ্য নিশ্চিত করতে ডিজিটাল সেবা বাড়ানোর তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর রফতানিমুখী কৃষিজ পণ্য উৎপাদনে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির তাগিদ টিসিবির জন্য ১০ হাজার টন মসুর ডাল কিনবে সরকার সৌদি আরব থেকে ১৯৪ কোটি টাকার ইউরিয়া আমদানির অনুমোদন

দ্বিগুণ আমদানিতেও কমেনি খেজুরের দাম

  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
  • ১৬৫ বার পঠিত

কৃষি সংবাদ প্রতিবেদক:

চলতি বছর গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ খেজুর আমদানি করা হলেও সে অনুযায়ী কমেনি দাম। সরকার শুল্কছাড় দেওয়ায় স্বস্তি থাকার কথা দামেও। পাইকারিতে দাম গত বছরের চেয়ে কম হলেও খুব বেশি প্রভাব নেই খুচরা বাজারে। মানভেদে কেজিতে খুচরা ব্যবসায়ীরা লাভ করছেন একশ থেকে পাঁচশ টাকা।

জানাগেছে, আমদানি নির্ভর এই পণ্যটির মূল বাজার চট্টগ্রাম। তবে এই পণ্যটি প্রায় একইদামে নারাদেথেশ বিক্রি হচ্ছে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকেই মীলত এই পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ করা হয়ে থাকে। আমদানিতে সরকার নানা সুবিধা দিলেও সেই সুবিধা পাচ্ছেন না সাধারণ ভোক্তারা। চট্টগ্রাম ও ঢাকার বিভিন্ন জাজার ঘুরে ও কথা বলে এ তথ্য জানাগেছে। আমদানিকারক থেকে পাইকার হয়ে চলে যাচ্ছে খুচরা বিক্রেতাদের হাতে। রমজান সামনে রেখে বিভিন্ন জেলার আড়তদার ব্যবসায়ীরাও খেজুর সংগ্রহ করার জন্য ভিড় করছেন এখানে।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আজওয়া, মরিয়ম, আমবর, মসদুল, সাফাবি, সুপরী, মাসরুখ, মাবরুর, জাইদি, দাব্বাস, নাগাল, লুলু, সাইয়িদী, ফরিদী, রশিদী, কুদরি, মেডজুল, সুক্কারিসহ নানান জাতের ও নামের খেজুর রয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ইরাক, মিশর, জর্ডান, আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ভারত, চায়নাসহ আরও কয়েকটি দেশ থেকে খেজুর আমদানি হয়। আবার অল্প পরিমাণে যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুর, হংকং, মালয়েশিয়া থেকেও খেজুর আনেন শৌখিন ব্যক্তিরা।

ব্যবসায়ীরা জানান, আমদানি করা বেশি দামের খেজুর এক কেজি, দুই কেজি প্যাকেটজাত করেও পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, সৌদি, ইরান, মিশরের খেজুর মানসম্মত, এসব খেজুরের দামও বেশি। বাজারে মধ্যমমানের খেজুর আসে আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া ও ইরাক থেকে।

আমদানিকারক ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের কথার সঙ্গে বাস্তবে মিল নেই। বাইরে শুনছি খেজুরের দাম কমেছে। ফলমন্ডিতে এসে দেখি দাম প্রায় গত বছরের মতোই।- খুচরা ব্যবসায়ী মো. ওমর ফারুক

চট্টগ্রামের ফলমন্ডির ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বছরের চেয়ে এবার মানভেদে কেজিতে একশ টাকা থেকে ৪শ টাকা কমেছে খেজুরের দাম। তবে ফলমন্ডি থেকে খেজুর কিনতে আসা খুচরা ব্যবসায়ীদের বক্তব্য ভিন্ন। ফলমন্ডির পাইকারি ব্যবসায়ী চট্টলা ডেটস শপের স্বত্বাধিকারী নাজমুল হাসান শেয়ান বলেন, সরকার শুল্ক কমানোয় এবার খেজুর আমদানি বেশি হয়েছে। দাম গত বছরের তুলনায় অনেক কম। কিন্তু বাজারে ক্রেতার সংকট রয়েছে।

চট্টগ্রাম ফলমন্ডিতে নাগাল ব্র্যান্ডের ৫ কেজি খেজুর বিক্রি হয়েছে ১৬৫০-১৭৫০ টাকা। একই খেজুর গত বছর দাম ছিল ২২০০-২২৫০ টাকা। বাজারে ৫ কেজির সুক্কারি খেজুর বিক্রি হচ্ছে ১৭৫০-২০০০ টাকায়। গত বছর এসব খেজুরের দাম ছিল ২৩০০-২৪০০ টাকা। সৌদি আরবের ৫ কেজি মাসরুখ খেজুর বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ১৮০০-২৪০০ টাকায়। গত বছর একই খেজুর বিক্রি হয়েছিল ২৮০০-৩০০০ টাকায়। বাজারে আমিরাতের ১০ কেজি নাগাল খেজুর বিক্রি হচ্ছে ২৭০০-২৯০০ টাকায়। গত বছর ১০ কেজির এসব খেজুরের দাম ছিল ৩২০০-৩৫০০ টাকা পর্যন্ত। বাজারে ১০ কেজির ইরাকের জাইদি খেজুর বিক্রি হচ্ছে ১৬৫০-১৭০০ টাকা। একই খেজুর গত বছর বিক্রি হয়েছে ২৫০০ টাকার ওপরে।

আমিরাতের ১০ কেজি দাবাস খেজুর বিক্রি হচ্ছে ৪০০০ টাকায়। এসব খেজুর গত বছর আরও ৫শ টাকা বেশিতে বিক্রি হয়েছিল। পাশাপাশি বস্তায় আমদানি করা ইরাকি খেজুর প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৩০ টাকা। গত বছর একই খেজুরের দাম ৫০-৬০ টাকা বেশি ছিল।

মধ্যমানের খেজুরের মধ্যে আমিরাতের লুলু খেজুর ৫ কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৬০০-৩৭০০ টাকা। আগের বছর একই খেজুরের দাম ছিল ৪২০০-৪৩০০ টাকা। সৌদি আরব থেকে আসা ৫ কেজি ছাফাবি খেজুর বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ২৭০০-৩০০০ টাকা। একই খেজুর গত বছর ৩৭০০ থেকে ৪০০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল।

বাজারে উন্নতমানের খেজুরের মধ্যে সৌদি আরবের মাবরুম অন্যতম। ৫ কেজি প্যাকেটে এসব খেজুর বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার-৫ হাজার টাকায়। একই দামে বাজারে বিক্রি হচ্ছে সৌদিয়ান আজওয়া খেজুরও। একবছর আগেও ২ হাজার-২ হাজার ৫০০ টাকা বেশি ছিল এসব খেজুরের দাম।

তবে পাইকারি বাজার থেকে খুচরা বাজারে নাম ও মানভেদে প্রতিকেজিতে একশ থেকে পাঁচশ টাকা দাম বেশি। বাজার ঘুরে প্রায় সব ধরনের খেজুরের খুচরা দামেই এই পরিমাণ ব্যবধান দেখা যায়। খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশে খেজুরের দাম কমেছে বলা হলেও মিলছে না। খুচরা ব্যবসায়ী মো. ওমর ফারুক বলেন, আমদানিকারক ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের কথার সঙ্গে বাস্তবে মিল নেই। বাইরে শুনছি খেজুরের দাম কমেছে। ফলমন্ডিতে এসে দেখি দাম প্রায় গত বছরের মতোই। খুচরা পর্যায়ে খেজুর বিক্রিতে বেশি দাম নেওয়া হচ্ছে।

চট্টগ্রাম ফল ব্যবসায়ী সমিতির সহ-সাধারণ সম্পাদক এবং ফলমন্ডির ফ্রেশ ফ্রুটস অ্যান্ড ডেটস গ্যালারির পরিচালক রাশেদ কামাল মুন্না বলেন, ‘গত বছরের চেয়ে এবার খেজুরের দাম অনেক কমেছে। ক্ষেত্রবিশেষে প্রতি কেজি খেজুরের দাম ৪-৫শ টাকা পর্যন্ত কমেছে। সরকার শুল্কছাড় দেওয়ার কারণে আমদানিও অনেক বেশি হয়েছে। খুচরা পর্যায়ে খেজুর বিক্রিতে বেশি দাম নেওয়া হচ্ছে। খুচরা পর্যায়ে সরকারি নজরদারি বাড়ানো হলে ভোক্তারা আরও কম দামে খেজুর খেতে পারবেন।

কাস্টম সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের শুরুতে খেজুরের আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়। পাশাপাশি শুল্কায়ন মূল্যও ৮-২৫ শতাংশ কমানো হয়েছে। ফলে এ বছর খেজুরের আমদানি ব্যয় ২০-২৫ শতাংশ কমেছে। এবার খেজুর আমদানিতে বেশ কয়েক স্তরের শুল্কায়ন মূল্য নির্ধারণ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বর্তমানে সর্বনিম্ন স্তরে ৭০ সেন্ট থেকে শুরু করে ৪ ডলারেও খেজুর শুল্কায়ন হচ্ছে, যা গত বছর ছিল এক থেকে চার ডলার পর্যন্ত।

বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ তৌহিদুল আলম বলেন, সরকার শুল্ক কমালেও ডলারের দাম টাকার চেয়ে বেশি হওয়ায় আমদানিতে দামের তেমন হেরফের হয়নি। তবে গত বছরের চেয়ে এবার আমদানি দ্বিগুণ হয়েছে। গত বছর দাম বেশি থাকলেও প্রতি কেজি ৪ ডলারের শুল্কায়ন হওয়ায় আমদানি খরচ বেড়েছিল। যে কারণে ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখেও পড়েছিল।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ কৃষি সংবাদ
Theme Customized By Shakil IT Park