সুমন ইসলাম :
গভীর সমুদ্র থেকে টুনাসহ সমজাতীয় মাছ সংগ্রহ ও গবেষণার জন্য দুটি লং লাইনার জাহাজ সংগ্রহ করতে না পারায় এবার ভাড়ায় আনার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সামুদ্রিক মৎস্য আহরণের লক্ষ্যে টুনা ও টুনা জাতীয় পেলাজিক মাছ আহরণে সক্ষম নৌযান এবার ভাড়ায় আনছে।
প্রকল্প পরিচালকের দপ্তর ও বিশেষজ্ঞরা জানান, টুনার গবেষণায় সহযোগিতা করার জন্য জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) এবং জাপানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল, কিন্তু তারা রাজি হয়নি। এখন ভাড়ায় জাহাজ এনে চলতি মৌসুম (আগস্ট থেকে অক্টোবর) থেকেই কাজ শুরু করতে চাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশের জলসীমায় শুধু মাত্র আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে এ মাছের দেখা মিললেও পরে আর দেখা যায় না। তবে ইদানিং প্রায় সারা বছরেই ছোট সাইজের টুনা পাওয়া যাচ্ছে। সম্প্রতি কুয়াকাটার এক জেলের জালে সাড়ে ১৮ কোজির টুনামাছ ধরা পড়েছে। এতে করে বোঝা যাচ্ছে এ মাছের প্রচুর্যতা গবেষণা এখন সময়ের দাবি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক জলসীমায় মাছ ধরতে লং লাইনার ও পার্সসেইনার ধরনের জাহাজের প্রয়োজন হয়। এ ধরনের জাহাজ বাংলাদেশে নেই। এ বিষয়ে ১৯ টি লং লাইনার জাহাজের অনুমোদন দিলেও কোনো প্রতিষ্ঠান জাহাজ আমদানি বা নির্মাণ করেনি।
‘গভীর সমুদ্রে টুনা মাছ ও সমজাতীয় পেলজিক মাছ আহরণ’ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. জুবায়েদুল আলম বলেন, টুনা মাছ ধরার জাহাজ সংগ্রহে নানা জটিলতা দেখা দেয়ায় ২টি জলযান ক্রয়ের চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। প্রকল্পের কাজ শেষ করার জন্য দুটি জাহাজ ভাড়া নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য প্রকল্পের ডিপিপিতে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার প্রস্তাব গত ২২ জানুযারি পরিকল্পনা কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও এ প্রকল্পর মেয়াদ চলতি বছরের জুনে শেষ হবে। এ কারণে প্রকল্প মেয়াদ আরো দুই বছর বৃদ্ধির আবেদন করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বঙ্গোপসাগরে বিশাল সমুদ্র এলাকার একচ্ছত্র অর্থনৈতিক এলাকার (ইইজেড) জলসম্পদের মালিক হলেও আমাদের এই সীমায় টুনার উপস্থিতি নেই। টুনার জন্য আরো ১৫০ মাইল শ্রীলংকার দিকে গেলে টুনা মাছের দেখা মেলে। তবে আগে দু একটি জাহাজ থেকে বড়শি দিয়ে টুনা মাছ শিকারের তথ্য আসলেও এখন সে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। আর পৃথিরীর কোনো দেশেই টুনা নিয়ে পূণাঙ্গ জরিপ নেই তবে দু একটি দেশের কাছে টুনা কোন কোন আঞ্চলে যাওয়া যায় তার তথ্য রয়েছে।
অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বাংলাদেশের জলসীমার ২০ শতাংশ উপকূলীয়, ৩৫ ভাগ অগভীর সাগর ও ৪৫ ভাগ গভীর সাগর। বঙ্গোপসাগরে ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত বাংলাদেশের জলসীমা। এর পর থেকে আন্তর্জাতিক জলসীমা শুরু, যাকে গভীর সাগর হিসেবেও বিবেচনা করা হয়ে থাকে। বাংলাদেশের জাহাজগুলো আন্তর্জাতিক জলসীমায় গিয়ে মাছ ধরে না।
মেরিন ফিশারিজ অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ২৩০টি জাহাজ বঙ্গোপসাগরে মৎস আহরণ করে। গভীর সমুদ্রে নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত মিলিয়ে প্রায় ৬৭ হাজার মাছ ধরার নৌকা রয়েছে। এছাড়া বঙ্গোপসাগরে সামুদ্রিক সম্পদের অনুসন্ধান পরিচালনায় কাজ করছে মালয়েশিয়া থেকে আনা গবেষণা জাহাজ আরভি মিন সন্ধানি।