কৃষি সংবাদ প্রতিবেদক:
মাংসে ভরপুর কিংবা উন্নতমানের মুরগি যতই বাজারে সহজলভ্য হোকনা কেন, বাঙ্গালী খোঁজে দেশি স্বাদের মুরগি। বাজারে দেশীমুরগি বলে যে মুরগিগুলো বিক্রি হচ্ছে তার বেশিরভাগই হয় ‘কালারবার্ড’ নয়তো ‘সোনালীমুরগি’।
ক্রমাগতইন-ব্রিডিং এর কারণে সোনালী মুরগিতে রোগজীবানুর সংক্রমণ বেশি; তাই চিকিৎসা খরচও অত্যধিক। মূলত: সে কারণেই খামারিরা এখন কালার মুরগি পালনে অধিক আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। এ মুরগি পালনে ঝুঁকি কম, গ্রোথ বেশি, মাংসও দেশী মুরগিরমতই সুস্বাদু।
আজ রাজধানির একটি হোটেলে কালার মুরগির প্রিমিয়াম গ্রান্ডপ্যারেন্টস্টক (জিপি) -এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়।
প্যারাগন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মসিউর রহমান বলেন, এদেশের ভোক্তাদের চাহিদা মেটাতে এতদিন আমরা বিদেশ থেকে কালার মুরগির প্যারেন্টস্টক বা পিএস বাচ্চা আমদানিকরতাম। এজন্য ঋণপত্র খোলা, উচ্চমূল্যে ডলার ক্রয়, উৎপাদনকারি দেশ থেকে বিমানে করে বাংলাদেশে একদিনবয়সী পিএস বাচ্চাগুলো আনা, মরটালিটি- এ রকম অসংখ্য ঝুঁকিছিল। কিন্তু এখন দেশীয় ব্রিডার ফার্মগুলো কোন রকম ঝামেলা ছাড়াই সুলভমূল্যে দেশের ভেতরেই কালারপিএস বাচ্চা ক্রয় করতে পারবেন। এতে বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে। উদ্যোক্তা ও খামারিরা যেমন লাভবান হবেন,্ তেমনি ভোক্তারাও কম দামে দেশি মুরগির স্বাদ নিতে পারবেন।
হাববার্ড এসএএস এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক অলিভার রোচার্ড বলেন, বহুবছরের জেনেটিক সিলেকশন ও গবেষণার ফল হচ্ছে হাইব্রিড জাতের ‘প্রিমিয়াম কালার জিপি, যা উৎপাদন করেছে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় পোল্ট্রি ব্রিডিং কোম্পানী‘ হাববার্ড’। হাব্বার্ডের প্রিমিয়াম কালার জিপি, পিএস ও কর্মাশিয়াল বার্ডের পারফরমেন্স খুবই ভাল। সর্বোচ্চ প্রোডাকটিভিটি ও হ্যাচিবিলিটি; বাংলাদেশের আবহাওয়ার সাথেও অত্যন্ত মানানসই। তিনি বলেন, ব্রয়লার, লেয়ার ও কালার মুরগিরজাতকে আরও উন্নত করার জন্য আমাদের গবেষকগণ নিরলসভাবে কাজ করছেন। সারাপৃথিবীর মানুষের জন্যনিরাপদ ও মানসম্মত ডিম ও মুরগির মাংস উৎপাদনে আমরা বদ্ধপরিকর।
প্যারাগন গ্রুপেরপক্ষ থেকে জানানো হয়-বাংলাদেশের ভোক্তাদের মাঝে ইতোমধ্যেই এ জাতের মুরগির ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। আগামীতে কালার মুরগি সোনালি জাতের মুরগির জায়গা দখল করবে বলে আমাদের ধারণা। তাই বলা যেতে পারে কালার মুরগিই আগামীর ভবিষ্যত। এর আগে হাব্বার্ডের লেয়ারজিপি (নভোজেন) ও ব্রয়লারজিপি বাংলাদেশে এনেছে প্যারাগন। এ উদ্যোগের ফলে দেশে পোল্ট্রি মুরগি ও ডিমের উৎপাদন বহুগুণে বেড়েছে।