1. admin@krishisangbad.com : admin :
  2. siddique149096@bsdi-bd.org : md abu bakar siddique rasim : md abu bakar siddique rasim
প্রাণিসম্পদের অবদান: নারীর ক্ষমতায়ন বাড়ছে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীতে - কৃষি সংবাদ
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে মন্ত্রণালয়ের সাথে আইসিসিসিএডির সমঝোতা স্মারক সই দেশীয় মাছ সংরক্ষণ এবং মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে কাজ করছে সরকার: মৎস্য প্রতিমন্ত্রী প্রান্তিক খামারিদের স্বার্থে কেন্দ্রীয় মুরগি খামারে উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ টুকুর ১১৭ টি ফিড মিলকে নোটিশ করেছে সরকার রাজধানীর সাত স্থানে ককটেল বিষ্ফোরণসহ বাসে আগুন নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার বন্ধের আহ্বান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর ভেজালমুক্ত পণ্য নিশ্চিত করতে ডিজিটাল সেবা বাড়ানোর তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর রফতানিমুখী কৃষিজ পণ্য উৎপাদনে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির তাগিদ টিসিবির জন্য ১০ হাজার টন মসুর ডাল কিনবে সরকার সৌদি আরব থেকে ১৯৪ কোটি টাকার ইউরিয়া আমদানির অনুমোদন

প্রাণিসম্পদের অবদান: নারীর ক্ষমতায়ন বাড়ছে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীতে

  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
  • ৩০১ বার পঠিত

সুমন ইসলাম :

সমতলে বসবাসকরী মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পিছিয়ে রয়েছে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী। অবহেলিত এসব মানুষকে স্বাবলম্বী করার মাধ্যমে সমাজে নারীর ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের ২৯টি জেলার ২১০টি উপজেলার ১ লাখ ৩৭ হাজার ৯৭১ পরিবারের মধ্যে বকনা, ষাঁড়, ভেড়া এবং হাঁস-মুরগি বিতরণের কাজ চলছে। গত পাঁচ বছর ধরে বাস্তবায়ন হওয়া সরকারের ‘সমতল ভূমিতে বসবাসরত অনগ্রসর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক ও জীবন মানোন্নয়নের লক্ষ্যে সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন (দ্বিতীয় সংশোধিত)’ প্রকল্পের সহায়তা নিয়ে অনেকেই আজ সফল হয়েছেন। সমাজে এখন তাদের বেড়েছে সম্মান ও প্রতিপত্তি। বিশেষ করে পরিবার ও সমাজে বেড়েছে নারীর ক্ষমতায়ন।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশে বসবাসরত ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী জনসংখ্যার প্রায় ৪২ শতাংশের বসবাস পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে এবং বাকি ৫৮ শতাংশ লোক বাস করে সমতল ভূমিতে। পাহাড়ি এলাকায় বসবাসরত ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা। পক্ষান্তরে সমতলে বসবাসরত নৃ-গোষ্ঠীর মধ্যে সাঁওতাল, ওঁরাও, বর্মন, খাসি, গারো ইত্যাদি অন্যতম। দারিদ্র্যতার সাথে সাথে সমতলের আদিবাসীদের দুই-তৃতীয়াংশ ভূমিহীন তার মধ্যে সাঁওতাল, মাহাতো, পাহান প্রভৃতি জনগোষ্ঠীসমূহে ৯৩ ভাগেরও বেশি ভূমিহীন। পশ্চাৎপদ এ অনুন্নত জনগোষ্ঠীর সুষম উন্নয়নের লক্ষ্যে, দেশের সার্বিক উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে এবং দ্রুত তাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার পরিবর্তনে ইতিবাচক ভূমিকা পালনে কাজ করছে এ প্রকল্প।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ান বলেন, এই প্রকল্পটি প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পের একটি। ‘সমতল ভূমিতে বসবাসরত অনগ্রসর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক ও জীবন মানোন্নয়নের লক্ষ্যে সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন (দ্বিতীয় সংশোধিত)’ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের অনগ্রসর জাতির উন্নয়ন ও নারীর ক্ষমতায়নে কাজ করছে। অবহেলিত এসব মানুষকে নিজেদের পুষ্টির চাহিদা পূরণসহ স্বাবলম্বী করার জন্য বকনা, ষাঁড়, ভেড়া এবং হাঁস-মুরগি বিতরণ করা হয়েছে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের এ সহায়তা নিয়ে অনেকে আবার খামার ও গড়ে তুলেছেন। পরিকল্পনা কমিশনের এই প্রকল্প নিয়ে মধ্যবর্তী প্রতিবেদন সন্তোষজনক বলে মতামত দিয়েছে। এটি সমতলের ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এছাড়াও প্রাণিসম্পদের উন্নয়ন ও উৎপাদন অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি মনে করেন।

সম্প্রতি গাজীপুর সদর, সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, সিলেটের জৈন্তাপুর এবং টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার সুবিধাভোগীদের সঙ্গে সরেজমিন কথা বলে জানা গেছে, আগে তারা তাদের সন্তানদের লেখাপড়া করাতে অন্যের কাছে হাত পাততে হতো এখন তারা তাদের খামারের উৎপাদিত ডিম, দুধ, হাঁস, মুরগি ও ভেড়া বাজারে বিক্রি করে নিজেদের প্রয়োজন মিটাতে পারছেন। বিশেষ করে নারীরা তাদের স্বামীর সহায়তা ছাড়াই স্বাবলম্বী হয়েছেন। চালাচ্ছেন সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ। আবার অনেকে গবাদিপশু বিক্রি করে ঘরের চালও মেরামত করেছেন। সমাজে আগে যারা তাদের তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করত এখন তারা তাদের সম্মান করে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও নিমন্ত্রণ পেয়ে থাকেন।

গাজীপুর জেলার কুইচামারা বর্ণগ্রামের বিধবা মেঘমালা বলেন, চার বছর আগে একটি বকনা দিয়ে এখন তার চারটি গরু হয়েছে। প্রতিদিন তিন কেজি দুধ পান। এ টাকা দিয়ে তিনি নিজের চিকিৎসা এবং নাতি-নাতনির স্কুলের খরচ চালান। তিনি আশা করেন, ভবিষ্যতে গরুর খামার করবেন। নাতি চাকরি-বাকরি না পেলে তাকে এই খামারের দায়িত্ব দেবেন।

গাজীপুর জেলার রুদ্রপুরের আরতি চন্দ্র বর্মণ বলেন, সরকার চার বছর আগে তাতে দুটি ভেড়া-ভেড়ি দিয়েছিল। চার বছরের ব্যবধানে এখন তার ১৬টি ভেড়া হয়েছে। দুটি ভেড়া ১৮ হাজার টাকায় বিক্রি করে ঘরের চাল মেরামত করেছেন। এখন তিনি আগের চেয়ে ভালো আছেন। আগে যারা তাদের পরিবারকে কোনো অনুষ্ঠানে রাখতে চাইত না এখন তারা সবাই তাদের পরিবারকে ভালোবাসে ও আদর করে। অনেকে তার কাছ থেকে ভেড়াও নিতে চাচ্ছেন। বৃদ্ধ বয়সে এখন তার সময় ভালো কাটছে। তিনি আরো বড় খামার করতে চান যদি সরকার কিছু টাকা পয়সা দিয়ে সাহায্য করে।

টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর উপজেলা বিতরণ কমিটি কর্তৃক টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার গায়রাবেতীল গ্রামের কোচ সম্প্রদায়ের শ্রীমতি রীনা রানী বলেন, টাঙ্গাইলের প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে উন্নত জাতের বকনা পেয়েছিলেন ২০২০ সালে। সেই সময়ে কিছু দানাদার খাবার এবং ঘর তোলার পিলার ও টিন পেয়েছিলেন। বর্তমানে ২টি বাচ্চাসহ তিনটি গরু। গাভীটি বর্তমান গড়ে ৪.৫০ লিটার দুধ দিচ্ছে। কিছুটা নিজের জন্য রেখে বাকিটা ৭০ টাকা লিটার দরে বিক্রি করেন। দৈনিক ৮০ টাকা খরচ হয়ে থাকে। দৈনিক ২০০ টাকা থাকে। তার গাভী ও বাছুরসহ দাম প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার টাকা। বাকি টাকা দিয়ে স্বামীর চিকিৎসা ব্যয় ও ছেলের স্কুলের বেতন দিয়ে থাকেন।

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার কাইতলা গ্রামের কোচ সম্প্রদায়ের শ্রীমতি অতুলা বালা বলেন, ভেড়া প্যাকেজের আওতায় ২টি করে ভেড়া, খাবার ও ঘর তৈরির উপকরণ পেয়েছিলেন। এখন তার চারটি ভেড়া রয়েছে। একটি ভেড়ি এখন গর্ভবতী। এক মাসের মধ্যে ভগবান চাইলে আরো দুটি বাচ্চা পাবো। তিনি একটি ভেড়ার খামারের স্বপ্ন দেখছেন।

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপেজলার গুল্টা গ্রামের যেরম কুজুর বলেন, তিনি ছোট একটা ষাঁড় বাছুর পেয়েছিলেন। এখন এটি বেশ বড় হযেছে। আগামী ঈদের সময়ে এটি বিক্রি করে আরো গরু কিনবেন। গড়ে তুলবেন গরুর খামার।

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপেজলার গুল্টা গ্রামের নয়নঞ্জলী রানী ওঁরাও বলেন, ২০টি হাঁস থেকে এখন আমার ৪৪টি হাঁস হয়েছে। নিজেদের প্রয়োজন মিটিয়ে ডিম বাজারে বিক্রি করছি। এত আমার অভাব মিটেছে। তার সন্তান এখন সরকারি একটি কলেজে লেখাপড়া করছেন।

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার খাসিয়া সম্প্রদায়ের সুসজ্জিত রম্বাই বলেন, সরকার আমাকে ২০টি হাঁস দিয়েছিল। কিছু খাবার ও ঘর দিয়েছিল। কিন্তু এখন আমার ৫০টি হাঁস হয়েছে। হাঁস ও ডিম বিক্রি করে হাঁসের জন্য বড় ঘর তৈরি করেছি। প্রতিদিন গড়ে ১০-১৫টি ডিম পাচ্ছি। এই খামার আরও বড় করবো। যা দেখে আমাদের অনেকে হাঁস পালনে উৎসাহিত হয়।

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার গারো সম্প্রদায়ের কনিকা ঘাগ্রা বলেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সহায়তা নিয়ে আজ আমার দুটি গরু হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে সাড়ে তিন কেজি করে দুধ পাচ্ছি। আধাকেজি আমার সন্তাদের জন্য রাখি বাকি তিন কেজি দুধ বিক্রি করি। সত্তর টাকা করে প্রতি কেজি দুধ আমার বাড়িতে এসে গোয়ালা নিয়ে যায়। এতে কম বেশি ২০০ টাকা আয় হয়। অন্যান্য খরচ বাদ দিয়ে আমি মাসে সাড়ে চার হাজার টাকা আয় করি। এই টাকা দিয়ে সন্তান ও পরিবারের সদস্যদের জন্য খাবার কিনে থাকি। লেখাপড়ার খরচও চলে। সমাজ এখন আমাদের অন্য চোখে দেখতে শুরু করেছে। গরু বিক্রির প্রশ্নে তিনি বলেন, আমি কোনো গরু বিক্রি করব না ইচ্ছে আছে একটি বড় খামার করার।

প্রকল্প পরিচালক ডা. অসীম কুমার দাস বলেন, বিগত ৫ অর্থবছরে ২৯ জেলার ১ লাখ ৩৭ হাজার ৯৭১ জন সুফলভোগী নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে, ৬ হাজার ৯১৪টি পরিবারের প্রতিটিকে ১টি উন্নত জাতের ক্রসব্রিড বকনা ও ৭০০০ টাকা মূল্যের অস্থায়ী বাসস্থান নির্মাণ উপকরণ এবং ২২৫ কেজি দানাদার খাদ্য বিতরণ করা হয়েছে। ২৩ হাজার ২৪৬টি সুফলভোগী পরিবারের প্রতিটিকে ২০টি করে ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৯২০টি মুরগি বিতরণ ও ৯ কেজি করে দানাদার খাদ্য বিতরণ করা হয়েছে, ২৯ হাজার ১৭৫টি পরিবারের মধ্যে মুরগির শেড বিতরণ, ২৯ হাজার ৯৮৩ সুফলভোগী পরিবারের প্রতিটিকে ২০টি করে ৫ লাখ ৯৯ হাজার ৬৬০টি হাঁস ও ৯ কেজি করে দানাদার খাদ্য, ২৯ হাজার ৯৮৩টি পরিবারের মধ্যে হাঁসের শেড, ২৬ হাজার ৩৩৬ সুফলভোগী পরিবারের প্রতিটিকে ২টি করে ভেড়া বিতরণ, স্থায়ী বাসস্থান নির্মাণে ৫০০০ টাকা করে অনুদানসহ ২৭ কেজি দানাদার খাদ্য বিতরণ করা হয়েছে। ৪ হাজার ৫৫৮টি সুফলভোগী পরিবারে ১টি করে হৃষ্টপুষ্টকরণ গরু ও ৭০০০ টাকা এবং ২৭০ কেজি করে দানাদার খাদ্য দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ৭৭ হাজার ৮৬০ জন সুফলভোগীদের প্রশিক্ষণ, ২ লাখ ৪৭১০টি লিফলেট ও বুকলেট বিতরণ। ফিল্ড ফেসিলিটেটরদের মাঝে ২১০টি বাইসাইকেল ও ২১০টি কুলবক্স বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলা ভিত্তিক ৮২ জন সুফলভোগীদের মাধ্যমে ঘাস চাষ প্লট স্থাপন এবং ৮২টি অস্থায়ী ঘাসের বাজার স্থাপন করা হয়েছে।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ কৃষি সংবাদ
Theme Customized By Shakil IT Park