1. admin@krishisangbad.com : admin :
  2. siddique149096@bsdi-bd.org : md abu bakar siddique rasim : md abu bakar siddique rasim
পেস্টিসাইড ব্যবহারে পেঁয়াজ চাষে মুজিবনগরের কৃষকদের কান্না - কৃষি সংবাদ
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে মন্ত্রণালয়ের সাথে আইসিসিসিএডির সমঝোতা স্মারক সই দেশীয় মাছ সংরক্ষণ এবং মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে কাজ করছে সরকার: মৎস্য প্রতিমন্ত্রী প্রান্তিক খামারিদের স্বার্থে কেন্দ্রীয় মুরগি খামারে উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ টুকুর ১১৭ টি ফিড মিলকে নোটিশ করেছে সরকার রাজধানীর সাত স্থানে ককটেল বিষ্ফোরণসহ বাসে আগুন নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার বন্ধের আহ্বান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর ভেজালমুক্ত পণ্য নিশ্চিত করতে ডিজিটাল সেবা বাড়ানোর তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর রফতানিমুখী কৃষিজ পণ্য উৎপাদনে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির তাগিদ টিসিবির জন্য ১০ হাজার টন মসুর ডাল কিনবে সরকার সৌদি আরব থেকে ১৯৪ কোটি টাকার ইউরিয়া আমদানির অনুমোদন

পেস্টিসাইড ব্যবহারে পেঁয়াজ চাষে মুজিবনগরের কৃষকদের কান্না

  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৫
  • ১১৩ বার পঠিত

কৃষি সংবাদ প্রতিনিধি মেহেরপুর:

শুখসাগর পেঁয়াজ এবার দুঃখের হাতছানি দিচ্ছে মুজিবনগরের কৃষকদের। মানহীন কোম্পানি “মার্সাল এগ্রোভেট কেমিক্যাল ইন্ড্রাস্ট্রিজ লিমিটেডের নিম্নমানের য়োকরাল নামক বালাইনাশক (পেস্টিসাইড) পেঁয়াজ ক্ষেতে ব্যবহার করে পথে বসতে যাচ্ছেন উপজেলার অর্ধশতাধিক চাষি।

পাঁচ/ছয়দিন আগে কৃষকরা স্থানীয় সার কীটনাশক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে য়োকরাল নামক এই ছত্রাকনাশক (পেস্টিসাইড) কিনে তাদের জমির উঠতি পেঁয়াজের পচন রোধে ব্যবহার করেছিলেন।

সম্প্রতি সরেজমিনে মুজিবনগরের নাজিরাকোনা গ্রামের নাগার মাঠসহ এলাকার বিভিন্ন মাঠে গিয়ে দেখা গেছে, এলাকার প্রায় অর্ধাশতাধিক কৃষকের পেঁয়াজ গাছ জমিতে নুয়ে পড়েছে। পেঁয়াজের কলি হলুদ হয়ে চুপসে যাচ্ছে। ডগা শুকিয়ে লুটিয়ে পড়ছে মাটিতে। পাশের জমির পেঁয়াজ গাছ বড় হয়ে গেলেও আক্রান্ত জমির পেঁয়াজ মাটির সঙ্গে নুয়ে রয়েছে।

এবারের শীত মৌসুমে এমন পরিস্থিতিতে পড়েছেন মুজিবনগর উপজেলার নাজিরাকোনা, শিবপুর, ভবরপাড়া, কেদারগঞ্জ, মানিকনগর গ্রামের অর্ধ শতাধিক কৃষক।

তাদের অভিযোগ, স্থানীয় ব্যবসায়ীদের পরামর্শে পেঁয়াজের ছত্রাকজনিত রোগ থেকে বাঁচতে “মার্সাল এগ্রোভেট কেমিক্যাল ইন্ড্রাস্ট্রিজ লিমিটেডের নিম্নমানের য়োকরাল নামক বালাইনাশক (পেস্টিসাইড) প্রয়োগের পরেই এ অবস্থা হয়েছে পেঁয়াজ ক্ষেতের।

স্থানীয় কৃষকের মতে, প্রায় অর্ধশত বিঘা জমির পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হতে পারে।

মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার নাজিরাকোনা গ্রামের পেঁয়াজ চাষি আবুল হোসেন জানান, বর্গা নেওয়া এক বিঘা জমিতে চাষ করছেন পেঁয়াজের। জানুয়ারি মাসের শুরুর দিকে পেঁয়াজ ক্ষেত ছত্রাকজনিত রোগ থেকে বাঁচাতে স্থানীয় ব্যবসায়ীর পরামর্শে “মার্সাল এগ্রোভেট কেমিক্যাল ইন্ড্রাস্ট্রিজ লিমিটেডের য়োকরাল নামক বালাইনাশক (পেস্টিসাইড) প্রয়োগ করেন। এর পর থেকেই পেঁয়াজের গাছ হলুদ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ছে। এমন অবস্থায় অসহায় হয়ে পড়েছেন তিনি।

তিনি জানান, ইতোমধ্যে তার ৮০/৯০ হাজার টাকা খরচ হয়ে গেছে। ধার দেনা করে এক বিঘা জমিতে পেঁয়াজের চাষ করেছেন তিনি। পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় চরম বিপদের মধ্যে আছেন। পেঁয়াজ বিক্রি করে এ বছর তার প্রায় আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা হতো বলে জানান তিনি।

এ বছর নাজিরাকোনা গ্রামের আফর আলী এক বিঘা জমিতে, আব্দুল আলীমের এক বিঘা, হাফিজুল ইসলামের এক বিঘা, অ্যাডভোকেট আব্দুল আলীমের এক বিঘা, শহিদুল ইসলামের এক বিঘা, জনি মণ্ডলের ৫ বিঘা জমির পেঁয়াজের মধ্যে ২ বিঘা জমিসহ এই গ্রামের প্রায় ১৫ জন কৃষকের প্রায় ৩০ বিঘা জমিতে এই ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করে সব পেঁয়াজ ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে।

শিবপুর গ্রামের কৃষক হিরন আলী বলেন, আমি প্রতি বছরই পেঁয়াজের চাষ করি। এ বছরও আমি তিন বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছি। এছাড়া আমার ভাই হাফিজুল ইসলামেরও তিন বিঘা এবং রকিবুল সর্দারের এক বিঘা জমির পেঁয়াজ ক্ষেতে এই কীটনাশকটি ব্যবহার করেছিলাম। আমাদের মাঠে আরও বেশ কয়েকজন পেঁয়াজ চাষির ক্ষেতে এই কীটনাশকটি স্প্রে করে পেঁয়াজের চারা এখন ধুঁকে ধুঁকে মরছে।

নাজিরাকোনা গ্রামের সার ও কীটনাশক ব্যবসায়ী আব্দুল জুব্বার জানান, মার্সাল এগ্রোভেট কেমিক্যাল ইন্ড্রাস্ট্রিজ লিমিটেডের য়োকরাল ব্যবহারের পর এ রকম অভিযোগ আসছে সব জায়গা থেকে। ইতোমধ্যে, ওই কোম্পানির স্থানীয় ডিলার ও কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মাঠে এসে কৃষকদের ফসলের নমুনা সংগ্রহ করেছেন। তারা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

কীটনাশক ব্যবসায়ী ও মার্সাল এগ্রোভেট কেমিক্যাল ইন্ড্রাস্ট্রিজ লিমিটেডের ডিলার দানা মেম্বর বলেন, শীতের সময় পেঁয়াজ ক্ষেতে ছত্রাকের আক্রমণ বাড়ে। তাই আমার কাছে যারা কীটনাশক নিতে আসেন, তাদের “মার্সাল এগ্রোভেট কেমিক্যাল ইন্ড্রাস্ট্রিজ লিমিটেডের য়োকরাল নামক কীটনাশক দেই। তবে যাদেরই ওই কীটনাশক দিয়েছি, তাদেরই ক্ষেতে সমস্যা হয়েছে। আমি কোম্পানির প্রতিনিধিকে জানাইছি। তারা এসে ওই কীটনাশক নিয়ে গেছে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য।

“মার্সাল এগ্রোভেট কেমিক্যাল ইন্ড্রাস্ট্রিজ লিমিটেডের টেরিটরি অফিসার আসাদুল ইসলাম বলেন, এখন পর্যন্ত আমার কাছে এলাকার ২০ জন কৃষক তাদের ৩৩ বিঘা জমির পেঁয়াজ ক্ষেত নষ্ট হয়েছে বলে অভিযোগ দিয়েছেন। আমি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানালে কোম্পানির প্রধান কার্যালয় থেকে কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পেঁয়াজ চাষিদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং পেঁয়াজের স্যাম্পল পরীক্ষার জন্য নিয়ে গেছেন।
কৃষি কর্মকর্তা ডিডি বিজয় কৃষ্ণ হালদার বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। আমাদের কাছে কৃষকেরা অভিযোগ করেনি। এসময় তিনি এ প্রতিবেদককে উল্টো প্রশ্ন করেন- কৃষকরা কার পরামর্শে এসব কীটনাশক জমিতে প্রয়োগ করেন আমাকে বলতে পারেন?

কীটনাশকের দোকান পরিদর্শন করে মাসে অন্তত দুটি নমুনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইংয়ে (প্লান্ট প্রটেকশন) পাঠানোর কথা সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তাদের, এটা পাঠানো হয় কিনা। এমন প্রশ্ন করা হলে- তিনি বলেন, এটা উপজেলা কৃষি অফিসের দায়িত্ব আমার না। উপজেলা কৃষি অফিসার আপনার আয়ত্বের মধ্যে পড়ে কিনা প্রশ্ন করা হলে তিনি প্রতিবেদকের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, এ ধরনের প্রশ্ন করলে আমার সঙ্গে কথা বলবেন না। বলেই কলটি কেটে দেন এই কৃষি কর্মকর্তা।

এদিকে হাতে গোনা কয়েকটি কীটনাশক কোম্পানি ছাড়া অধিকাংশ মানহীন বালাইনাশকের (পেস্টিসাইড) কারণে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন এলাকার কৃষকরা। আবার ডিলারনির্ভর ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত মুনাফার আশায় মানহীন বালাইনাশক (পেস্টিসাইড) ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে কৃষকদের মাঝে বিপণন করছেন।

দোকান পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তাকে মাসে অন্তত দুটি নমুনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইংয়ে (প্লান্ট প্রটেকশন) পাঠানোর কথা বলা হলেও সে নিয়মের পথে হাঁটছেন না কৃষি অফিস।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ কৃষি সংবাদ
Theme Customized By Shakil IT Park