সুমন ইসলাম :
গেলো বছর রমজানে প্রান্তিক মানুষের জন্য ন্যায্যমূল্যে মাছ, মাংস, দুধ, ডিম বিক্রি করেছিল সরকার। কিন্তু সরকারি খামার থেকে ব্রাহমাসহ ৪২০ টি গরু সরবরাহ ও বিক্রি নিয়ে জটিলতা হয়েছে। যা মামলা পর্যন্ত গড়িয়েছে। এ কারণে চলতি বছর আসন্ন রমজানে মাংস সরবরাহ নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এ অনিশ্চয়তা লাগবে এগিয়ে এসেছে প্রান্তিক খামারিদের সংগঠন বাংলাদেশ ডেইরী এন্ড ফ্যাটেনিং ফার্মার্স এসোসিয়েশন (বিডিএফএফএ)।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে রমজানে প্রতিদিন ১০০০ কেজি গরুর মাংস সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ে প্রয়োজনীয় অনুমোদনের কাজ চলছে বলে জাানগেছে।
এবিষয়ে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে মহাপরিচালক ড. মোঃ আবু সুফিয়ান বলেন, গত বছরের মাংস বিক্রি নিয়ে কিছুটা সমস্যা হলেও মাংস বিক্রি করার জন্য মন্ত্রনালয় থেকে আমরা স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে কাজ করছি। এখনও সময় আছে। তিনি আশা করেন, হয়তো চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করা সম্ভব না হলেও স্বল্প পরিমাণে বিক্রির সুযোগ তৈরি হবে। এছাড়াও আমরা আসন্ন রমজানে রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় দুধ, ডিম, পোলট্রি মাংস বিক্রি করবো। তবে প্রয়োজনীয় মাংস সরবরাহে আমরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলছি।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ডেইরী এন্ড ফ্যাটেনিং ফার্মার্স এসোসিয়েশনের (বিডিএফএফএ) সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আসন্ন রমজানের প্রস্তুতি নিয়ে আমরা মন্ত্রনালয়ে বৈঠক করেছি। বৈঠকে আমরা প্রান্তিক খামারিদের মাধ্যমে গরু ও খাসির মাংস এবং দুধ সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছি। তিনি আশা করেন, সরকারি সাপোর্ট পেলে প্রয়োজনীয় মাংস ও দুধ সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
তিনি আরো বলেন, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির কথা বিবেচনায় নিয়ে আসন্ন রমজানে প্রান্তিক মানুষের জন্য ন্যায্যমূল্যে মাংস, দুধ, ডিম বিক্রির উদ্যোগ নেবেন তারা। সরকার সঙ্গে থাকলে ভালো হবে। না থাকলে তারা তাদের মতো করে কাজ করবেন। ইতোমধ্যে তারা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও কথা বলেছেন। প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিয়েই মাংস, দুধ, ডিম বিক্রি করবেন তারা।
প্রস্তাব অনুযায়ী বিডিএফএফএ-এর পক্ষ থেকে প্রতিদিন প্রাথমিকভাবে ১০০০ কেজি গরুর মাংস, ১০০ কেজি খাসির মাংস এবং ১০০০ লিটার দুধ সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিডিএফএফএ।