1. admin@krishisangbad.com : admin :
  2. siddique149096@bsdi-bd.org : md abu bakar siddique rasim : md abu bakar siddique rasim
কৃষি শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষাসহ বৈষম্যমুক্ত শ্রম আইনের দাবি: বিএএফএলএফ - কৃষি সংবাদ
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে মন্ত্রণালয়ের সাথে আইসিসিসিএডির সমঝোতা স্মারক সই দেশীয় মাছ সংরক্ষণ এবং মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে কাজ করছে সরকার: মৎস্য প্রতিমন্ত্রী প্রান্তিক খামারিদের স্বার্থে কেন্দ্রীয় মুরগি খামারে উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ টুকুর ১১৭ টি ফিড মিলকে নোটিশ করেছে সরকার রাজধানীর সাত স্থানে ককটেল বিষ্ফোরণসহ বাসে আগুন নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার বন্ধের আহ্বান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর ভেজালমুক্ত পণ্য নিশ্চিত করতে ডিজিটাল সেবা বাড়ানোর তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর রফতানিমুখী কৃষিজ পণ্য উৎপাদনে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির তাগিদ টিসিবির জন্য ১০ হাজার টন মসুর ডাল কিনবে সরকার সৌদি আরব থেকে ১৯৪ কোটি টাকার ইউরিয়া আমদানির অনুমোদন

কৃষি শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষাসহ বৈষম্যমুক্ত শ্রম আইনের দাবি: বিএএফএলএফ

  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৪
  • ৩৪১ বার পঠিত

কৃষি সংবাদ ডেস্ক:

কৃষি ও অনানুষ্ঠানিক শ্রমিকদের আইনি সুরক্ষাসহ বৈষম্যমুক্ত শ্রম আইনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ কৃষি ফার্ম শ্রমিক ফেডারেশন (বিএএফএলএফ)। গতকাল সংগঠনের পক্ষ থেকে এই প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়েছে। যেটি সরকারের কাছে আশু বস্তবায়নের জন্য হস্তান্তর করা হয়েছে শ্রম সংস্কার কমিশনের কমিশন প্রধান সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ এর কাছে।

পাঠকদের জন্য পুরো বিষয়টি তুলে ধরা হলো:-

প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে-
বাংলাদেশ এখনো কৃষি নির্ভর একটি দেশ। বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে কৃষি খাতের গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রয়েছে। মোট দেশজ জাতীয় উৎপাদনে এই খাতের অবদান প্রায় ১৪ শতাংশ। কৃষি খাতেই সবচেয়ে বেশী কর্মসংস্থান যা মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৪৫ শতাংশ এবং কর্মজীবী নারীর প্রায় ৬০ শতাংশ এই কৃষি খাতে নিয়োজিত।

কৃষি উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিশেষ করে বীজ ও কৃষি পণ্য উৎপাদন করে খাদ্যে সয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে ও পুষ্টিকর খাদ্যের চাহিদা মেটাতে কৃষি শ্রমিকরা অনন্য অবদান রেখে আসছে। কৃষি শ্রমিক বাংলাদেশে সবচেয়ে বৃহত্তম শ্রমশক্তি এবং তাদের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশের কৃষি ও খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা কৃষি শ্রমিকদের অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি না দিয়ে তাদেরকে দারিদ্রতার মধ্যে, চরম অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে নিম্নমানের জীবনযাপনে বাধ্য করা হচ্ছে। কৃষি শ্রমিকরা শ্রম আইনের আওতাভূক্ত নয় বলে তারা শ্রম আইনের সুরক্ষা পায়না, ফলে আইনি স্বীকৃত অধিকার হতে তারা বঞ্চিত।

কৃষি শ্রমিক হলো যারা কৃষির বিভিন্ন শাখা যেমন, কৃষিজাত পণ্য উৎপাদন করতে শষ্য ক্ষেতে, বাগানে, বীজাগারে, গবাদি পশু প্রতিপালন, দুগ্ধ খামার, মৎস চাষ এবং প্রাথমিক প্রক্রিয়াজাতকরণের কাজে শ্রম দান করে থাকে। তারা ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের খামার হতে শুরু করে বৃহৎ শিল্পায়িত সবধরনের খামার ও বনায়নে নিয়োজিত। তারা মজুরি ভিত্তিক শ্রমিক, কারণ যে খামার বা জমিতে তারা কাজ করে অথবা যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম ব্যবহার করে, সেগুলো তাদের নিজস্ব নয় এবং এরা মূলত (অধিকাংশই প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক বিহীন) মজুরির বিনিময় কৃষি কাজে নিযুক্ত থাকেন। এই জাতীয় শ্রমিকের মধ্যে রয়েছে: স্থায়ী কৃষি শ্রমিক; অস্থায়ী কৃষি শ্রমিক। মৌসুমী/নৈমিত্তিক কৃষি শ্রমিক; অভিবাসী (মাইগ্রেন্ট) কৃষি শ্রমিক, খণ্ডকালীন শ্রমিক। অথবা কোন কিছুর বিনিময়ে কাজ করা শ্রমিক।

বাংলাদেশে কৃষি শ্রমিক মূলত দুই ধরনের- কৃষি ফার্ম শ্রমিক এবং মজুরি ভিত্তিক কৃষি শ্রমিক (অপ্রাতিষ্ঠানিক কৃষি শ্রমিক)। কৃষি ফার্ম শ্রমিক মূলত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান/সংস্থার অধীনস্থ গবেষণা খামার/বীজ উৎপাদন খামার, বীজ প্রক্রিয়াজাত কেন্দ্র, নার্সারি (ফলদ ও বনজ), হর্টিকালচার সেন্টার/উদ্যান উন্নয়ন কেন্দ্র, ফল, সবজি, অন্যান্য ফসল তথা কৃষি পণ্য উৎপাদন খামার, রেশম বীজাগার, দুগ্ধ খামার ও ডেইরী ফার্ম সমূহে নিয়োজিত শ্রমিকরা। মজুরি ভিত্তিক কৃষি শ্রমিক মূলত কোন ব্যক্তির খামার বা জমিতে (প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক বিহীন) অর্থের বিনিময়ে কাজ করে।

বাংলাদেশের খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা কৃষি শ্রমিক তথা কৃষি ফার্ম শ্রমিকদের ও মজুরি ভিত্তিক কৃষি শ্রমিকদের জীবিকা ও কাজের নিশ্চয়তা, মানসম্মত জীবনযাপন উপযোগী মজুরি, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা, নিরাপদ এবং বৈষম্যমুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কৃষি ফার্ম শ্রমিক ফেডারেশনের পক্ষ থেকে শ্রম সংস্কার কমিশনের নিকট নিম্নলিখিত প্রস্তাবনা ও সুপারিশমালা উত্থাপন করা হলো:

কৃষি ফার্ম শ্রমিকদের আইনি সুরক্ষা:

বিদ্যমান ‘কৃষি ফার্ম শ্রমিক নিয়োগ ও নিয়ন্ত্রণ নীতিমালা ২০১৭’ সংশোধন করে আইনে রূপান্তর করা এবং শ্রম আইনের অন্তর্ভুক্ত করা। প্রস্তাবিত ‘কৃষি ফার্ম শ্রমিক নিয়োগ ও নিয়ন্ত্রণ আইন’ নিম্নরূপ:

(১) কৃষি ফার্ম শ্রমিকের সংজ্ঞা:
কৃষি ফার্ম শ্রমিক বলিতে মূলত বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি ও ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান/সংস্থার অধীনস্থ গবেষণা খামার/বীজ উৎপাদন খামার, বীজ প্রক্রিয়াজাত কেন্দ্র, নার্সারি (ফলদ ও বনজ), হর্টিকালচার সেন্টার/উদ্যান উন্নয়ন কেন্দ্র, ফল, সবজি, অন্যান্য ফসল তথা কৃষি পণ্য উৎপাদন খামার, রেশম বীজাগার, গবাদি পশু পালন খামার, মৎস খামার, দুগ্ধ খামার সমূহে নিয়োজিত শ্রমিককে বুঝাইবে।

শ্রমিক ২ (দুই) ধরনের, যথা: স্থায়ী বা নিয়মিত শ্রমিক ও অনিয়মিত শ্রমিক। স্থায়ী শ্রমিক বলতে বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ (অদ্যাবধি সংশোধিত) অনুযায়ী স্থায়ী কাজে নিয়োজিত শ্রমিককে বুঝাইবে। অনিয়মিত শ্রমিক বলিতে অস্থায়ী/সাময়িক/মৌসুমী ধরনের সাময়িক কাজের জন্য নিয়োজিত শ্রমিককে বুঝাইবে।

ক) স্থায়ী কাজের ক্ষেত্রে স্থায়ী (নিয়মিত) শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া হবে। নিয়মিত পদে কাজ করার জন্য অস্থায়ী ভিত্তিতে বৃদ্ধ ফার্ম শ্রমিক নিয়োগ দেয়া যাইবে না।

খ) যে কাজ প্রতিষ্ঠানের মূল কাজ এবং বছরের ১৮০ দিন চলিবে এবং পরবর্তী বছরেও চলিবে এই কারা স্থায়ী কাজ বলে। বিবেচিত হইবে।

গ) শ্রমিকগণের নিয়োগ ও চাকুরির শর্তাবলি বাংলাদেশ শ্রম আইনের দ্বিতীয় অধ্যায়ের বিধান ৩ এর (১, ২, ৩, ৪) অনুযায়ী পরিচালিত হইবে।

ঘ) শ্রমিকদের শ্রেণীবিভাগ এবং শিক্ষানবিশীকাল বাংলাদেশ শ্রম আইনের দ্বিতীয় অধ্যায়ের বিধান ৪ অনুযায়ী পরিচালিত হইবে।

২। অনিয়মিত শ্রমিক (অস্থায়ী/সাময়িক/মৌসুমী) শ্রমিক নিয়োগের শর্তাবলী:
ক) বাংলাদেশের নাগরিক হইতে হইবে।

খ) নিয়োগের সময় একজন অনিয়মিত শ্রমিকের বয়স ১৮ হইতে ৪৫ বৎসরের মধ্যে হইতে হইবে।

গ) কৃষি কাজে শারীরিক ও মানসিকভাবে যোগ্যতা সম্পন্ন হইতে হইবে।
খ) নিয়োগের সময় শ্রমিকের বয়সের প্রমাণ স্বরূপ জাতীয় পরিচয়পত্র দাখিল করিতে হইবে।

ড) পঞ্চম শ্রেণী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হইবে।

চ) পরিচালক পর্ষদ কর্তৃক অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান প্রধানের নেতৃত্বে গঠিত ৩ (তিন) সদস্য বিশিষ্ট কমিটির অনুমোদনের মাধ্যমে অনিয়মিত শ্রমিক নিয়োগ করিতে হইবে।

ছ) কোনভাবেই নিয়মিত পদে (স্থায়ী) কাজ করার জন্য অস্থায়ী ভিত্তিতে কৃষি ফার্ম শ্রমিক নিয়োগ দেয়া যাইবে না।

৩। নিয়মিতকরণ: অনিয়মিত (অস্থায়ী/সাময়িক/মৌসুমী) শ্রমিককে নিম্নবর্ণিত শর্ত সাপেক্ষে নিয়মিত করা যাইবে।

ক) প্রতিষ্ঠানে নিরবিচ্ছিন্নভাবে কমপক্ষে কর্মে ২ (দুই) বৎসর নিয়োজিত থাকিতে হইবে। বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত ছাড়া

পঞ্জিকা বৎসরে ১২০ দিন কাজ করিলে নিরবিচ্ছিন্ন ১ (এক) বৎসর কাজ বুঝাইবে।
খ) নিয়োমিতকরণের ক্ষেত্রে অনিয়মিত (অস্থায়ী/সাময়িক/মৌসুমী) শ্রমিকদের জ্যেষ্ঠতা অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক।

গ) নিয়মিতকরণের তারিখ হইতে শ্রমিকের নিয়োগ সময়কাল গণনা শুরু হইবে।

ঘ) বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ (অদ্যাবধি সংশোধিত) এর সাথে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক কোন বিধি বা কোন নীতিমাল প্রণয়ন করা যাইবে না।

৪। নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র: কোন নিয়োগকর্তা নিয়োগপত্র প্রদান না করিয়া কোন শ্রমিককে নিয়োগ করিতে পারিবে না এবং নিয়োজিত প্রত্যেক শ্রমিককে ছবিসহ পরিচয়পত্র প্রদান করিতে হইবে।

৫। নিয়োগ কালের অবসান। কোন শ্রমিকের বয়স ৬২ বৎসর পূর্ণ হইলে নিয়োগ কালের অবসান হইবে।

৬। শ্রমিকের সংখ্যা নির্ধারণ: হেক্টর প্রতি শ্রমিকের হার ৭ (সাত) জন হইবে।

৭। নিয়োগ অবসানে আর্থিক সুবিধা: প্রতি পূর্ণ বৎসর কার্যকালের জন্য ৬০ দিন হারে মজুরি পাওয়ার অধিকারী হইবেন।

উল্লেখ্য, কোন নিয়মিত শ্রমিক স্বেচ্ছায় অবসরে গমন করিলে একই নিয়মে আর্থিক সুবিধা পাইবেন।

৮। মজুরি ও মজুরি প্রদান পদ্ধতি:
(ক) নিম্ন লিখিত হারে স্থায়ী (নিয়মিত) শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি প্রদান করা হইবে:

১.নিয়মিত করণের তারিখ হতে ৫ বছর হলে দৈনিক ১০০০ টাকা
২. ৫-১০ বছরের মধ্যে হলে ১১০০ টাকা
৩. ১০ তদুর্ধ থেকে১৫ বছর হলে ১২০০ টাকা
৪.১৫ বছর থেকে বেশি হলে ১৩০০ টাকা

(খ) অনিয়মিত শ্রমিকদের দৈনিক মজুরী ৯৫০ (নয়শত পঞ্চাশ) টাকা প্রদান করা হইবে।
(গ) প্রতি দুই বছর অন্তর অন্তর কৃষি ফার্ম শ্রমিকদের মজুরি ও অন্যান্য সুবিধাদি আন্তঃমন্ত্রণালয় স্টান্ডিং কমিটি ও বাংলাদেশ
কৃষি ফার্ম শ্রমিক ফেডারেশন আলোচনার মাধ্যমে পুননির্ধারণ করবে।
(ঘ) নিয়মিত/অনিয়মিত (অস্থায়ী/সাময়িক/মৌসুমী) শ্রমিকদের মজুরি শ্রমিকের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে প্রদান করিতে হইবে। কোনক্রমেই নগদে মজুরি প্রদান করা যাইবে না।
৯। দৈনিক কাজের সময়কাল।

(ক) একজন শ্রমিকের দৈনিক কর্মঘন্টা ৮ ঘন্টা হইবে। অধিককাল কর্মের জন্য বাংলাদেশ শ্রম আইনের ধারা ১০৮ এর বিতন ছায়া পরিচালিত হবে।
(খ) জোরপূর্বক কোন শ্রমিককে দিয়ে অধিক সময় কাজ করানো যাইবে না।
১০। ছুটি। প্রত্যেক নিয়মিত শ্রমিক নিম্নবর্ণিত ছুটি পাইবেন
ক) নৈমিত্তিক ছুটি: প্রত্যেক পঞ্জিকা বৎসরে ১০ (দশ) দিন।
খ) উৎসব ছুটি: প্রত্যেক পঞ্জিকা বৎসরে ১৭ (সতের) দিন।
গ) প্রসূতি ছুটি: একজন নিয়মিত এবং অনিয়মিত নারী শ্রমিক প্রসবকালীন সময়ে ০৬ (ছয়) মাস স্ববেতনে মাতৃত্বকালীন ছুটি পাইবেন। এই সুবিধা কোন নারী শ্রমিক কর্মকালীন সময়ে ০২ (দুই) বারের বেশী পাইবেন না।
ঘ) সাপ্তাহিক ছুটি: একজন শ্রমিক প্রতি সপ্তাহে ১ (এক) দিন সাপ্তাহিক ছুটি পাইবেন। তবে সকল শ্রমিককে একসাথে একই দিন ছুটি প্রদান করা যাইবেনা, কর্তৃপক্ষ কর্মসূচিতে উল্লিখিত মতে পালাক্রমে প্রতি শ্রমিককে সাপ্তাহিক ছুটি প্রদান করিবেন।

১১। উৎসব বোনাস। প্রত্যেক নিয়মিত শ্রমিক ৩০ দিনের মজুরির সমপরিমাণ অর্থ বছরে ২(দুই) টি এবং প্রত্যেক অনিয়মিত শ্রমিক বছরে ১২০ দিন একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকা সাপেক্ষে বছরে ৩০ দিনের মজুরির সমপরিমাণ অর্থবছরে ০১টি অরিধা উৎসব বোনাস পাইবেন।
(খ) প্রত্যেক শ্রমিক ৩০ দিনের মজুরির অর্ধেক পরিমাণ নববর্ষ ভাতা পাইবেন।
(গ) পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে কর্মরত শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৫০% পাহাড়ী ভাতা প্রদান করা হইবে।

১২। চিকিৎসা ও আর্থিক সুবিধা: কৃষি খামারে কর্মরত অবস্থায় কোন শ্রমিক আহত হইলে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ আহার। চিকিৎসার ব্যবস্থা করিবেন। শর্ত থাকে যে, কোন শ্রমিক কার্যরত অবস্থায় আহত বা ক্ষতিগ্রস্থ হইলে বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ (অদ্যাবধি সংশোধিত) অনুযায়ী উপযুক্ত চিকিৎসা ও আর্থিক সুবিধা পাইবেন।

১৩। বাধ্যতামূলক গ্রুপ বীমা চালুকরণ:
কৃষি ফার্ম শ্রমিকগণ বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ (অদ্যাবধি সংশোধিত) অনুযায়ী বাধ্যতামূলক গ্রুপ বীমা সুবিধা পাইবেন।

১৪। কৃষি ফার্ম শ্রমিক ভবিষ্য তহবিল:
(ক) কৃষি ফার্ম শ্রমিক ভবিষ্য তহবিল নামে একটি তহবিল স্থাপিত হবে।
(খ) কৃষি ফার্ম শ্রমিক ভবিষ্য তহবিল পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ (অদ্যাবধি সংশোধিত) এর সংশ্লিষ্ট বিধান ও বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা অনুযায়ী ভবিষ্য তহবিল ট্রাস্ট্রি বোর্ড গঠন করা হইবে।

১৫। অসদাচরণ ও দন্ড-প্রাপ্তির ক্ষেত্রে শান্তি। নিম্নবর্ণিত কাজ অসদাচরণ বলে বিবেচিত হইবে।
ক) একাকী বা সংঘবদ্ধভাবে কোন কর্মকর্তার আইনানুগ বা যুক্তি সংগত আদেশ ইচ্ছাকৃতভাবে পালন
না করা বা অমান্যতা করা।
খ) নিয়োগকারীর খামার সংক্রান্ত ব্যাপারে চৌর্য, প্রতারণা বা অসাধুতা।
গ) নিয়োগকারীর অধীনে নিজের বা অন্য কোন শ্রমিক এর নিয়োগের ব্যাপারে ঘুষ বা অনৈতিক কোন পারিতোষিক গ্রহণ বা প্রদান;
ঘ) ছুটি ব্যতিরেকে অভ্যাসগত অনুপস্থিতি বা ছুটি ব্যতিরেকে ৭ (সাত) দিনের অধিক অনুপস্থিতি। ৫) অভ্যাসগত বিলম্বে উপস্থিতি;
চ) কৃষি খামারে প্রযোজ্য যে কোন আইন বা নিয়ম বা বিধান ভঙ্গ করা।
ছ) কৃষি খামারে উচ্ছৃঙ্খলতা, দাঙ্গ-হাঙ্গামা, অগ্নি সংযোগ বা ভাংচুর:
জ) কর্তব্য কাজ না করার অভ্যাস বা কাজে অবহেলা।
ঝ) কৃষি খামার অফিসের সম্পদ/নথিপত্রের ক্ষতি করা নষ্ট করা বা বিকৃত করা;
ঞ) রাষ্ট্রবিরোধী কোন কাজ করা।

১৬। শান্তিদানের পদ্ধতি:
শান্তিদানের পদ্ধতি বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ (অদ্যাবধি সংশোধিত) এর সংশ্লিষ্ট বিধান ২৩, ২৪ ও বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা ২০১৫ (অদ্যাবধি সংশোধিত) বিধি ২৯ অনুযায়ী নির্ধারিত হইবে।

১৭। সাময়িক বরখাস্তকালীন প্রাপ্য। কর্ম বিরতিতে থাকাকালীন হলে দৈনিক মজুরির এক অর্ধেক প্রাপ্য হবেন।

১৮। আপীল: ৯০ (নব্বই) দিনের মধ্যে আপীল করিতে হইবে।
মজুরি ভিত্তিক অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের কৃষি শ্রমিকদের আইনি স্বীকৃতি
(ক) বাংলাদেশের সংবিধান এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃত আইন অনুযায়ী কৃষি শ্রমিকদের আইনগত স্বীকৃতি ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
(খ) ট্রেড ইউনিয়ন রেজিস্ট্রিকরণের ক্ষেত্রে ইউনিয়ন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান/পৌরসভা/সিটি কর্পোরেশন/কাউন্সিলয়/মেয়র কর্তৃক কৃষি শ্রমিক হিসাবে প্রদানকৃত প্রভায়ন পরিচয়পত্র হিসাবে বিবেচিত হবে।

স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা : কৃষি শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করণে
১. কৃষিতে স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বিষয়ক আইএলও কনভেনশন ১৮৪ অনুসমর্থন করা এবং আইএলও সুপারিশমালা ১৯২ বাস্তবায়ন করা।
২. ব্যক্তিগত সুরক্ষামূলক সরঞ্জামাদি ও কৃষিকর্ম উপকরণ বিনামূল্যে কৃষি শ্রমিকদের মাঝে বিতরণ করা।
৩. উচু মাত্রার বিষাক্ত রাসায়নিক কীটনাশক আমদানি ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করা।
৪. কীটনাশকের প্রয়োগ পদ্ধতি সম্পর্কে কৃষক এবং কৃষি শ্রমিকদের প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করা।
৫. নিয়োগকর্তারা নিরাপদ কর্মস্থল নিশ্চিত করতে তাদের বাধ্যবাধকতা পূরণ করছে কি না এজন্য ত্রিপক্ষীয় তদারকি কমিটি গঠন করা।
৬. নিয়োগকর্তাদের আইএলও কনভেনশন ১৫৫ প্রতিপালন আইন প্রণয়ন করা।
৭. আইন ভঙ্গকারী নিয়োগকর্তাদের বিচার এবং জরিমানার করা।
৮. নিহত ও আহত তথা ক্ষতিগ্রস্থ শ্রমিক ও তাদের পরিবারকে আইএলও কনভেনশন ১২১ অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধান তৈরী করা।

জলবায়ু ন্যায্যতা, ন্যয্য রূপান্তর ও সামাজিক নিরাপত্তা
১. কৃষি শ্রমিকদের রেশনিংয়ের ব্যবস্থা করা।
২. কৃষি শ্রমিকদের চিকিৎসা ভাতা এবং সন্তানদের শিক্ষা ভাতা চালু করা।
৩. মজুরি ভিত্তিক কৃষি শ্রমিকদের জন্য ১০০ দিনের কর্মসৃজন প্রকল্প চালু করা।
৪. জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষি শ্রমিকদের জন্য তহবিল গঠন করা।
৫. কৃষিতে নতুন প্রযুক্তি এবং ডিজিটালাইজেশনের বিষয় শ্রমিকদের প্রক্ষিণ দেওয়া এবং যুব ও কৃষি শ্রমিকদের উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়া।
বৈশ্বিক মানদন্ডের সমমান সমম্পন্ন অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈষম্যমুক্ত শ্রম আইন
(ক) ২০১৮ সালে জাতিসংঘের মানবাধীকার কমিশন কর্তৃক গৃহীত United Nations Declaration on the Rights
of Peasants and Other People Working in Rural Areas এর বাস্তবায়ন করা।
(খ) বৈশ্বিক মানদন্ডের সমমান সমম্পন্ন শ্রম আইন তৈরী করা অর্থাৎ আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ৫টি মৌলিক কনভেনশনসহ সকল গুরুত্বপূর্ণ কনভেনশন ও মানবাধিকার সংক্রান্ত দায়বদ্ধতা, OECD নির্দেশিকা, জাতিসংঘের সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্রের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈষম্যমুক্ত শ্রম আইন তৈরী এবং এর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।

উপরোক্ত প্রস্তাবনা এবং সুপারিশ সমূহ বাস্তবায়ন করলে কৃষি শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষা এবং কল্যাণ নিশ্চিত হবে। ফলে কৃষি শ্রমিকদের প্রতি বৈষম্য দূর হবে, তাদের অর্থনৈতিক এবং সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ কৃষি সংবাদ
Theme Customized By Shakil IT Park