1. admin@krishisangbad.com : admin :
  2. siddique149096@bsdi-bd.org : md abu bakar siddique rasim : md abu bakar siddique rasim
সমাজভিত্তিক মৎস্য উন্নয়নে কাজ করছে সরকার - কৃষি সংবাদ
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১৫ পূর্বাহ্ন

সমাজভিত্তিক মৎস্য উন্নয়নে কাজ করছে সরকার

  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২৮ বার পঠিত

কৃষি সংবাদ প্রতিবেদক:

মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও মৎস্যজীবীদের জীবনমান উন্নয়নে বাঁওড় ভিত্তিক প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

মৎস্য অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যশোর, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়ার ১৫টি উপজেলার ২৯টি বাঁওড়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। সবচেয়ে বেশি ব্যয় ধরা হয়েছে বাঁওড় খনন করে মাছের আবাসস্থল উন্নয়নে। এ খাতে প্রস্তাবিত ব্যয় ১১ কোটি ২১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা, যা মোট ব্যয়ের ২৩ দশমিক ৫৯ শতাংশ। এর মাধ্যমে সাড়ে পাঁচ লাখ ঘনমিটার খননের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বাঁওড় ব্যবস্থাপকের দপ্তরের ৩৫টি পুকুর পুনঃখনন ও পাড় মেরামতে ১ কোটি ৭৩ লাখ ৩৯ হাজার টাকা এবং এসব পুকুরে অ্যারেটর, বিদ্যুৎ সংযোগ, সিসি ক্যামেরা ও ল্যাম্পপোস্ট স্থাপনে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা রাখা হয়েছে। ছয়টি গভীর নলকূপ স্থাপনে ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে আরও ১ কোটি ২০ লাখ টাকা।

দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যয় খাত ছয়টি অফিস ভবন নির্মাণ। এতে প্রস্তাবিত ব্যয় ৭ কোটি ৩১ লাখ ৮ হাজার টাকা, যা মোট ব্যয়ের ১৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ। বাঁওড়ের মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র কাম সমিতির ভবন, রাস্তা ও অন্যান্য স্থাপনা মেরামতে ১ কোটি ৯৬ লাখ টাকা এবং আয়রন মেশ নেট স্থাপনে ১ কোটি ৭১ লাখ টাকা ব্যয়ের সংস্থান রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র আরো জানায়, মাছের মজুত বৃদ্ধিতে রুইজাতীয় মাছের পোনা অবমুক্তকরণে ২ কোটি ২১ লাখ ২ হাজার টাকা এবং দেশীয় প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্তকরণে ৫ কোটি ৪০ লাখ ৯১ হাজার টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। এ দুই খাতে মোট ব্যয় ৭ কোটি ৬১ লাখ ৯৩ হাজার টাকা। এর মাধ্যমে ৫৫ দশমিক ২৫ মেট্রিক টন রুইজাতীয় মাছের পোনা এবং ১৫৪ দশমিক ৫৫ লাখ দেশীয় প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। এ ছাড়া ২৯টি অভয়াশ্রম স্থাপনে ২ কোটি ৩২ লাখ টাকা এবং পাঁচ বছরে ২৯০টি বিল নার্সারি কার্যক্রম বাস্তবায়নে ২ কোটি ৯০ লাখ টাকা রাখা হয়েছে।

মৎস্যজীবীদের দক্ষতা ও সংগঠন উন্নয়নের অংশ হিসেবে ৩ হাজার ৮৭৫ জন মৎস্যজীবীকে ১৫৫ ব্যাচে প্রশিক্ষণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ১৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা। সুফলভোগী দল শক্তিশালীকরণ, সদস্যতালিকা হালনাগাদ, নিবন্ধন ও ব্যবস্থাপনায় ৬৯ লাখ টাকা; বাঁওড়ভিত্তিক ২৯টি অগ্রগতি পর্যালোচনা সেমিনারে ৭২ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং প্রকল্পের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মশালা ও প্রশিক্ষণ মডিউল প্রস্তুতের কর্মশালায় ২৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা রাখা হয়েছে। প্রকল্প পরিচালনা ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমের জন্য চালক, জ্বালানি, লুব্রিকেন্ট ও টোলসহ পাঁচ বছর একটি জিপ ভাড়ায় ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৮ লাখ টাকা। এ ছাড়া ২৩টি নৌকা ক্রয়ে ৬৯ লাখ টাকা এবং জনসচেতনতা ও প্রকল্পের কার্যক্রম নিয়ে দুটি প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণে ২০ লাখ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পের মূলধন ব্যয় ৩০ কোটি ৮৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা এবং রাজস্ব ব্যয় ১৬ কোটি ৬৯ লাখ ১৫ হাজার টাকা। প্রকল্প এলাকার বাঁওড়গুলোতে মাছের উৎপাদন ১০ শতাংশ বৃদ্ধি এবং ৫ হাজার ৩২৫ জন বিভিন্নভাবে উপকৃত হবেন।

জানতে চাইলে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: দেলোয়ার হোসেন বলেন, বাঁওড়গুলোতে মাছের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় মৎস্যজীবীদের সম্পৃক্ত করে কার্যকর ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলাই এ প্রকল্পের লক্ষ্য। নির্বাচিত জলাশয় চিহ্নিত করে অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠা, মাছের নিরাপত্তায় নজরদারি এবং স্থানীয় মানুষকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, অভয়াশ্রমের নির্ধারিত এলাকায় মাছ আহরণ নিয়ন্ত্রিত থাকবে, যাতে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও বংশবিস্তারের সুযোগ তৈরি হয়। বর্ষা মৌসুমে মাছ আশপাশের নদী ও বিলে ছড়িয়ে পড়লে সেখান থেকে স্থানীয় জেলেরা মাছ আহরণ করতে পারবেন। এর মাধ্যমে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং মৎস্যজীবীদের জীবিকায় দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাবেন।

এবিষয়ে মৎস্য অধিদফতরের মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত ) ড. মো. খালেদ কনক বলেছেন, প্রকল্পটি প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এটি নিয়ে মন্ত্রনালয় ও পরিকল্পনা কমিশনে দু্একবার আলোচনা হয়েছে। এটি ‘নির্বাচিত বাঁওড় এলাকায় সমাজভিত্তিক মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প’ নামকরণ থেকেই বোঝাযায়, প্রকল্প সমাজের জেলে ও মৎস্যচাষীদের জীবনমান উন্নয়নে প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন হলে দেশের চারটি জেলার ২৯ টি বাঁওড়ে মাছের উৎপাদন এখনকার থেকে ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। যার বাণিজ্যক মূল প্রায় হাজার কোটি টাকা। তিনি আশা করেন, জনগুরুত্বপূর্ণ এ প্রকল্পটি বস্তবায়ন করা হলে এসব অঞ্চলের জেলেদের জীবনমান উন্নয়ন হবে।

তিনি আরো বলেন, এ প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো, নব্বইয়ের দশকে গঠিত সমিতিগুলোর সদস্যতালিকা হালনাগাদ, প্রকৃত মৎস্যজীবীদের অন্তর্ভুক্তি এবং স্বচ্ছ হিসাব ও সুফলবন্টনের মাধ্যমে সমাজভিত্তিক মৎস্য ব্যবস্থাপনা।

মৎস্য অধিদপ্তরের এ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ৪৭ কোটি ৫৫ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। সরকারি অর্থায়নে প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল প্রস্তাব করা হয়েছে। অনুমোদর শেষে সম্পূর্ণ কাজ শেষ করতে জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩১ পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ কৃষি সংবাদ
Theme Customized By Shakil IT Park