কৃষি সংবাদ প্রতিবেদক:
আরব আমিরাত, কানাডা, রাশিয়া এবং সৌদি আরব থেকে ৪ লাখ ৭৫ হাজার টন সার কিনছে সরকার।
বুধবার (১৯ আগস্ট) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই সার কেনার তিনটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সভা সূত্রে জানাগেছে, আরব আমিরাত থেকে ৩ লাখ ৬০ হাজার টন ইউরিয়া কিনবে সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের চুক্তির আওতায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিষ্ঠান ফার্টিগ্লোব ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেড থেকে তিন লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) মাধ্যমে এ সার আমদানি করা হবে। সরকারি অর্থায়নে আমদানি কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির মেয়াদ গত ৩১ জুলাই শেষ হয়েছে।
জানা যায়, ইউরিয়া সারের সরবরাহব্যবস্থায় নিরবচ্ছিন্নতা বজায় রাখার জন্য ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে ফার্টিগ্লোব ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেড থেকে মোট ৩ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার আমদানির চুক্তি স্বাক্ষরের নীতিগত অনুমোদন চাওয়া হয়। নির্ধারিত পরিমাণের অতিরিক্ত ১০ শতাংশ পর্যন্ত সার আমদানির সুযোগও রাখা হয়েছে।
সূত্র আরো জানায়, কানাডা, রাশিয়া ও সৌদি আরব থেকে আরো এক লাখ ১৫ হাজার মেট্রিক টন সার আমদানির তিনটি প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এর মধ্যে কানাডা ও রাশিয়া থেকে ৭৫ হাজার মেট্রিক টন মিউরেট অব পটাশ (এমওপি) এবং সৌদি আরব থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানি করা হবে। এসব সার আমদানিতে ব্যয় হবে ৫৬৪ কোটি ২৪ লাখ ৮২ হাজার ৮৮৭ টাকা।
বৈঠকে অনুমোদিত প্রথম প্রস্তাব অনুযায়ী, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন কানাডার কানাডিয়ান কমার্শিয়াল করপোরেশন থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের চুক্তির আওতায় ৪০ হাজার মেট্রিক টন মিউরেট অব পটাশ সার আমদানি করবে। এতে ব্যয় হবে ১৮৭ কোটি ২২ লাখ ৮৯ হাজার ৫৪০ টাকা। কৃষি ভর্তুকির বাজেট থেকে এ অর্থ পরিশোধ করা হবে।
চুক্তিতে নির্ধারিত মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি অনুসারে বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারদর বিবেচনায় প্রতি মেট্রিক টন মিউরেট অব পটাশ সারের দাম পড়েছে ৩৭৭ দশমিক ৬৩ মার্কিন ডলার। সব মিলিয়ে এ লটের সারের মূল্য ১ কোটি ৫১ লাখ ৫ হাজার ২০০ মার্কিন ডলার।
জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কানাডা থেকে ১০টি লটে মোট ৪ লাখ মেট্রিক টন সার আমদানি সম্পন্ন হয়েছে। বিদ্যমান চুক্তির আওতায় আরও তিনটি ঐচ্ছিক লটের সার অবশিষ্ট থাকায় চুক্তির সংশোধনী স্বাক্ষর করা হয়েছে।
অন্যদিকে, রাশিয়া থেকে ৩৫ হাজার মেট্রিক টন মিউরেট অব পটাশ সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের চুক্তির আওতায় রাশিয়ার জেএসসি ফরেন ইকোনমিক করপোরেশন (প্রডিনটর্গ) থেকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের চতুর্থ লটে এ সার আমদানি করা হবে। এতে ব্যয় হবে ১৬৩ কোটি ৮২ লাখ ৫৩ হাজার ৩৪৭ টাকা। কৃষি ভর্তুকির বাজেট থেকে এ অর্থ দেওয়া হবে।
চুক্তির মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি অনুসারে প্রতি মেট্রিক টন মিউরেট অব পটাশ সারের দাম ৩৭৭ দশমিক ৬৩ মার্কিন ডলার। ৩৫ হাজার মেট্রিক টন সারের মোট মূল্য ১ কোটি ৩২ লাখ ১৭ হাজার ৫০ মার্কিন ডলার।
জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট ৭ লাখ ১৬ হাজার মেট্রিক টন মিউরেট অব পটাশ সার আমদানির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এর মধ্যে রাশিয়া থেকে আমদানির লক্ষ্যমাত্রা ৫ লাখ ৯৫ হাজার মেট্রিক টন। এ পর্যন্ত রাশিয়া থেকে ১ লাখ ৫ হাজার মেট্রিক টন সার আমদানি করা হয়েছে।
বৈঠকে, শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন সৌদি আরবের সাবিক এগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ২১৩ কোটি ১৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা। সরকারি অর্থায়নে এ সার আমদানি করা হবে।
জানা যায়, সৌদি আরবের সাবিক থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের চুক্তির আওতায় ২০০৭ সাল থেকে ইউরিয়া সার আমদানি করা হচ্ছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৩ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন এবং জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় আরও ৫ লাখ মেট্রিক টনসহ মোট ৮ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার আমদানির চুক্তি করা হয়েছে।
চুক্তিতে নির্ধারিত মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি অনুযায়ী বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারদরে দ্বিতীয় লটে ৪০ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ কোটি ৭২ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ২১৩ কোটি ১৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা। প্রস্তাবটি প্রত্যাশামূলক অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়েছিল।