1. admin@krishisangbad.com : admin :
  2. siddique149096@bsdi-bd.org : md abu bakar siddique rasim : md abu bakar siddique rasim
ভরা মৌসুমেও ইলিশের খরা - কৃষি সংবাদ
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে মন্ত্রণালয়ের সাথে আইসিসিসিএডির সমঝোতা স্মারক সই দেশীয় মাছ সংরক্ষণ এবং মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে কাজ করছে সরকার: মৎস্য প্রতিমন্ত্রী প্রান্তিক খামারিদের স্বার্থে কেন্দ্রীয় মুরগি খামারে উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ টুকুর ১১৭ টি ফিড মিলকে নোটিশ করেছে সরকার রাজধানীর সাত স্থানে ককটেল বিষ্ফোরণসহ বাসে আগুন নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার বন্ধের আহ্বান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর ভেজালমুক্ত পণ্য নিশ্চিত করতে ডিজিটাল সেবা বাড়ানোর তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর রফতানিমুখী কৃষিজ পণ্য উৎপাদনে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির তাগিদ টিসিবির জন্য ১০ হাজার টন মসুর ডাল কিনবে সরকার সৌদি আরব থেকে ১৯৪ কোটি টাকার ইউরিয়া আমদানির অনুমোদন

ভরা মৌসুমেও ইলিশের খরা

  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬
  • ৭০ বার পঠিত

কৃষি সংবাদ প্রতিনিধি, বরিশাল:

ইলিশের চলছে ভরা মৌসুম। কিন্তু জেলেদের জালে ধরা পড়ছে না কাঙ্খিত ইলিশ। ফলে বাজারে ইলিশের দাম আকাশচুম্বি। এতে জাতীয় মাছের স্বাদ ভুলতে বসেছে নিম্ন আয়ের মানুষ।

মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে বরিশাল নগরীর পোর্টরোড পাইকারি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, মোকামে প্রায় ৬০ মণ ইলিশ এসেছে। অথচ এ সময়ে হাজার মণ ইলিশ পাওয়ার কথা। ফলে সরবরাহ কম থাকায় বেড়েছে ইলিশের দাম।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, এক কেজি সাইজের প্রতিকেজি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে আড়াই হাজার থেকে ৩ হাজার টাকায়। এছাড়া ৭০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের (এলসি) ইলিশ প্রতি কেজি দুই হাজার ৫০ থেকে দুই হাজার ৪০০, ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ এক হাজার ৮০০ এবং ৪০০ গ্রামের ইলিশের কেজি ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা।

ব্যবসায়ীরা জানান, আড়তে এমন সময় ইলিশে ভরপুর থাকার কথা। অথচ ভরা মৌসুমেও নদ-নদীতে ইলিশের দেখা নেই । ফলে সরবরাহ কম থাকায় দাম বেশি বলে জানান বিক্রেতারা।
পোর্ট রোড ইলিশ মোকামের লিয়া আড়তের স্বত্বাধিকারী নাসির উদ্দিন বলেন, নদীতে ইলিশ একদম কম। গত কয়েকদিন ধরে মোকামে মাত্র ৫০-৬০ মণ ইলিশ এসেছে। অথচ এই সময়ে দুই থেকে তিন’শ মণ ইলিশ পাওয়ার কথা।

মেসার্স দুলাল ফিশের ম্যানেজার মো. রবিন বলেন, ‘দুয়েক বছর আগেও ভরা মৌসুমে পোর্ট রোডের আড়তে দিনশেষে দুই হাজার মণ ইলিশ বেচাকেনা হতো। কিন্তু এখন সেই দৃশ্য পুরোপুরি উল্টো। কয়েকদিন ধরে ৬০ মণের উপরে মাছ আসছে না। ফলে চাহিদা থাকলেও আশানুরূপ ইলিশ না থাকায় দাম বাড়ছে।

পোর্টরোড মৎস্য অবতরণকেন্দ্রের মালিক-সমিতির সাবেক অর্থ সম্পাদক ইয়ার হোসেন শিকদার জানান, আমাদের মোট ১৭০ আড়তে ভরা মৌসুমে আগে প্রতিদিন ১ হাজার থেকে ১২০০ মণ ইলিশ আসতো। বেচাবিক্রি কোটি কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেত। এখন হচ্ছে মাত্র ২৫-৩০ লাখ টাকার।

এদিকে ক্রেতারা বলেছেন- ইলিশের দাম আগের তুলনায় বেশি হওয়ায় অন্য মাছ নিয়ে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে।

পোর্টরোড পাইকারি বাজারে মাছ কিনতে আসা শাহিন বলেন, আগে যে ইলিশের কেজি ১৪০০ থেকে ১৬০০ টাকা ছিল তা এখন ২২০০-২৫০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। মাছের সরবরাহ কমের অজুহাতে সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ানো হয়েছে। নিজেদের নদ-নদী বা সাগরের মাছ। এত বেশি দামের কোনো কারণ দেখছি না।

রাসেল সিকদার নামে এক ক্রেতা বলেন, ইলিশ কিনতে এসে দরদামে পোষাতে না পেরে পাঙ্গাশ কিনতে হয়েছে। ৫০০ গ্ৰাম সাইজের ইলিশের কেজি ১৮০০ টাকা হয়েছে। যা আগে ছিল ৮০০-৯০০ টাকা। পাঙ্গাশের দামও বেড়েছে। পাঙ্গাশ কিনেছি ২৮০ টাকায়। যা আগে ছিল ১৫০-২০০ টাকার মধ্যে।

নদীতে ইলিশ ধরতে আসা জেলে আসলাম বলেন, ইলিশও নেই, জাটকাও নেই। আপাতত ধার-দেনায় চলছি। তবে বৃষ্টি হলে মাছ ধরা পড়বে বলে আশা করছেন তিনি।

কীর্তনখোলা নদীর জেলে সগির বলেন, নিষেধাজ্ঞা মেনেই নদীতে নেমেছি। অথচ নদীতে ইলিশের দেখা নেই। এমন চলতে থাকলে জাল বেঁচে দেনা পরিশোধ করতে হবে।

মৌসুম শুরু হলেও ইলিশের খরা প্রসঙ্গে বরিশাল মৎস্য কর্মকর্তা ড. হাদিউজ্জামান বলেন, জুন থেকে ইলিশের মৌসুম শুরু হলেও ভরা মৌসুম জুলাই থেকে শুরু হয়। বৃষ্টি হলেই সাগর থেকে নদীতে ইলিশ আসবে। কারণ এ বছর মার্চ-এপ্রিল এ দুই মাস ষষ্ঠ অভয়াশ্রমে কড়া নজর থাকায় জাটকা নিধন কমেছে। জাটকা রক্ষায় নদীতে ৩০ জুন পর্যন্ত এবং সাগরে ১১ জুন পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা চলমান রয়েছে। তবে ইলিশ ধরায় বাধা নেই।

এদিকে ইলিশের পরিস্থিতি নিয়ে গবেষকেরা বলছেন, চলতি বছর অভয়াশ্রমের জাটকার প্রায় ৯০ শতাংশ সাগরে পৌঁছেছে। এর সুফল পাওয়া যেতে পারে মৌসুমের শেষ দিকে অর্থাৎ সেপ্টেম্বর-অক্টোবর নাগাদ। যদিও ১১ জুন পর্যন্ত সাগরে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা চলছে। তবে সময়সীমা আরেকটু বাড়লে জাটকা বড় হবে এবং পুরোপুরি সুফল পাওয়া যাবে।

ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেছেন, এবার এপ্রিলের শেষ নাগাদ ঝাঁকে ঝাঁকে চাপিলা আকৃতির জাটকা (ছোট ইলিশ) সাগরে চলে গেছে। গত বছরের জাটকার ঝাঁক সাগরে গিয়েছিল মে মাসের প্রথম সপ্তাহে। এবার মৎস্য অধিদপ্তরের নজরদারিতে জাল দিয়ে চাপিলা সাইজের জাটকা ধরতে পারেনি বেশি। নদীতে এগুলো ৫-৬ ইঞ্চি হয়ে সাগরে পৌঁছেছে। গত বছরের তুলনায় ৯০ শতাংশ জাটকা সাগরে চলে গেছে বলে তাদের ধারণা। এখন দরকার সাগরে এটিকে বড় হতে দেওয়া।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ কৃষি সংবাদ
Theme Customized By Shakil IT Park