কৃষি সংবাদ প্রতিবেদক :
আওয়ামী শাসনামলে বঞ্চিত অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কর্মকর্তাদের জন্য সুসংবাদ আসছে। এ সংক্রান্ত গঠিত কমিটির প্রতিবেদনের আলোকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো সামারি রাষ্ট্রপতি থেকে অনুমোদিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো. মোখলেস উর রহমান।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) তিনি এ তথ্য জানান।
সিনিয়র সচিব জানান, অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জন্য গঠিত কমিটির প্রতিবেদনের আলোকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো সামারি রাষ্ট্রপতি থেকে অনুমোদিত হয়েছে।
তিনি আরও জানান, অনুমোদিত সামারি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের হস্তগত হয়েছে। পদভিত্তিক আলাদা-আলাদা জিও জারি করে দ্রুত পদোন্নতির ব্যবস্থা করা হবে। বকেয়া টাকাসহ জিও জারি করা হবে।
এর আগে বঞ্চনা নিরসন কমিটির সুপারিশ ও সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে জ্যেষ্ঠ সচিব বলেছিলেন, চাকরি যারা করেন,তারা জানেন, ন্যূনতম একটি প্রক্রিয়ার ব্যাপার আছে। এ বিষয়ে ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের একটি নির্দেশনা লাগবে। তবে ইতিবাচক। চাকরির কিছু বিধিবিধান আছে। এটি মানতে হবে। এর বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই।’ তবে সংক্ষিপ্ত সময়ে এ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আশা ব্যক্ত করেন তিনি।
এর আগে সচিবালয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সামনে বারান্দায় বেশ কিছুসংখ্যক বঞ্চিত কর্মকর্তা দাবি আদায়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন।
সেই সময় জনপ্রশাসনের সিনিয়র সচিব বলেছিলেন, এটি ঠিক পদোন্নতি নয়। এটি হলো সামাজিক মানমর্যাদা। আর্থিক সুবিধা ও পদপদবি দিয়ে একটি সরকারি আদেশ জারি হবে। এর ভিত্তিতে অর্থনৈতিক আদেশে তারা এই টাকা পাবেন। সরকার নীতিগতভাবে একমত। একটু সময়ের ব্যাপার। পদে বসানো এক বিষয়, আর পদমর্যাদা এক বিষয়। এটি হলো ওই পদে মর্যাদা দিয়ে সরকারি আদেশ দেওয়া হবে। হিসাবটি করবে এজি অফিস। তাদের বিজ্ঞানসম্মত নিয়ম আছে। পেনশনের ক্ষেত্রেও এই সুবিধা হবে বলে জানান সচিব।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গত ১৬ সেপ্টেম্বর সাবেক অর্থসচিব এবং বিশ্বব্যাংকে বাংলাদেশের সাবেক বিকল্প নির্বাহী পরিচালক জাকির আহমেদ খানকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছিল। আওয়ামী লীগের আমলে ২০০৯ সাল থেকে গত ৪ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে সরকারি চাকরিতে নানাভাবে বঞ্চনার শিকার এবং এ সময়ের মধ্যে অবসরে যাওয়া কর্মকর্তাদের আবেদন পর্যালোচনা করে সুপারিশ প্রণয়নের জন্য এ কমিটি গঠন করা হয়। জনপ্রশাসনে পদোন্নতিবঞ্চিত অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের আবেদন পর্যালোচনা কমিটি তাদের প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দিয়েছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য, নির্ধারিত সময়ে মারা যাওয়া কর্মকর্তাদের পক্ষে তাঁদের পরিবারের সদস্যদের করা ১৯টি আবেদনসহ মোট ১ হাজার ৫৪০টি আবেদন জমা পড়েছিল। এর মধ্যে ১৩টি আবেদন নানা কারণে কমিটির আওতার বাইরে ছিল। ফলে কমিটি বাকি ১ হাজার ৫২৭টি আবেদন যাচাই-বাছাই করে সুপারিশ তৈরি করেছে। আবেদনগুলো যাচাই-বাছাইয়ে কমিটি ২৮টি সভা করে পুঙ্খানুপুঙ্খ বিচার-বিশ্লেষণের মাধ্যমে সুপারিশ প্রণয়ন করেছে, যা প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, কমিটি সচিব পদে ১১৯ জন, গ্রেড-১ (সচিবের সমান বেতন গ্রেড) এ ৪১ জন, অতিরিক্ত সচিব পদে ৫২৮ জন, যুগ্ম সচিব পদে ৭২ জন ও উপসচিব পদে চারজনকে পদোন্নতির সুপারিশ করেছে। যেহেতু তাঁরা অবসরে গেছেন, সে জন্য তাঁদের ‘ভূতাপেক্ষ’ পদোন্নতি দেওয়া যেতে পারে বলে সুপারিশ করে কমিটি। ৭৬৪ কর্মকর্তার মধ্যে কমিটি ৯ জনকে চার ধাপ, ৩৪ জনকে তিন ধাপ, ১২৬ জনকে দুই ধাপ ও ৫৯৫ জনকে এক ধাপ পদোন্নতি দেওয়ার সুপারিশ করেছে। সরকারি একটি সূত্র আনুমানিক হিসাবের ভিত্তিতে জানিয়েছে, এসব কর্মকর্তাকে আর্থিক সুবিধা দেওয়ার জন্য ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকা লাগতে পারে।