কৃষি সংবাদ প্রতিনিধি জয়পুরহাট:
দ্রব্য মূল্যের এই বাজারে নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো অসহায় অবস্থায় পড়েছে। এ অবস্থা থেকে তাদের কিছুটা স্বস্তি দিতে জয়পুরহাটে চালু করা হয়েছে ‘সুখের বাজার’। এখানে ১০ ধরনের সবজি পাওয়া যাচ্ছে ১০০ টাকায়। বাজারের অর্ধেকেরও কম দামে সবজি কিনতে পেরে খুশি ক্রেতারাও। প্রতিদিন এ বাজারে ভিড় করছেন হাজারো মানুষ।
সুখের বাজার পরিচালনা করছেন জেলা সার্বজনীন কেন্দ্রীয় শিবমন্দির কমিটির সদস্যরা। শুক্রবার শহরের শিবমন্দির এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ক্রেতার উপচে পড়া ভিড়। টেবিলে সাজানো রয়েছে আলু, পেঁয়াজ, লাউ, কাঁচাকলাসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি। এসব বিক্রি করছেন শিবমন্দিরের লোকজন। জয়পুরহাট-হিলি সড়কের পাশে জেলা সার্বজনীন কেন্দ্রীয় শিবমন্দির (হরিবাসর মন্দির) এলাকায় একটি ব্যানারে লেখা, ‘সুখের বাজার’।
এ বাজারে ভর্তুকি মূল্যে সবজি বিক্রি হচ্ছে। দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রতিদিন এ বাজার চালুর পাশাপাশি ১০০ টাকার প্যাকেজও দেওয়া হচ্ছে। সব শ্রেণিপেশার মানুষ আগ্রহ নিয়ে সবজি কিনছেন। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষকে স্বস্তি দিতে এমন উদ্যোগ নিয়েছেন জেলা সার্বজনীন কেন্দ্রীয় শিবমন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাজকুমার খেতান।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বাজারে সবজির সরবরাহ বাড়লেও প্রতিকেজি ৬০ টাকার নিচে কোনোটি মিলছে না। শিবমন্দির কমিটির সদস্য রতন কুমার খাঁ বলেন, ১০০ টাকার প্যাকেজে নতুন আলু, বেগুন ও মুলা ৫০০ গ্রাম, শিম, ধনেপাতা ও বরবটি ২৫০ গ্রাম, কাঁচামরিচ ১০০ গ্রাম, বাঁধাকপি একটি, ফুলকপি একটি ও পালংশাক দেওয়া হচ্ছে এক আঁটি। বাজারের চেয়ে অনেক কম দামে ক্রেতারা এসব কিনতে পারছেন।
সবজি কিনতে আসা রিকশাচালক মুকুল মিয়ার ভাষ্য, যাত্রী নিয়ে যাওয়ার সময় মন্দির এলাকায় লোকজনের ভিড় দেখে এসেছেন। ১০০ টাকায় ১০ ধরনের সবজি দেওয়া হচ্ছে শুনে লাইনে দাঁড়িয়ে কিনেছেন। এতে সবাই খুশি। এর সঙ্গে যদি ডাল, পেঁয়াজ ও তেল বিক্রি করত, তাহলে আরও ভালো হতো।
বাজার স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলবে বলে জানান শিবমন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সুখের বাজারের উদ্যোক্তা রাজকুমার খেতান। তিনি বলেন, আগামী রমজান মাস পর্যন্ত চালানোর ইচ্ছা আছে। চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনে শহরের অন্যান্য স্থানেও সুখের বাজার চালু করা হবে। সবাই এখান থেকে সবজি কিনতে পারবেন।