নিজস্ব প্রতিবেদক:
স্বস্তি নেই কাঁচা বাজারে। সপ্তাহখানেক আগেও বাজারে ১৮০-২২০ টাকা কেজি দরে কাঁচা মরিচ কেনা যেত। গত সপ্তাহজুড়ে টানা বৃষ্টির মধ্যে বাড়তে থাকে মরিচের দাম। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) খুচরা বাজারে সর্বোচ্চ ৪০০ টাকা কেজি দরে মরিচ বিক্রি হয়েছে। অন্যদিকে ফার্মের মুরগিরর দাম ২০০ ছুয়েছে। এক পিছ ডিমের দাম বেড়ে হয়েছে ১৫ টাকা।
শুধু মরিচ আর ডিম নয়, বাজারে অন্যান্য সবজির দামও বেড়েছে। চলতি সপ্তাহে সবজির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। আজ রাজধানীর শেওড়াপাড়া, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট ও টাউনহল বাজারের খুচরা বিক্রেতারা এসব তথ্য জানান।
বর্তমানে বাজারে আমদানি করা ও দেশীয়-উভয় ধরনের কাঁচা মরিচই বিক্রি হচ্ছে। গরম, বন্যা বা অতিবৃষ্টির কারণে গত তিন-চার মাসে বাজারে বেশ কয়েকবার কাঁচা মরিচের দাম ওঠানামা করেছে। তবে বেশির ভাগ সময় ১৫০-২০০ টাকার মধ্যে মরিচ বিক্রি হয়েছে। গত সপ্তাহেও ১৮০-২২০ টাকা দরে মরিচ বিক্রি হয়েছে। এরপর ক্রমাগত দাম বাড়তে থাকে। সর্বশেষ গতকাল বাজারে কাঁচামরিচের দাম বেড়ে ৫০০ টাকায় পৌঁছায়।
বাজারে অন্যান্য সবজির দামও বেড়েছে। বেশির ভাগ সবজি ৮০-১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগে বরবটি কেনা যেত ৮০-১২০ টাকা কেজি দরে। আজ বাজারভেদে প্রতি কেজি বরবটি বিক্রি হয়েছে ১৪০-১৫০ টাকায়। বেগুনের দাম কেজিপ্রতি ৬০ টাকা বেড়ে ১৬০-১৮০ টাকা হয়েছে। টমেটো, পটোল, ঝিঙা, চিচিঙ্গা, ধুন্দুল, করলা, ঢ্যাঁড়স, লাউসহ প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে।
বাজারে ফার্মের মুরগির বাদামি ডিম এখনো চড়া। আজ বড় বাজারগুলোয় এক ডজন বাদামি ডিম বিক্রি হয়েছে ১৭০-১৭৫ টাকা দরে। পাড়া-মহল্লায় এই দাম ১৮০ টাকা বা তারও বেশি। সেই হিসাবে প্রতি পিছ ডিমের দাম হয় ১৫ টাকা। ফার্মের মুরগির সাদা ডিমের দামও একই রকম।
বাজারে ব্রয়লার মুরগির দামও ২০০ ছুঁয়েছে। আজ প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে ২০০ থেকে ২১০ টাকা দরে। সাত দিন আগেও এ দাম ১০-২০ টাকা কম ছিল। সোনালি মুরগি কেজিপ্রতি বিক্রি হয়েছে ২৬০-২৮০ টাকা দরে।
রাজধানীর হাতিরপুল বাজারে সবজি কিনতে যান একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী মুন্নি বেগম। তিনি দোকান থেকে সাত ধরনের সবজি কেনেন। মোট ব্যয় হয় ৯১০ টাকা। অথচ ১৫ দিন আগেও এসব সবজি ৫০০ টাকার মধ্যে কেনা যেত বলে জানান তিনি। কয়েক দিনের ব্যবধানে সবজি কিনতে গিয়ে ৪০০ টাকার মতো বেশি লাগছে। এটা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।