কৃষি সংবাদ প্রতিবেদক:
আসছে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনে জয়ীদের পশথ বাক্য পাঠ করানো নিয়ে জনমনে নানা কৌতুহল থাকায় এ নিয়ে কথা বলেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচিত নতুন সংসদ সদস্যদের (এমপি) রাষ্ট্রপতি মনোনীত কোনো ব্যক্তি শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। রাষ্ট্রপতির মনোনিত হিসেবে প্রধান বিচারপতির কাছে শপথ নিতে পারেন। এছাড়া নির্বাচিত হওয়ার তিনদিন পর প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে শপথ নিতে পারেন বলেও জানিয়েছেন উপদেষ্টা।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এ কথা জানান।
তিনি বলেন, এটা (নতুন এমপিরা কার কাছে শপথ নেবেন) সরকারের নীতিগত পর্যায়ের সিদ্ধান্ত, এ বিষয়ে এখন চূড়ান্ত কিছু বলতে পারবো না। তবে আমাদের সামনে দুটি অপশন আছে। রাষ্ট্রপতি মনোনীত কোনো ব্যক্তি শপথ পড়াতে পারবেন। উদাহরণ হিসেবে হয়তো আমাদের প্রধান বিচারপতি হতে পারেন। এটা যদি না হয়, তাহলে আমাদের যিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার আছেন, তিনিই শপথ পড়াবেন। সে ক্ষেত্রে একটা সমস্যা আছে, তিনদিন অপেক্ষা করতে হবে। আমরা অপেক্ষা করতে চাই না, আমরা নির্বাচন হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা করতে চাই।
অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করেন। বিগত সংসদের ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু এখন কারাগারে আছেন। তিনি এখনও পদত্যাগ করেননি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সংবিধানের ৭৪ (৬) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নতুন স্পিকার কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত আগের সংসদের স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার নিজ পদে বহাল আছেন বলে গণ্য হবেন। এ অবস্থায় শপথ পড়ানোর জন্য সংসদ সচিবালয়ের উপযুক্ত ব্যক্তি খোঁজার উদ্যোগ আইনি প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। গত ২৮ জানুয়ারি সংসদ সচিবালয় নবনির্বাচিত এমপিদের কে শপথ পাঠ করাবেন, সে বিষয়ে মতামত চেয়ে সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের কাছে নথি উত্থাপন করেছে। উপদেষ্টার সম্মতি পেলে এ-সংক্রান্ত সারসংক্ষেপ প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে পাঠানো হবে। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অনুমোদনের পর এ সারসংক্ষেপ রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে যাবে। রাষ্ট্রপতির সম্মতির পরিপ্রেক্ষিতে আদেশ জারি হবে।