সুমন ইসলাম
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উদ্যোগে এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সহযোগিতায় পবিত্র রমজান মাসে ঢাকাসহ দেশের ৮ টি বিভাগীয় শহরে ২২২ টন গরুর মাংসসহ ডিম, দুধবিক্রি করেছে। যার বাণিজ্যিক মূল্য প্রায় ৩০ কোটি ১৫ লাখ টাকা।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, মাংস, ডিম, দুধ ইত্যাদি সরবরাহ ও মূল্য স্থিতিশীল রাখার উদ্দেশ্যে ১লা রমজান থেকে ২৮শে রমজান পর্যন্ত ঢাকা শহরসহ দেশের ৮ টি শহরে ড্রেসড ব্রয়লার, ডিম, পাস্তুরিত দুধ ও গরুর মাংস এবং সারাদেশে ব্রয়লার, ডিম, পাস্তুরিত দুধ, গরুর মাংস ও খাসির মাংস সুলভ মূল্যে ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উপপরিচালক খামার মো. শরিফুল ইসলাম জানান, সূত্রে জানাগেছে,৮ বিভাগে ৪
৫৭৬৭৮৭জন পুরুষ এবং ৩১১৭২৬ জন মহিলা ক্রেতার মধ্যে ৩০ কোটি ১৪ লাখ ৭৯ হাজার টাকার পণ্য বিক্রি হয়েছে। ডিম ৫৯০১৬৩৬ টি, দুধ ৪০১৫১১ লিটার, ব্রয়লার ৫৭৮৮৬৮ কেজি, গরুর মাংস ২২১৯৫৬ কেজি বিক্রি হয়েছে।
বাংলাদেশ ডেইরি এন্ড ফ্যাটেনিং ফারমার্স এসোসিয়েশনের (বিডিএফএফএ) সভাপতি মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন বলেন, আমাদের সংগঠনের পক্ষ্য থেকে প্রথমবারের মতো রকারের এই কার্য্রমে যুক্ত ছিলাম। নতুন হিসেবে আমাদের বেশ কিছু সমস্যার মধ্যদিয়ে যেতে হয়েছে। তার পরেও নানা প্রতিকূলতার মধ্য থেকে আমরা কাজ করছি। তবে তিনি আশা করেন মাংসের মূল্য কমাতে তারা বছর জুড়ে গরুর মাংস বিক্রি কর্যক্রম পরিচালনা করতে চান। এক্ষেত্রে সরকারি সহায়তা প্রয়োজন বলেও তিনি মনে করেন।
বাংলাদেশ ডেইরি এন্ড ফ্যাটেনিং ফার্মার্স এসোসিয়েশনের (বিডিএফএফএ) সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমাদের সরকারি খামার থেকে যেসব গরু সরবরাহ করা হয়েছিল তার থেকে বেশ কিছু গরু ফেরত দেওয়া হয়েছে। কিছু অসুস্থও ছিল। তার পরেও আমরা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় গরুর মাংস সরবরাহ করেছি। তবে মাংস পরিবহণ সংক্রান্ত জটিলতা কিছুটা আমাদের বিব্রত করেছে। তবে এ সমস্যাগুলো আর আগামীতে থাকবে না।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, যে সকল স্থানে জুলাই বিপ্লবের সময় সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ বেশি ছিল সে সকল স্থানকে অগ্রাধিকার প্রদান করে ১লা রমজান থেকে ঢাকা শহরের ২৫টি স্থানে সুলভ মূল্যে ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় কেন্দ্র চালু ছিল।গত২৩শে মার্চ ২০২৫ হতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বাজেটের আওতায় প্রাণিজ আমিষ সরবরাহ নামে বিশেষ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ঢাকা শহরে অতিরিক্ত ২৩টি, নারায়ণগঞ্জ শহরে ৩টি এবং ৭টি বিভাগীয় দপ্তরে ১৪টি ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় কেন্দ্রের মাধ্যমে ড্রেসড ব্রয়লার, ডিম, পাস্তুরিত দুধ ও গরুর মাংস বিক্রয় কার্যক্রমের পরিধি বৃদ্ধি করা হয়েছিল।
এ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সারাদেশে ডিম (প্রতি ডজন) ১০৮ টাকার স্থলে ১০০ টাকা, ড্রেসড ব্রয়লার মাংস (প্রতি কেজি) ২৫০ টাকা, দুধ পাস্তুরিত (প্রতি লিটার) ৮০ টাকা, এবং গরুর মাংস (প্রতি কেজি) ৬৫০ টাকা মূল্যে বিক্রয় করা হয়েছিল।