1. admin@krishisangbad.com : admin :
  2. siddique149096@bsdi-bd.org : md abu bakar siddique rasim : md abu bakar siddique rasim
রংপুরে জলাবদ্ধতা মুক্ত হলো ৬৮০০ হেক্টর জমি - কৃষি সংবাদ
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে মন্ত্রণালয়ের সাথে আইসিসিসিএডির সমঝোতা স্মারক সই দেশীয় মাছ সংরক্ষণ এবং মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে কাজ করছে সরকার: মৎস্য প্রতিমন্ত্রী প্রান্তিক খামারিদের স্বার্থে কেন্দ্রীয় মুরগি খামারে উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ টুকুর ১১৭ টি ফিড মিলকে নোটিশ করেছে সরকার রাজধানীর সাত স্থানে ককটেল বিষ্ফোরণসহ বাসে আগুন নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার বন্ধের আহ্বান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর ভেজালমুক্ত পণ্য নিশ্চিত করতে ডিজিটাল সেবা বাড়ানোর তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর রফতানিমুখী কৃষিজ পণ্য উৎপাদনে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির তাগিদ টিসিবির জন্য ১০ হাজার টন মসুর ডাল কিনবে সরকার সৌদি আরব থেকে ১৯৪ কোটি টাকার ইউরিয়া আমদানির অনুমোদন

রংপুরে জলাবদ্ধতা মুক্ত হলো ৬৮০০ হেক্টর জমি

  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২৪
  • ১১১ বার পঠিত

কৃষি সংবাদ প্রতিনিধি রংপুর :

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ৬ হাজার ৮০০ হেক্টর জমি জলাবদ্ধতা মুক্ত হয়েছে। বিলুপ্ত নলেয়া খাল পুনঃখননের ফলে এ বিপুল পরিমাণ জমি জলাবন্ধতা থেকে মুক্ত হয়েছে। চার দশক পরে ৩ হাজার ৭০০ কৃষক প্রতিবছর ১০৯ কোটি টাকা মূল্যের অতিরিক্ত ৫৪ হাজার টন আমন ধান উৎপাদন করতে সক্ষম হচ্ছেন।

খালের পুনঃখননকৃত ১৯ দশমিক ২৬ কি.মি. অংশটি বৃষ্টি ও বন্যার পানি দ্রুত নিষ্কাশনের সুবিধা সৃষ্টি করে বিস্তীর্ণ ভূমি এলাকাকে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্ত করেছে। ফলে জলাবদ্ধতা মুক্ত জমিতে আমন ধানসহ তিনটি ফসল চাষের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এতে করে হাজার-হাজার মানুষ উপকৃত হচ্ছে।

এর আগে পীরগঞ্জ উপজেলার শানেরহাট, পাঁচগাছী ও মিঠিপুর ইউনিয়নের অন্তত ৩০টি গ্রামের কৃষকরা ছয়টি বিলের বৃষ্টির পানি ও বন্যার পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় সারাবছর তাদের জলাবদ্ধ জমিতে কোনো ধান চাষ করতে পারেননি।

স্থানীয় কৃষক এবং সাধারণ লোকেরা জানান, খালটি পুনঃখননের ফলে তাদের জলাবদ্ধ জমি চার দশক পর জলাবদ্ধতা মুক্ত হয়ে আমন ধান ও অন্যান্য ফসল চাষের উপযোগী হয়ে তাদের ভাগ্য পরিবর্তনে আশীর্বাদ বয়ে এনেছে।

বৃহত্তর রংপুর জেলার ৩৫টি উপজেলায় কৃষির উন্নয়ন ও আর্থ-সামাজিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে ভূ-পৃষ্ঠস্থ পানির সর্বোত্তম ব্যবহার সংরক্ষণ ও নিশ্চিত করার জন্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে এসবই সম্ভব হয়েছে।

বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) ২৮৮ দশমিক ১১ কোটি টাকায় পাঁচবছর (২০১৯-২০২৫) মেয়াদি ‘ভূ-উপরিস্থ পানির সর্বোত্তম ব্যবহার ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে মাধ্যমে বৃহত্তর রংপুর জেলায় সেচ সম্প্রসারণ (ইআইআর)’ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।

পীরগঞ্জ উপজেলার শানেরহাট ইউনিয়নের পাহাড়পুর গ্রামের কৃষক রেজাউল ইসলাম জানান, নলেয়া খাল পুনঃখননের ফলে বানাকুড়া, মালিবাড়ি ও ভেকি বিলের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নতি হয়েছে এবং শুধু তার ওই এলাকার ৪ হাজার একরের বেশি কৃষিজমি জলাবদ্ধতা থেকে মুক্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, চারদশক পর গতবছর থেকে আমার এক একর জমিতে আমি আমন ধান চাষ করছি। আমি শিগগিরই আমন ধান কাটার পর আলু ও তারপর ওই জমিতে বোরো ধান চাষ করব।

পার্শ্ববর্তী দামোদরপুর গ্রামের কৃষক জাহিদ জানান, প্রতিবছর ছয় থেকে নয় মাস পর্যন্ত সময় পুরো এলাকার কৃষিজমি জলাবদ্ধ থাকত এবং কৃষকরা গত ৪০ বছরে সেখানে কোনো ধান চাষ করতে পারেননি। বিলুপ্ত নলেয়া খাল পুনঃখননের ফলে খালে পানির প্রবাহ পুনরুজ্জীবিত হয়েছে। খালটি এখন জলাবদ্ধতা থেকে জমি মুক্ত করে দ্রুত বৃষ্টির পানি ঘাঘট নদীতে নিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, অনেক কৃষক সম্পূরক সেচের জন্য লো-লিফট পাম্প ব্যবহার করে পুনঃখনন করা খাল থেকে সংরক্ষিত ভূ-পৃষ্ঠের পানি তুলছেন এবং সাম্প্রতিক খরার মতো পরিস্থিতিতে আমন ধানের চারাও রোপণ করেছেন।

পাঁচগাছী ইউনিয়নের শাহাপুর গ্রামের কৃষক মেহেদুল ইসলাম জানান, তিনি এ বছর দ্বিতীয়বারের মতো বানাকুড়া বিল এলাকায় তার এক একর জমিতে আমন ধান চাষ করেছেন।

শানেরহাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মেসবাহুর রহমান জানান, বিলুপ্ত নলেয়া খাল পুনঃখননের ফলে পীরগঞ্জ উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের প্রায় ৬ হাজার ৮০০ হেক্টর জমি জলাবদ্ধতা থেকে মুক্ত হয়েছে এবং ৩০টি গ্রামের ৩ হাজার ৭৫০ জন কৃষকসহ ১৫ হাজার মানুষ উপকৃত হয়েছেন। স্থানীয় মানুষ পুনঃখনন করা খালের সংরক্ষিত পানি কৃষিকাজের জন্য সেচ এবং সম্পূরক সেচের জন্য ও হাঁস পালন, মাছ চাষ ও গৃহস্থালি কাজে ব্যবহার করছেন।

ইআইআর প্রকল্প পরিচালক এবং বিএমডিএ-এর রংপুর সার্কেলের সুপারিনটেন্ডিং ইঞ্জিনিয়ার মো. হাবিবুর রহমান খান জানান, ২৮৮ দশমিক ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটি থেকে প্রকল্প এলাকার হাজার-হাজার মানুষ বহুমাত্রিক সুবিধা পেতে শুরু করেছেন। বিলুপ্ত নলেয়া খাল পুনঃখননের পর শুধুমাত্র পীরগঞ্জ উপজেলার তিনটি ইউনিয়নেরই প্রায় ৩ হাজার ৭৫০ জন কৃষক চলতি মৌসুমে ১৯০ কোটি টাকা মূল্যের ৫৪ হাজার ৪০০ টন অতিরিক্ত আমন ধান উৎপাদন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৪ কৃষি সংবাদ
Theme Customized By Shakil IT Park